খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন

কদিন ধরেই নিজের ছেলেকে চিনতে পারছেনা আগম । ছেলেকে নয়, বলা ভাল ছেলেটার চাহনীটা । চাহনীটা তার খুবই পরিচিত কিন্তু ছেলেকে যেন তার সঙ্গে মেলাতে পারছেনা । চারদিক বড্ড বদলে যাচ্ছে ।

যাই হোক এসব ভেবে সময় নষ্ট করার মত অবসর আগমের নেই । অনেক সংগ্রাম করে তারা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । মন্ত্রী সভার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পদ সে পেয়েছে তার যোগ্যতাতেই, তার কাজের পুরস্কার হিসাবে । সারাদিন একের পর এক ইন্সপেকশনের রিপোর্ট দেখে ব্রিফিং করতে হয় তাকে । প্রচুর চাপ । তারা যা চেয়েছিল হয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে দায়িত্ব ও বেড়ে গেছে । এত কিছুর মধ্যে পার্সোনাল লাইফ নিয়ে এত ভাবনার সময় তার থাকেনা । অফিস থেকে বেড়িয়ে বিভিন্ন জমায়েতএ হাজিরা দিতে হয় নিয়ম করে, জমায়েত না থাকলে অবশ্য একটু অ্যায়েশ করতে যায় মেয়েবাজারে । তবে প্রাসাদোপম বাড়িটায় ফিরে কিছুটা অভ্যাসবশতঃই প্রিয়জনদের সাহচর্য্যে বেশ কিছুটা শান্তি পায় । বিশেষ করে তার ছোট ছেলেটা । আমনের মুখটা দেখলে সারাদিনের সব শ্রান্তি যেন জুড়িয়ে যায় । তাই আমনের বদলে যাওয়া দৃষ্টিটা একটু হলেও তার মনে হালকা একটা দাগ কাটছে । দাগটা কালকে অফিসের প্রেসারেই মিলিয়ে যাবে সেটা সে জানে, তবে আবার বাড়ি ফিরে বারো বছরের ছেলেটার চোখের দিকে তাকালেই পুরোনো ঘা এর ফ্যান্টম পেইনের মত দাগটা আবার চুলকোবে ।

কতজনের জীবনেই তো হঠাত করে সমস্যা তৈরী হয়, যেগুলো আগে থেকে কখনও কল্পনাও করা যায় না । দিন কয়েক আগে আগমের নীতিগত গুরুদেব যিনি, যাঁর কথা মত চলেই আজ তার এই উন্নতি তিনি মানসিক ভারসাম্য হারালেন । অত শক্ত ধাঁচের, কঠীন মনের মানুষ প্রায় হঠাত করেই বিনা নোটিশে একেবারে বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেলেন । নাঃ অনেক বয়স হয়ে গেল ।

আজকের দিনটা ছুটি আগমের । আজ আমনকে স্কুলে দিতে যাবে সে । মার্সিডিজটা আজ সে নিজেই ড্রাইভ করে নিয়ে যাবে । সারাটা রাস্তা আমন কোনো কথাই বলল না । আগম একবার ভাবল ছেলেকে জিজ্ঞাসা করবে কী হয়েছে । কিন্তু ওই ভীষণ চেনা বদলে যাওয়া চোখদুটো যেন তার মুখে কোনো কথা জোগাতে দিচ্ছিল না ।

বাড়ি ফিরে বিশাল বাগানটা ঘুরে দেখছিল আগম । লাল গোলাপ গুলো বেশ বড় বড় হয়েছে তো ! কোনো উযযাপনে সামিল হওয়ার মত রাজকীয় সৌন্দর্য্য তাদের । বেশ ফুরফুরে ভাবালু মেজাজটা বিষম খেয়ে প্রকৃতিস্থ হল সেলফোনের রিংটোনে । ফোনটা ধরল আগম ।

***************************************

দুধসাদা মার্সিডিজটা অগোছালো ভাবে পার্ক করা । বাড়ি থেকে পিস্তল চুরি করে এনে নিজের মাথা ফুটো করা দলবদ্ধ বাচ্চাগুলোর লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিক ওদিক । আমনের বডিটার চোখ দুটো খোলা, নিষ্পন্দ হলেও চাহনিটা পাল্টায়নি, আর ঠোঁটের কোণে উঁকি দিচ্ছে দুর্বোধ্য এক টুকরো হাসি ।

বহু জেহাদে কায়েম করা রাজত্বের উচ্চপদাসীন প্রাক্তন জঙ্গিদের ছেলেগুলোর লাল হয়ে যাওয়া ইউনিফর্ম পরা দেহগুলো ঘিরে রয়্যাল স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে আগম ও আরও অনেক জেহাদের মুখোশ পরা সুবিধাবাদী ।

আজ ১৬ই বা ২৪শে ডিসেম্বর । রক্ত মাখা মুখের ফ্রেমে চাহনীটা আগম ও তার সঙ্গী সাথীদের আর অচেনা লাগছেনা । খোকাবাবুরা ফিরে আসছে ……

প্রেম – ফ্রেম

তুমি ভেবেছিলে তুমি ল্যামিনেটেড, গ্লসী ব্ল্যাক ফাইবারে কেমিক্যাল
পেস্টেড ছাপ, অবিনশ্বর, ইচ্ছা করে হারিয়ে যাওয়ার নোটঙ্কিতেও
অবিচ্ছেদ্য, অপরিহার্য্য, নাগালের বাইরে কোনো প্রাসাদের ব্যালকনী
থেকে অন্যকারুর সম্পত্তিতে তৃপ্তির হাসি হাসবে আমার দিকে চেয়ে

কাঁচের ফ্রেমবন্দী না হওয়ার আত্মবিশ্বাসে খেলেছ, আমার নিউরণের
পাপোশে তুলে দিয়েছ তোমার প্রতিবারের স্বকীয়তায় কর্দমাক্ত জুতো
কনফিডেন্সে মাত্রা ভোলার স্পর্ধা তোমায় অচেনা করেছে, ভেবেছিলে
ল্যামিনেটেড ফ্রেমের রাসায়নিকে স্ট্যাটিক ছবি বদলে ফেলা যাবেনা

কিন্তু তুমি জানো না, প্রাসাদের ডেকোরেটেড দেওয়ালে ঝুলন্ত ছবিটাও
ঝাপসা হয় সময়ের ধূলোয়, সামর্থ্যহীন হাতে জ্বলন্ত অঙ্গারে এঁকে নেব
অন্য কোন সরল রেখার চিত্র, যা যন্ত্রণা বা খুশীতে থাকবে আমার সাথে
কারণ তোমার মনে রাখা বা ভোলাতে তোমার নষ্ট বাস্তব পাল্টে যায় না

বাঙালীর ঘরোয়া বড়দিন আর ভালোবাসার কেক

বড় দিন এসে গেল প্রায় । আদতে ভারতীয় উৎসব না হলেও বড়দিনের সাহেবী কায়দার বাঙালীত্বকরণ আমরা করে নিয়েছি অনেকদিন আগেই । সেই উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকেই মূলতঃ কলকাতা সারা বিশ্বের সঙ্গে একই ভাবে মেতে উঠত বড়দিনের রঙিন উৎসবে । ইদানিং বড়দিন পালন করার রেওয়াজ কলকাতা, মফস্বল ছাড়িয়ে পল্লী-গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে । বড়দিনের দিন চার্চে গিয়ে মোমবাতি জ্বালানো বা গোলাপফুল দেওয়া (পুষ্পাঞ্জলী স্টাইলে) এবং সান্তাক্লসের সঙ্গে সেলফি তোলা তো এখন বড়দিনের অপরিহার্য্য অংশ হয়ে উঠেছে । এছাড়াও পার্কস্ট্রীট ঘোরা, ক্রিসমাস ট্রী কিনে ঘরে সাজানো কিম্বা সান্তাক্লসের টুপি পরে রাস্তায় বেরোনো এগুলো না করলে লোকজন আজকাল আনকালচার্ড বলে প্যাঁক ও দেয় বটে ।

1513646_564495096977974_1653221344_n 1525509_564498370310980_1244577649_n 1526483_564495146977969_512331934_n 1531832_564498420310975_188318127_n 1545049_564498373644313_164100854_n

এই সব নতুন নতুন বিশ্বায়িত সংযোজন হালে হলেও একটা রেওয়াজ কিন্তু বহু কাল হল বাঙালীর শিকড়ে মিশে গেছে । কেক । এমনকি যখন বাঙালী জন্মদিনে আবশ্যিক খাদ্য ছিল পায়েস তখনকার দিনেও বড়দিনে ভোজনরসিক বাঙালীর কেক খাওয়া ছিল মাস্ট । এখন বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের নানা ফ্লেভারের কেক শপিংমলের প্যাকেটে চড়ে বা পাড়ার মোড়ের মনজিনিস – সুগার এন্ড স্পাইশ থেকে হোমডেলিভারী হয়ে বাঙালীর টেবিলে এসে পৌঁছলেও একটা সময়ে বাঙালীর রান্না ঘরে চালুনি, বেলুন, চাকী, তারজালি ছিল আবশ্যিক ইন্সট্রুমেন্টস, পাড়ার মোড়ে মোড়ে রুটির দোকানের আইডিয়া তখনো আসেনি । সেই সময়ের বাঙালীর শীতকালে পিঠে পার্বণের মতই অন্যতম একটা উৎসব ছিল কেকের উৎসব বড়দিন । আজকাল ভাপা পিঠে, গুড় পিঠে, পাটি সাপটা, পায়েস পুলি সব সম্ভ্রান্ত মিষ্টির দোকানে কিনতে পাওয়া যায় । অন্ততঃ কোনো বাচ্চাকে এই পিঠে নামের “কনফেক্সনরীর” উৎস জিজ্ঞাসা করলে সে ওই মিষ্টির দোকান ই দেখিয়ে দেবে কিন্তু একটা সময়ে আমরা যারা ছোট ছিলাম তারা চাল গুঁড়োনো থেকে পুর পাক করা — পিঠে তৈরীর কৌশলটা চোখের সামনে দেখতে দেখতেই শিখে গিয়েছিলাম বিভিন্ন রেসিপি ।

কথার মাঝে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া আমার একটা বদভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে । যাই হোক, কেকের কথা হচ্ছিল । বহুদিন থেকেই বড়দিনে কুক্কুটান্ড নিষিদ্ধ নয় এমন সব বাড়িতেই প্রকাশ্যে (এবং পূর্বোল্লিখিত বাড়িগুলির অনেকগুলিতেই গোপনে) কেক ভক্ষণ ছিল অবশ্য কর্তব্য । আর একটু এলিগ্যান্ট ফ্যামিলিতে যাদের প্রাত্যহিক কাজ বাদ দিয়ে কিছু অবসর মিলত তাঁরা বাড়িতেই তৈরী করতেন নানা স্বাদের হরেক রকম কেক । কেক কেনা যে হত না তা নয় । বিশেষ করে বেশ কিছু বেকারীর হাতে তৈরী কেক তো কিংবদন্তীর পর্যায়ে উঠে গেছিল । তবু বাড়িতে বানানো জিনিসের মজাই আলাদা ।

তো চলুন বড়দিনের আগে আগেই একটা কেক বানানোর রেসিপি দিয়ে দি আপনাদের জন্য ।

————————————————————————————————–

উপকরণঃ-

২০০ গ্রাম / ২ কাপ চিনি ( মিক্সিতে গুঁড়িয়ে পাউডার করে নেবেন )

১৫০ গ্রাম / ১.৫ কাপ বাটার ( গলিয়ে নেবেন , বাটার না থাকলে সাদা তেল নিতে পারেন )

২ টো ডিম ( মুরগীর ডিমই রেকম্যান্ডেড তবে বাড়ির কারুর অসুবিধা থাকলে হাঁসের ডিম ও দিতে পারেন )

২ চামচ ভ্যানীলা এসেন্স ( হাঁসের ডিমের ক্ষেত্রে ৫ চামচ দেবেন )

২ চামচ বেকিং সোডা

২০০ গ্রাম / ২ কাপ ময়দা

১৫০ মিলি লিটার / ১.৫ কাপ দুধ

চকলেটের গুঁড়ো ( কাছাকাছি কোথাও না পেলে ডেয়ারিমিল্ক বা বোর্ণভাইল কিনে গুঁড়ো করে নিতে পারেন মিক্সি তে )

ড্রাই ফ্রুটস ( কাজু, কিসমিস, আমন্ড, মোরোব্বা, মিষ্টিবাদাম, বীজ ছাড়ানো শুকনো খেজুর বা চুহারা ইত্যাদি )

———————————————————————————————–

মিশ্রণ তৈরীর পদ্ধতীঃ-

প্রথমে একটা পাত্রে ময়দা আর বেকিং সোডাটা নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন । এবার অন্য একটা বাটিতে গলানো বাটার বা সাদা তেল নিয়ে সেটায় চিনির গুঁড়োটা ঢেলে দিন । ভালো করে ঘাঁটতে থাকুন । ভালভাবে মিশে যাওয়ার পর ডিম গুলো ফাটিয়ে দিয়ে দিন । ভালভাবে মেশাতে থাকুন । এর পর ভ্যানীলা এসেন্সটা দিয়ে দিন এবং চকোলেটের গুঁড়োটা মিশিয়ে ভালো করে ঘাঁটতে থাকুন । প্রায় মিনিট দশেক ঘাঁটার পর যখন ভাল ভাবে মিশে যাবে, তখন ওতে সোডা মেশানো ময়দাটা দিয়ে দিন এবং ভাল করে মেশাতে থাকুন । ইলেকট্রিক হ্যান্ড মিক্সার থাকলে ভালো তবে বেশী সময় নিয়ে একটু পরিশ্রম হলেও ম্যানুয়ালী চামচ দিয়ে মেশানোর মত ভাল অন্য কিছুতে হয় না । মিশ্রণটায় কোনো ডেলা থাকলে চলবেনা । প্রয়োজন মত দুধটা মিশিয়ে নিতে হবে ।

————————————————————————————————-

বেকিং এর পদ্ধতিঃ-

মাইক্রোওভেনের ক্ষেত্রে —- মিশ্রণটাকে ফ্ল্যাট বেস স্কয়ার বা ফ্ল্যাট বেস ওভাল বা ফ্ল্যাট বেস রাউন্ড পাত্রে (মাইক্রোওয়েভেবল) বেক করতে হবে । মিশ্রণটা ঢালার আগে পাত্রের গায়ে বাটার মাখিয়ে পিচ্ছিল করে নিন । এবার ওতে সামান্য ময়দার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন  । আর পরে মিশ্রণটা ঢালুন । মিশ্রণটা পাত্রের আর্ধেক উচ্চতা পর্যন্ত ঢালবেন কারণ বেক হওয়ার সময় কিন্তু ওটা আয়তনে বেড়ে যাবে । এর পর ওটাকে মিক্স মোডে দিয়ে ১৫ মিনিট মাইক্রোওয়েভ টাইম সেট করে দিন । বেকিং কনভেকশন বা গ্রীল মোডেই ভাল হয় । তবে তাতে দেরী হয়। তাই মিক্স মোডে করলে মোটের ওপর খারাপ হয় না আর তাড়াতাড়ি হয়েও যায় ।

মাইক্রোওভেন বা কেক ওভেন না থাকলে — মিশ্রণটাকে একটা সিলভারের বাটিতে বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের শেপিং কেসে করে বেক করতে হবে । মিশ্রণটা ঢালার আগে পাত্রের গায়ে বাটার মাখিয়ে পিচ্ছিল করে নিন । এবার ওতে সামান্য ময়দার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন  । আর পরে মিশ্রণটা ঢালুন । এবারে একটা কুকারের মধ্যে একটা স্টিলের ডিশ বসিয়ে তার উপরে মিশ্রণের পাত্রটা রেখে কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে ওভেনে মাঝারি ফ্লেমে বসিয়ে দিন । মিনিট চল্লিশ লাগবে বেক হতে । কুকারের ভিতরে যেন আবার জল দেবেন না ।

1535595_10201198457912667_675048339_n 12177_4132355876355_1725569706_n 281709_4132350916231_863477890_n 383598_4132351716251_1044286794_n 393114_4132351596248_850919160_n 409422_4132352676275_629233604_n 1525397_10201198458192674_1060476260_n 1528523_10201283713123994_1927139259_n

—————————————————————————————————-

ডেকরেশন এর জন্যঃ-

ডেকরেশনের ক্ষেত্রে নিজের ভাবনার রঙে রাঙ্গিয়ে নিতে পারেন কেকটা কিম্বা নিজের ভালবাসার মানুষদের নাম লিখে সাজাতে পারেন । ডালিমের কোয়া, চেরী বা কিসমিস ওপরে দিয়ে সাজাতে পারেন । কেক ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে ক্রীম অপরিহার্য্য । ক্রীম দুভাবে বানাতে পারেন ।

প্রথম উপায় —  দুধের সর জমা জমা করে সেটাকে একটা পাত্রে নিয়ে পাত্রটা বরফের উপর বসিয়ে ঘাঁটতে থাকুন । কিছুক্ষন পরে যখন ওতে আর কোনো ডেলা ডেলা ভাব থাকবে না, তখন ওতে কিছুটা পাউডারড সুগার আর কয়েক চামচ ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে ঘাঁটুন আরও কিছুক্ষণ (লক্ষ্য রাখবেন তেলতেলে মাখন যেন উপরে ভেসে উঠতে না থাকে) । ব্যাস কেক ডেকরেশনের জন্য আপনার ক্রীম তৈরী । বিভিন্ন ফ্লেভারের জন্য ওতে চকলেট কিম্বা আম ইত্যাদি মেশাতে পারেন ঘাঁটানোর সময় । রঙিন ক্রিম বানানোর জন্য কামধেনু বা অন্যান্য কোম্পানীর ভোজ্য রঙ ব্যবহার করতে পারেন ।

দ্বিতীয় উপায় — একটা পাত্রে আধ কাপ ঠান্ডা জল নিন । এতে দশ গ্রাম জিলাটিন মেশান । ৫ মিনিট রেখে দিন যাতে সমস্ত পাউডার টা জলে মিশে যায় । এর পর হাল্কা আঁচে বসান আর যতক্ষণ না পুরো জিলাটিন টা জলে গুলে না যায় নাড়াতে থাকুন । এর পর একটা পাত্রে ২ কাপ দুধ নিয়ে (গরুর বা মোষের দুধ হলে ভাল হয়, কেনা দুধ সাধারণতঃ ফ্যাট ফ্রী ছাড়া পাওয়া যায় না আজকাল) ওতে মিশ্রণটা ঢেলে দিন ও নাড়াতে থাকুন যাতে দুধ ও জিলাটিনের মিশ্রণটা ভালোভাবে মিশে যায় । এরপর এতে ১ চামচ ভ্যানিলা এসেন্স আর আধ কাপ চিনির পাউডার দিন । ভালভাবে মিশিয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন । ২০ মিনিট পর ফ্রিজ থেকে বের করুন আর কিছুটা নাড়াচাড়া করে আবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন । ২০ মিনিট পরে আবার বের করে ভালভাবে মিশিয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন । তিন চার বার এই প্রসেসটা রিপিট করার পর ফাইনালি এটা বের করুন আর মিক্সি বা হ্যান্ডমিক্সার দিয়ে ভাল করে প্রায় মিনিট ১০ ধরে এটাকে নাড়াচাড়া করুন । ব্যাস ক্রিম রেডি । জিলাটিন কাছাকাছি দোকানে না পেলে এখান থেকে হোমডেলিভারীতে আনিয়ে নিতে পারেন — http://www.ebay.in/itm/Gelatine-/321601840633?pt=LH_DefaultDomain_203&hash=item4ae0f6a5f9

দোকানের সস্তা কেক বা ক্রিম রোলে থাকা ক্রীমের রহস্য ———- দালদা গলিয়ে সামান্য ভোজ্য রঙ আর চিনির পাউডার মিশিয়ে ঘাঁটতে থাকুন । সবচেয়ে সস্তা আর তাড়াতাড়ি তৈরী ক্রিম পেয়ে যাবেন । দোকানের কেক বা রোলে এই ক্রীমই প্রতিদিন খাচ্ছেন আপনি ।

তাহলে বড়দিন মনের মত করে উপভোগ করুন । কেমন লাগলো কেক বলবেন কিন্তু । আমি ফিরে আসছি খুব শিগগিরই পিঠেপুলির অজানা সব রেসিপি নিয়ে ।

This slideshow requires JavaScript.

রয়াল গোল্ড (Home Brewed Wine)

রয়াল গোল্ড প্রস্তুত প্রণালী

প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি

১) সামান্য ভাজা চিনি ২০০ গ্রাম
২) কালো আঙুর ২০০ গ্রাম
৩) গন্ধরাজ লেবু (কাঁচা) ১ টি বড়
৪) কালচে মধু (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৫) দারুচিনি (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৬) লবঙ্গ (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৭) মাপনী ফ্লাস্ক (নূন্যতম ৫০ মিঃলিঃ সাইজের)
৮) সবুজ আপেল (যত কাঁচা হয়, ততই ভাল) ৪ টি মাঝারী সাইজের
৯) ইস্ট (ছোট একটা ২০টাকার কৌটো)
১০) স্টেরিলাইজড সাইফন পাইপ
১১) দুটি ক্লনিকাল ফ্লাস্ক ৫০০ মিঃলিঃ সাইজের
১২) ব্রিদার ও কর্ক

প্রস্তুতপ্রণালীঃ-
প্রথমে ফ্লাস্ক, পাইপ, ব্রিদার এগুলিকে গরম জলে ধুয়ে স্টেরিলাইজ করে নিন, ইস্ট ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি ওয়াইনকে টকিয়ে দেবে এবং বিষাক্ত করে দিতে পারে । এবার আপেল আঙুর এগুলিকে ভাল করে ধুয়ে নিন । আপেল টুকরো টুকরো করে নিন । মিক্সি বা অন্যকোনো ভাবে এগুলিকে গ্রাইন্ড করে নিন । গ্রাইন্ড হয়ে যাওয়ার পর মার্কিন বা অন্যকোনো পরিস্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিন । ছেঁকে নেওয়া ফলের রসকে এবার একটা পরিস্কার পাত্রে (কোনো ভাবেই তামা, পিতল, কাঁসা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র চলবেনা) ১ ঘন্টা রেখে দিন কাপড় ঢাকা দিয়ে ।
১ ঘন্টা পর ঐ রসের মধ্যে গন্ধরাজ লেবুর রস মিশিয়ে ভাল করে ঘেঁটে দিন । আবার কাপড় ঢাকা দিন এবং ২ ঘন্টা রেখে দিন ।
১ ঘন্টা ৩০ মিনিট পরে একটা কাঁচের গ্লাসে অর্ধেক ঈষদুষ্ণ গরম জল নিন (৫০ মিঃলিঃ পরিমাণ), গরম যেন খুব বেশী না হয়, হাত দিলে ছেঁকা পড়ার মত গরম যেন না হয় । ঐ জলে সামান্য চিনি (চা চামচ পরিমাণ) গুলে নিন, এবার ওতে এক টেবিল চামচ ইস্ট গুলে দিন । এবার গ্লাসটাকে রেখে দেখতে থাকুন । প্রথমে ইস্ট গুলো তলায় থিতিয়ে পড়বে, তার পর একটা একটা করে ভেসে উঠতে থাকবে, এবং জলে ফেনা কাটতে শুরু করবে । ফেনা তৈরী হওয়া মানে আপনার ইস্ট মিশ্রন রেডী ।
এতক্ষনে ২ ঘন্টা কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার কথা । ফলের রসের ঢাকনা খুলুন, ওতে ২০০ গ্রাম চিনি মিশিয়ে দিন, এবার ২০০ মিঃলিঃ স্টেরিলাইজড জল মেশান । ভালো করে ঘেঁটে দিন ।
ফলের জুসের মিশ্রন থেকে ৪০০ মিঃলিঃ রস নিয়ে ক্লনিকাল ফ্লাস্কে ঢালুন । বাকি জুস টা আপনি গ্লাসে করে খেয়ে নিতে পারেন, সরবত হিসাবে মন্দ লাগবে না ।
এবার ফ্লাস্কে ইস্ট মিশ্রণটা ঢেলে দিন । ফ্লাস্কের মুখে কাপড় চাপা দিয়ে ১ ঘন্টা রেখে দিন ।
১ ঘন্টা পর এয়ারলক ব্রিদার যুক্ত কর্কটা ভালো করে ফ্লাস্কের মুখে এঁটে দিন । এবার ফ্লাস্কটাকে কোনো ছায়া আছে এমন জায়গায় (মোটামুটি ঠান্ডা জায়গায়) ১ মাস রেখে দিন । এক মাসের মধ্যে ওটাকে কোনো রকম নাড়াচাড়া করবেন না ।

একমাস পরে সাবধানে কর্ক খুলুন, নাড়াচাড়া যতদূর সম্ভব কম করে । এবার সাইফন পাইপটা দিয়ে মিশ্রণটাকে আস্তে আস্তে দ্বিতীয় ক্লনিকাল ফ্লাস্কে ঢেলে নিন (ব্যবহারের আগে দ্বিতীয় ক্লনিকাল ফ্লাস্ক ও সাইফনটাকে স্টেরিলাইজড করে নিতে ভুলবেন না) … এমন ভাবে ঢালবেন যাতে প্রথম ক্লনিকাল ফ্লাস্কের নীচে থিতিয়ে পড়া স্লাগ (ইস্ট, ফলের সুক্ষ ফাইবার ইত্যাদির থকথকে স্তর) দ্বিতীয় ফ্লাস্কে না আসে । সম্পূর্ণ মিশ্রণ টা দ্বিতীয় ফ্লাস্কে আসার পর তাতে কয়েকটা লবঙ্গ আর দারুচিনির টুকরো দিয়ে এয়ারলক ব্রিদার সহ কর্কটা এঁটে আগের মত করে রেখে দিন ২ মাস । এই ২ মাসের মধ্যে প্রথম ক্লনিকাল ফ্লাস্কটাকে ধুয়ে পরিস্কার করে রেখে দিন ।

২ মাস পর মিশ্রণটাকে ছেঁকে নিন, ফিল্টার কাগজ দিয়ে ছাঁকতে পারলে ভালো হয় । এবার ওতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ভালো করে কর্ক (ব্রিদার ছাড়া, মানে কমপ্লিট এয়ারলক কর্ক) এঁটে রেখে দিন মিনিমাম ৬ মাস ।

জিনিসটা তৈরী হয়েছে কিনা সেটা বোঝার উপায় হল এর রঙ, প্রথম প্রথম এর রঙ থাকবে খড় ধোওয়া জলের মত ঘোলাটে টাইপের । যত ম্যাচিওর হবে তত এর রঙ পরিবর্তন হয়ে স্বচ্ছ সোনালী হতে থাকবে ।

10151335_10201830087423010_874172316751756192_n 10255372_10201835137669263_2975951136284147170_n

টিপসঃ – আমি কাঁচের মাপনি ফ্লাস্কের বদলে প্রথম দিকে (যখন আমার মাপনি ফ্লাক্স ছিলনা) বড় সাইজের সার্জিকাল ইঞ্জেকশন ব্যবহার করতাম । সেটায় ৫০ মিঃলিঃ পর্যন্ত দাগ দেওয়া থাকে । হিসাব করার সুবিধা যদি আপনি এখানে যা মেজারমেন্ট দেওয়া আছে তার অর্ধেক হিসাবে বানিয়ে টেস্ট করতে চান ।

একটা পুরোনো লেখা —- প্রথম চাকরী পাওয়ার পর লিখেছিলাম এটা

দিন পনের আগে আমাদের কলেজ থেকে আমাদের জনা ৪০ ছেলে কে একটা কম্পানীর ক্যাম্পাসিংএ পাঠিয়েছিল। ছোটখাট একটা কম্পানী, নাম টেক মাহিন্দ্রা । তো সেখানে গিয়ে আমি ফুল বাওয়ালী করলাম, ইন্টারভিউতে যা নয় তাই ত্যাঁদরামো করলাম, তার পর ও কেন জানিনা কম্পানীটা ৪০ জনের মধ্যে শুধু আমাকেই সিলেক্ট করে গেল । আমাদের কলেজের নিয়ম অনুযায়ী একটা কম্পানীতে পেয়ে গেলে আর পরের ক্যাম্পাসিংএ বসতে দেয় না । তাই এই চাকরীটাই মনে হয় করতে হবে । তো এরা প্রথম পোস্টিং দেবে হায়দ্রাবাদে । জুলাই আগস্ট নাগাদ জয়েনিং ।

যাই হোক যেটা নিয়ে এই প্রসঙ্গের অবতারণা, জয়েন করলে এটা আমার প্রথম বার হায়দ্রাবাদে যাওয়া হবেনা । এর আগেও বার চারেক গিয়েছি হায়দ্রাবাদে । ওখানকার বাঞ্জারা হিলস স্টুডিওতে একটা কন্নড় আর একটা তেলেগু রিয়েলিটি শো এর অ্যাসিস্টান্ট ডায়রেক্টর (স্পেশাল এফেক্টস) হিসাবে কাজ করতাম ।

তো হায়দ্রাবাদে গেলে মূল সমস্যা হচ্ছে খাবারদাবার । সুটিং ইউনিটের যে খাবারের ব্যবস্থা থাকত সেসব মুখে তোলার মত ছিল না। কি সব বদখত ডাল, তরকারী – যেমন উৎকট তাদের গন্ধ, তেমনি অখাদ্য তার স্বাদ । আর চারদিকে কোথাও একটা ভদ্র বাঙ্গালীর খাওয়ার মত দোকান নেই । সারাদিন অসম্ভব ক্ষিদে পেত, আর শুটিংএর মাঝে যে সামান্য সময় লাঞ্চ ব্রেক দিতো তাতে পাহাড় থেকে নেমে খোঁজাখুঁজি করে দোকান বের করে খাওয়াদাওয়া করা সম্ভব হত না । তা প্রথম কয়েকদিন তাই শুটিং ইউনিটের লাঞ্চ থেকে গুড্ডির (ডিমের) তরকারী থেকে গোটা দুয়েক ডিম তুলে নিয়ে সেটাকে বেশ করে জল দিয়ে ধুয়ে নিয়ে সেই ডিম আর সামান্য নুন দিয়ে ভাত মেখে খেতাম । সন্ধ্যের টিফিন টা সারতাম পাহাড়ের ওপরেই ছোট ছোট গুমটিতে বিক্রি হওয়া উকমা আর বিভিন্ন ফলের রস দিয়ে, সাপোটা (সবেদা), খরমুশা (ফুটির মত একরকম ফল) এগুলোর রস আমার ভীষণ প্রিয় ছিল । কোনো কোনো দিন শখ করে ভেলপুরী, চাটমশালা ও একটু আধটু খাওয়া হয়ে যেত । যে থ্রীস্টার হোটেলটায় আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল সেটা ছিল স্টুডিও থেকে বেশ দূরে, পাহাড়ের নীচে, সমতলে । যদিও ফেরার জন্য গাড়ী ছিল তবুও শুটিং সেরে ফিরতে ফিরতে প্রায় ১০টা – ১১টা বেজে যেত । সেই সময় আর হোটেল খোঁজার উপায় বা এনার্জী কোনোটাই থাকতো না । তাই ওখানের বিখ্যাত সুইট ব্রেড উইথ অ্যাডেড ফ্রুট দিয়েই ডিনার টা সারতে হত । সে এক নিরস খাওয়া দাওয়া । এরকমই চলছিল, তো একদিন স্টুডিওতে ডায়রেক্টর সূরিয়াকীরণ জী আমার হালতের কথা জানতে পেরে আমাকে বললেন “আরে বোকা, তোমার হোটেলের পেছনেই তো ভালো একটা রেস্টুরেন্ট আছে … সেটা প্রায় সারা রাত খোলা থাকে। সেখানে যাওনি কেন ?” কী করে তাঁকে বোঝাব যে ভাষা কত বড় সমস্যা হতে পারে ! যাই হোক সেদিনই রাত্রে চলে গেলুম সেই রেস্টুরেন্টে , হোটেলের পেছনদিকটায় বলে আমার এতদিন চোখেই পড়েনি । একটা থালী অর্ডার করলাম, মনে মনে ভাবলাম দেখা যাক কী অখাদ্য নিয়ে আসে… কিন্তু যেটা এল সেটা দেখে আমার অবাক হওয়ার পালা । খুবই তৃপ্তি করে পেট ভরে বহুদিন পরে ঠিক-ঠাক খেয়েছিলাম । সেই প্রথম থালীটার একটা ছবি তুলে রেখেছিলাম, বহুদিন পরে সেটার কথা এই হায়দ্রাবাদ প্রসঙ্গে মনে পড়ল, আপনাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতাটা আর সেইসঙ্গে ছবিটা শেয়ার করলাম । আবার তো যেতে হবে হায়দ্রাবাদ, এবার পাকাপাকি ভাবে …

পুনশ্চঃ – হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানীর খুব নাম শুনি, একদিন শখ করে থালীর বদলে সেটার অর্ডার দিয়েছিলুম, এতও অখাদ্য জিনিস বাপের জন্মে খাইনি …

1604932_10201829494208180_8419594962948903046_n 10156098_10201829494168179_3537554675579064120_n

৬ই পৌষ ১৪২১ – সনধ্যা ৮ টা ৩৭

অত্যন্ত অসুস্থ থাকলেও দেহের যন্ত্রণা মনের যন্ত্রণাকে কাবু করে আমার সমস্ত সত্ত্বার দখল নিতে পারছেনা । এটা খুবই খারাপ একটা অবস্থা । যখন যন্ত্রণাকে লেখা বা সৃষ্টির মাধ্যমে ট্রমাটাইজ করে বোকা বানানোর শক্তিটুকুও থাকেনা । মনে কেন একটাও সুস্থ স্বাভাবিক ছবি আসছেনা ? পোট্রেট কিম্বা অয়েল ল্যান্ডস্কেপ-লাইভ স্টাডির মত ।

ভাবনাগুলো সাইক্লোট্রনের ভিতরে পেইন্টবলের মত এধারে ওধারে অ্যাবস্ট্রাক্ট ছবি এঁকে চলেছে জানিনা কার নির্দেশ বা খেয়ালে ।

আত্মকথন – ৪

হ্যাঁ ভুলটা আমি ই করেছিলাম । নিছক ভুল নয়, আপাতঃদৃষ্টিতে অন্যায় । তবু ভালবাসাকে তো আর চেপে রাখতে পারিনা দমবন্ধকরা অনুতাপে আর প্রতি মুহুর্তে তোমার অজান্তে শেয়ার করা তোমার প্রতিটি কষ্টের ভারে । সর্ব সমক্ষে ক্ষমা চাইছি তুমি ক্ষমা করবে না জেনেও ।

জানি তুমি এগিয়ে গেছ অনেকটা পথ, আমার চিরকালীন চাওয়া পূর্ণ করেছ নিজের অজান্তেই, সাহসী হয়েছ, হয়েছ আত্মবিশ্বাসে গর্বিত । এখন পিছন ফিরে চাইতে তোমার লজ্জা করে । করাটাই স্বাভাবিক, হিসেব না করেই যে গোলাপ রাখার জন্য তুলে নিয়েছিলে বেঢপ মাটির ভাঁড় । কিন্তু তোমার সত্যিকারের বন্ধুত্বেরা আস্তে আস্তে শিখিয়েছে, তোমায় পরিণত করেছে । এখন তুমি জান, গোলাপের জায়গা মাটির ভাঁড় নয় । সুদৃশ্য আর্টিফেক্ট যুক্ত ফুলদানী ।

আমি সত্যি যে কিছু বুঝিনা, জান তুমি । তাই আমার সঙ্গে তর্ক করা নিরর্থক জেনে এড়িয়ে যাও প্রতিটি দৃশ্য আর অনুভূতির ফ্ল্যাশব্যাক । তবু দীর্ঘ পথে হাঁটতে হাঁটতে যদি কখনও মনে হয়, “ট্রেণ টা লোকাল হলেও দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে ছিল সঠিক টিকিট” । জানি মনে হবেনা । কারণ কর্পোরেট পৃথিবীতে ক্ষমাশীল অপরাধীর কোনো ক্ষমা নেই । কারণ ভুলে যাওয়া খুব সহজ, শুধু পাশে কিছু মানুষ থাকা দরকার দুঃসময়ের সাথি হয়ে । যাদের সব বারণ সব সময়েই মেনে চলা হয়, যাঁদের বিশ্বাসঘাতকতার অজুহাতে বিরক্ত করা স্মৃতিগুলোকে বিস্মৃতির কবরে পাঠানো যায় ।

জানি মনে হবেনা কারণ “প্রথম সম্পর্ক” শেষের অফিশিয়াল ঘোষণার মধ্যে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের ঝেড়ে বেছে চিনে নেওয়া পছন্দসই একটা অবয়বের আকাঙ্খা । যে মানুষটা আর যাই হোক উন্নাসিক, দাম্ভিক বা চাকরীহীন হবেনা । অ্যান্টিক কিউরিও শপের বহুমূল্য ফুলদানিতে সাজানো গোলাপ তার কর্পোরেট উপস্থিতিতে ভ্যালু অ্যাড করবে ইন্টিরিয়র ডেকরেশনে ।

তবু অঘটনেরা ঘটে বলেই পৃথিবী আজও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায় ।

তাই যদি কখনও মনে পড়ে বহুপ্রতীক্ষিত বিকেলের একটুখানি দেখার আনন্দ, বন্ধুহীন জীবনের সব কথা কারুর সঙ্গে ভাগ করার আনন্দ, ঘন্টার পর ঘন্টা কলেজের বাইরে শুধু তোমার জন্য কাউকে অপেক্ষা করতে দেখার আনন্দ, প্রতিটি বিপদে একদম নিজের করে কাউকে পাশে পাওয়ার আনন্দ, নিয়মের খাঁচা থেকে একছুট্টে বেরিয়ে এসে শহরটাকে চুপি চুপি ঘুরে দেখার আনন্দ, প্রথম ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ করার আনন্দ, সরস্বতী পূজো, দূর্গাপূজো কিম্বা বড়দিনে কারুর বহু যত্নে বানানো কেকের তীক্ত স্বাদকে অস্বীকার করে ভালবাসার মিষ্টি স্বাদে ভরে দেওয়ার আনন্দ ।

সেই অদ্ভুত ভালোলাগা ঘেরা কষ্টের মুহুর্তের চিন্তায়, তাই তোমার জন্য রেখে গেলাম সেই পৃথিবীর চাবি । যদিও কোনো দাবী নেই তোমার কাছে ।

তুমি ভাল থেক ।

তোমার প্রতিটি পোস্ট, প্রতিটি কথা আমায় তিলে তিলে নিষ্প্রাণ করছে । তাই সম্পূর্ণ মনোরোগী হয়ে যাওয়ার আগেই তোমার দেখানো পথ ধরে আমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে সময়টাকে ।

একটা ফরমায়েসি লেখা

সেকেন্দ্রাবাদে নেমে গাড়ির খোঁজ করতেই হাল খারাপ হয়ে গেল কল্লোলিনীর । কী অদ্ভুত এদের ভাষা । হিন্দি – টিন্দি হলে সে চালিয়ে নিত , কিন্তু এ কী !!!

মনে করবেনা করবেনা করেও আজ মনে পড়ে গেল সিন্ধুর কথা । ও বলেছিল “তুমি যে কোম্পানি তে চাকরি করবে , আমিও ম্যানেজ করে সেই কোম্পানিতে চাকরি যোগার করে নেব । দেখো । তাহলে দুজনে একই জায়গায় থাকতে পারব” ।

সেসব ওদের সোনালী দিনের কথা । খুব ভালবাসত তাকে ছেলেটা । আর সে ? সে ও কী ভালবাসত ? কে জানে । চার চারটে বছরের রিলেশনেও এটা ওর কাছে স্পষ্ট হয়নি যে আদৌ ওর মনে সিন্ধুর জন্য কোনো ভালবাসা ছিল কিনা । প্রথম কৌশোরের সেই উন্মাদনা, ওর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিন্ধুকে প্রপোজ করা কি সত্যি ছিল না শুধুই হরমোনের কারসাজি ছিল, সেই নিয়েও যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে ওর মনে । এটা সত্যি যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মনের কোন গোপন কোণে সিন্ধুর জন্য একটা চাপা বিরক্তি বা ঘৃণা তৈরি হচ্ছিল, তবে অজান্তে নয়, অভ্যাসের আড়ালে । বুঝতে পারত কি সিন্ধু ? সেই জন্যই কি ? তার জন্য প্রায় সব কিছু করতে প্রস্তুত ছেলেটা, তাকে সব সময় খুশী রাখার চেষ্টা করা, তার আরামের জন্য নিজেকে উজার করে দেওয়া ছেলেটা একদিন হঠাত মাত্র একদিনের নোটিশে সম্পর্কটা ভেঙ্গে দিল । যে সম্পর্কটা বার বার কল্লোলিনী নিজে ভাঙ্গতে গেছে আর প্রাণপণের চেষ্টায় জোড়াতালি দিয়ে ধরে রেখেছে সিন্ধু । তখন অবশ্য খুব কেঁদেছিল কল্লোলিনী । এখন বোঝে সেটা আসলে অধিকার হারানোর কষ্ট । ভালবাসা হয়ত নয় ।

উল্টোপাল্টা আকাশ পাতাল ভাবার মাঝেই একটা গাড়ি পেয়ে গেল কল্লোলীনি । এখানে সবই অদ্ভুত । অটোতেও মিটার লাগান । ভাড়া বেশ বেশী । প্রথম প্রথম ভাবছিল চাকরিটা বেশ ভাল মাইনের । কিন্তু এখন দেখছে এই রেটে প্রতিদিন ভাড়া গুণতে হলে মাসের শেষে তো জমানোর মত কিছুই থাকবে না ।

অরূপের সঙ্গে তার সম্পর্কটা হঠাত করেই তৈরি হয়েছিল । কলেজের বন্ধু । বিভিন্ন টাস্ক সল্ভ করতে হেল্প করত ওকে । কিভাবে যেন কল্লোলিনীর খুব কাছের হয়ে উঠেছিল অরূপ । সব সময় ওর সঙ্গেই গল্প আড্ডা এস এম এস । সিন্ধুর বোঝার ক্ষমতা ছিল সাধারণ মানুষের থেকে বেশ কিছুটা বেশী । সে জানতে পেরেছিল । কিভাবে সেটা জানেনা কল্লোলিনী । সিন্ধু কিছু বলেনি । শুধু তার মৃদু অনুযোগ ছিল সবটুকু সময় অরূপকে দিয়ে দেওয়া নিয়ে ।

যখন কল্লোলিনীর কোনো বন্ধু ছিল না তখন তো সবটুকু সময়ের সমস্ত কথার চাহিদা মেটাতো সিন্ধু । এখন সবটুকু না হলেও কিছুটা সময় সে চাইছিল কিন্তু কল্লোলিনীর পড়াশোনার মাঝে সময় হচ্ছিল না তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার । অন্তত সে সেটাই বলেছিল, কিন্তু সে নিজে তো জানে, তখন সে মশগুল ছিল অরূপের সঙ্গে একের পর এক এস এম এস এ । নিজের কাছে তার নিজের জবাব তৈরিই ছিল । সে তো আর অরূপের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছেনা । জাস্ট ফ্রেন্ড । যদিও এখন সে বোঝে নিজের অজান্তে কখনও কখনও শীতের সন্ধ্যেয় অরূপকে নিয়ে লুকিয়ে ফ্যান্টাসী করার লজ্জাটা অন্যের কাছে চাপা গেলেও নিজের কাছে যায় না । আর হয়ত সিন্ধুর কাছেও চাপা যায়নি । আপাতঃদৃষ্টিতে পাগলা টাইপ ছেলেটার অন্তর্দৃষ্টিকে সে প্রতিদিন অস্বিকার করে আসলেও মনে মনে তার অস্তিত্বকে সমীহ করত ।

কেন হঠাত সিন্ধু সম্পর্কটা ভেঙ্গে দিয়েছিল সেটা আজও বোঝেনা কল্লোলিনী । প্রতিহিংসা, বেটর অপশন এর মত কোনো একটা কারণ ধরে নিতেই পারত কিন্তু ব্যাপারটা এলোমেলো হয়ে গেছিল ঠিক ছ মাস পরে সিন্ধুর আবার ফিরে আসতে চাওয়ায় ।

স্ট্রেটকাট না করে দিয়েছিল সে । বলেছিল তার এখন আর কিছু যায় আসেনা সিন্ধু তার জীবনে থাকল কি না থাকল । আসলে সে মনে মনে শোধ নেওয়ার স্বাদটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিল । মশলা হিসাবে ছিল ছ মাসে একটু একটু করে সঞ্চয় করা “স্বাধীন” পিছুটানহীন জীবন উপভোগ করার সাহস ।

আর যোগাযোগ রাখেনি । তার পর হঠাতই একদিন উধাও হয়ে গেল সিন্ধু । যোগাযোগ না রাখলেও ফেসবুকের প্রোফাইল আপডেট বা হোয়াটসঅ্যাপের স্টেটাস মাঝে মাঝেই চোখে পড়ত । একদিন সব হটাত করেই গায়েব হয়ে গেল । কৌতুহল বশতঃ তাদের দু এক জন কমোন বন্ধুকে কথাচ্ছলে জিজ্ঞেসও করেছিল কল্লোলিনী । কিছু জানেনা কেউই ।

মাঝে সিন্ধুর বাবা মা তিন দিনের ব্যবধানে চলে গেলেন হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে । শুনেছে মাত্র মিনিট ৪০ এর জন্য এসেছিল সিন্ধু । একদম নাকি বদলে গেছে । চোখে সব সময় রোদ চশমা, পেটানো শরীর, ছোট ছোট করে কাটা চুল । চলন্ত রোবটের মত । আবার চলে গেছে । কানাঘুষোয় বন্ধুদের নানা আন্দাজ শুনতে পেয়েছে কল্লোলিনী । সুইসাইড কম্যান্ডো স্কোয়াড জয়েন করেছে সিন্ধু ।

কদিন আগে ব্রতিপ্রিয়াদের বাড়ি যাওয়ার সময় সিন্ধুদের বাড়িটা দূর থেকে চোখে পড়েছে কল্লোলিনীর । মাত্র একবারই এসেছিল সে । গেটের বাইরে থেকেই চলে গেছিল নিজের আভিজাত্য বজায় রেখে । সিন্ধু তাকে বার বার ঘরের ভিতরে আসার জন্য অনুনয় করেছিল । একান্ত ব্যক্তিগত ঘরে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর জন্য নয় , মায়ের সঙ্গে দেখা করানোর জন্য । আসলে কল্লোলিনীকে বিয়ে করে একটা সুখি সংসারের স্বপ্ন দেখত তো “মিডলক্লাস মাইন্ডেড” সিন্ধু । বাড়িটা পোড়োবাড়ির মত দেখতে লাগছে সন্ধ্যের অন্ধকারে । তালামারা, পাঁচিলে অযত্নের শ্যেওলা ধরা বাড়িটা কি কোনো ভাবে তার দিকে আঙ্গুল তুলছে ? নাহ , তার কি করার আছে ? সে তো আর সম্পর্কটা ভাঙ্গেনি । আর তা ছাড়া যার যার নিজের জীবন, কি করবে সেটা নিজের সিদ্ধান্ত । অন্য কারুর তাতে কিছু বলার অধিকার নেই ।

কোম্পানিতে জয়েন করার পরের দু দিন ছুটি দিয়েছে অফিস । উচ্ছল স্বভাবের কল্লোলিনী সকালটা ঘুমিয়ে কাটাল আর বিকেল বেলায় বের হল একটু সাইট সি ইং এ । নিজাম প্যালেস, ক্লক মিউজিয়াম, ফিল্ম সিটির ঝটিকা সফর করে কল্লোলিনী এসে নামল বাঞ্জারা হীলস এ । ও যে বাড়িতে পেইং গেস্ট আছে সেটা এখান থেকে ২ মিনিটের পথ । রাস্তাঘাট চিনতে হবে তো ।

যেতে যেতে একটা বিশাল পাথরের মূর্তি দেখতে পেল কল্লোলিনী । অপূর্ব সুন্দর একটা নারীমূর্তি । বেশ প্রাচীন বলেই মনে হল । কৌতূহলী হয়ে আশেপাশের কয়েকজন কে জিজ্ঞাসা করে যেটুকু বুঝতে পারল তা হল এটা কোনো এক রাজ কণ্যার মূর্তি । তাঁর প্রেমিক ছিলেন একজন বড় শিল্পী । তিনিই এটা বানিয়েছিলেন ।

কল্লোলিনী যে বাড়িতে পেইং গেষ্ট আছে সেই বাড়িটা আঞ্জুন্মা বলে একজন মধ্যবয়সী মহিলার । ইতিহাসের গবেষক । খুব ভাল মানুষ, চমৎকার ইংরাজী বলেন । একদিনেই তার সঙ্গে দারুণ জমে গেছে কল্লোলিনীর । বেড়ানোর গল্প করছিল সে । আসার পথে দেখা মূর্তিটার কথা শুনে আঞ্জুন্মা বললেন যে ওর একটা বড় ইতিহাস আছে ।

ওই মূর্তিটা রাজকণ্যা ঐশীতার । আর ঐ তরুণ ভাস্কর থাকতেন এই পাহাড়ে । একদিন পথ দিয়ে যেতে যেতে ভাস্করের কাজ দেখে মুগ্ধ হন রাজকণ্যা । উচ্ছসিত প্রশংসায় ভরিয়ে দেন । ভাস্কর চমৎকৃত হন । দুজনের কথাবার্তা বাড়তে থাকে । বন্ধুত্বও বাড়তে থাকে । রাজকণ্যাকে ভালবেসে ফেলেন ভাস্কর । কিন্তু রাজকণ্যা ঐশিতা ভালবাসতেন পাশের রাজ্যের রাজকুমার চাক্যলৈতস কে । তাঁদের দুজনের বিবাহ ও হয়ে যায় একদিন । মন ভেঙ্গে যাওয়া ভাস্কর দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রমে সমস্ত কাজ ফেলে বানাতে থাকেন রাজকণ্যার মূর্তি । ঐ মূর্তি তৈরীকরার পরে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বেঁচেছিলেন ভাস্কর । স্থানীয় লোকেরা ইতিহাস বিশেষ জানেনা তো । তাই বলে যে ওই ভাস্কর আর রাজকণ্যা প্রেমিক প্রেমিকা ছিল ।

আর রাজকণ্যা ? জিজ্ঞেস করল কল্লোলিনী ।

রাজকণ্যা স্বামী পুত্র নিয়ে বুড়ো বয়স পর্যন্ত সুখে সংসার করেছিল ।

দক্ষিণী খানায় অনভ্যস্ত, অতি কষ্টে ডীনার সারল । ঘুম আসছিল না তাই রাতের শহরটাকে দেখার জন্য ছাদে উঠল কল্লোলিনী । অসাধারণ মায়াময় । কলকাতার রাতের কথা মনে পড়ে গেল । মূর্তিটা এখান থেকে স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার কথা কিন্তু দেখা যাচ্ছেনা । কুয়াশা হয়েছে নাকি ?

“আমায় খুঁজছ ?” অতর্কিত প্রশ্নে ভীষন চমকে পিছন ঘুরল কল্লোলিনী । ছায়াশরীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজকণ্যা ঐশীতা ।

“ভয় পেয়োনা । আমি আমার প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করছি ”

বলতে বলতেই আরেক সুদর্শন যুবা ছায়াশরীর ধরে আবির্ভূত হলেন । কিন্তু তাঁর কটি বন্ধে তলোয়ার ঝোলানো নেই । আছে হাতুরি বাটালী ।

“কী ? অবাক হচ্ছ ? আমি ভাস্কর । রাজকণ্যার প্রেমিক । আমরা হলাম সূক্ষ অতীত, যা বেঁচে থাকে মানুষের মনে । মানুষ আমার কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের দুজনকেই মনে রেখেছে । প্রেমিক প্রেমিকা হিসাবে আমরা রয়ে গেছি । হাজার মানুষের চিন্তায় আমরা পেয়েছি ছায়াশরীর ।”

শুনতে শুনতে চারপাশ অস্পষ্ট হয়ে এল কল্লোলিনীর ।

খাবার সহ্য না হলে সবারই প্রথম প্রথম এরকম একটু শরীর খারাপ হয় । অঞ্জুন্মা ওষুধ খাইয়ে দিচ্ছেন একদম নিজের বাড়ির লোকের মত । কালই অফিসে যেতে পারবে কল্লোলিনী ।

ব্যাগ হাতরে একটা পেনড্রাইভ বার করল কল্লোলিনী । এটা তার জন্মদিনে উপহার হিসেবে দিয়েছিল সিন্ধু । বলেছিল “আমার তো এখন বেশী সামর্থ্য নেই । যখন চাকরী করব তখন তোমাকে জন্ম দিনে ভাল কিছু দিতে পারব” । পেনড্রাইভ তার অনেকগুলো আছে । তবু এটাকে সে রেখে দিয়েছে । এর মধ্যে থাকা কয়েকটা জয়েন্ট ফটো ও সে রেখে দিয়েছে । এটা আজ সে ফেলে দেবে কোনো দুর্গম জায়গায় । যেখান থেকে ইচ্ছা হলেও সে আর কুড়িয়ে আনতে না পারে । এখন ভূত ছেড়ে ভবিষ্যতে পা দেওয়ার সময় । অনেকটা জীবন পড়ে আছে বেঁচে নেওয়ার জন্য ।

কে বলতে পারে পেনড্রাইভটা রয়ে গেলে কোনোদিন সে দুটো কিশোর কিশোরীর হাতে হাত ধরে সাইকেল নিয়ে ঘোরা ছায়াশরীর দেখবেনা ?

ফেভারিট ডিশ

আজকের বক্তৃতার হাততালি আর পিঠচাপড়ানি চেটেপুটে
নারীমুক্তি বা ধর্ষকের কঠোর শাস্তির দাবীর সওয়াল জবাব
জনিত পরিশ্রমের পরে কোল্ডড্রিঙ্কস ছাড়া আর কি খেলে ?

কি গো বিদ্বজন ? বাড়িতে আজ কী হল ? মাংস না ইলিশ ?
স্বভাবকবি বা বিপ্লবী সমাজের হটকেক নিয়ে অবশ্যকর্ম চচ্চরি
আর সান্ধ্য মজলিশের গেলাসের পাশের ঝালছোলার চাট ?

চলন্ত বাসের জানলার ধারে বসা অচেনা লোভনীয় শরীরটার
মুখের কোমলতা দেখার খেয়াল থাকেনা, ক্যাকাফোনী ঢেকে
দুকান ভরে কল্পিত শীৎকারে, লালা ঝরে সুটেড-বুটেড সভ্যতার

অল্পদিনের ভিন্ন শারীরিক গঠনের বন্ধুত্বের হাত সংক্রমণের মত
কোপন গতিতে পৌঁছতে চায় তোমার স্বাধীনতায়, ঘ্রাণ নিতে চায়
তোমার গোপনীয়তার, পোষা মোরগের দিকে তাকিয়ে লালা ঝরায়

পথের ধারের স্কুলফ্রক পরিহিতার অনাবৃত উরুর দিকে চোখ রেখে
মনমৈথুনে ব্যস্ত সভ্যতার লালা ঝরে, বিসর্জিত দেবীমূর্তির দিকে
তাকিয়ে লালা ঝড়ে, ঝড়ে পচাশরীরের বাজারে, হাসপাতালে মর্গে

কি হে বিদ্বজন যে উত্তরটা তোমার গলায় আটকে আছে আর মস্তিষ্কে
স্টিমুলেট করছে সাবধানে লুকিয়ে রাখা সুখ, ওটা আমি চিনি, পারি
তোমার রাতের অন্ধকারে সার্ভ করা প্রিয়খাদ্যের স্বাদ অনুমান করতে

মস্তিষ্কে জমতে থাকা দলা পাকানো থুতুটা তোমায় ছুঁড়ে অপচয় না করে
গিলে নেব প্রয়োজনের প্রায়োরিটিতে, রেডিওলজিষ্ট চোখ কঙ্কাল দেখায়,
এক্স-রে প্লেটে স্পষ্ট আমার মনের ছবি, আর স্পষ্ট তোমার মুখোশের রঙ

আরেকটা হটকেক হেডলাইনের অপেক্ষায়

ভাইফোঁটার পবিত্রতার মোড়কে ফোঁটা ফোঁটা নির্লজ্জ কামনা ঝড়েছিল
তোর ফ্রক তুলে ধরে অকপট করে দেওয়া উরুর মোলায়েম দেওয়ালে
প্রথম আদীম জন্তুটার প্রতিবর্ত ঘামের গন্ধের স্বাদ দিয়েছিলি যত্ন করে

পারিবারিক অন্ধকার কানাগলির হারিয়ে যাওয়া ল্যাম্পপোস্টের মত
বিস্মৃতির অতলে ফেলেছিস আমার কৌতুহলে কাটাছেঁড়া নষ্ট শৈশবের লাশ
আজ তোর লালপাড় সাদা শরীরের রক্তমাখা টুকরো আপন করতে চাই …

প্রথম স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলে তুই থেকে তুমির পরিবর্তিত আন্তরিকতায়
কৈশোরের কৌতুহল মিটিয়ে খেলেছিলে আপন করার “চু – কিত কিত”
বিকৃত আনন্দের স্ট্রাটেজিক চাবুকে ছিঁড়েছ আমায় ইচ্ছে মত যখন খুশী

আজ যদি প্রিয়বন্ধুর ধোঁয়াশা মাখা বোরখায় হাত ধর নতুন স্বপ্নের বাজারে
উৎসুক সন্ধ্যায় যে একলা দেওয়ালে ঠেসে ধরে শিখিয়েছিলে চুমুর অনুভব
সে পাঁচিল তোমার ফাটিয়ে বের করা মস্তিষ্কের রঙে রাঙ্গাতে চাইব না বল ?

পরিবার হয়ে বাঁধতে চেয়েছিলি সহজ-সরল ভালোবাসায় আর সাংসারিক
আলোচনা, একটা রূপকথার মত পথে হাঁটার হাতছানি আর অভিনয়
নোংরা নর্দমার পথে শুষেছিস আমার সব সুখ, মন্থনের অন্তিম অভিলাষে

আজ আবার নতুন রক্তের স্বাদে ছিবড়ে করা আমার নষ্ট শরীর থেকে মুখ
ফিরিয়ে, হানা দিচ্ছিস অন্য কোনো কাটা ঘায়ের পচা গন্ধে সেবিকা সেজে
তোকে আহুতি দেওয়া যজ্ঞের ছাই গায়ে মেখে জ্বালা জুরোবোনা কেন বল ?

আরেকটা নতুন হেডলাইন পিছনে ফেলবে অন্য সব প্রচলিত বা বানানো
“হটকেক”, “হাতে গরম”দের, ভাজা মৌরির মত মৌতাত করে খেয়ে নতুন
“রীপার” এর অমানবিকতার ঢেঁকুর ম্লান করবে কানা শহরের ক্যকাফোনি ।