একটা পুরোনো লেখা —- প্রথম চাকরী পাওয়ার পর লিখেছিলাম এটা

দিন পনের আগে আমাদের কলেজ থেকে আমাদের জনা ৪০ ছেলে কে একটা কম্পানীর ক্যাম্পাসিংএ পাঠিয়েছিল। ছোটখাট একটা কম্পানী, নাম টেক মাহিন্দ্রা । তো সেখানে গিয়ে আমি ফুল বাওয়ালী করলাম, ইন্টারভিউতে যা নয় তাই ত্যাঁদরামো করলাম, তার পর ও কেন জানিনা কম্পানীটা ৪০ জনের মধ্যে শুধু আমাকেই সিলেক্ট করে গেল । আমাদের কলেজের নিয়ম অনুযায়ী একটা কম্পানীতে পেয়ে গেলে আর পরের ক্যাম্পাসিংএ বসতে দেয় না । তাই এই চাকরীটাই মনে হয় করতে হবে । তো এরা প্রথম পোস্টিং দেবে হায়দ্রাবাদে । জুলাই আগস্ট নাগাদ জয়েনিং ।

যাই হোক যেটা নিয়ে এই প্রসঙ্গের অবতারণা, জয়েন করলে এটা আমার প্রথম বার হায়দ্রাবাদে যাওয়া হবেনা । এর আগেও বার চারেক গিয়েছি হায়দ্রাবাদে । ওখানকার বাঞ্জারা হিলস স্টুডিওতে একটা কন্নড় আর একটা তেলেগু রিয়েলিটি শো এর অ্যাসিস্টান্ট ডায়রেক্টর (স্পেশাল এফেক্টস) হিসাবে কাজ করতাম ।

তো হায়দ্রাবাদে গেলে মূল সমস্যা হচ্ছে খাবারদাবার । সুটিং ইউনিটের যে খাবারের ব্যবস্থা থাকত সেসব মুখে তোলার মত ছিল না। কি সব বদখত ডাল, তরকারী – যেমন উৎকট তাদের গন্ধ, তেমনি অখাদ্য তার স্বাদ । আর চারদিকে কোথাও একটা ভদ্র বাঙ্গালীর খাওয়ার মত দোকান নেই । সারাদিন অসম্ভব ক্ষিদে পেত, আর শুটিংএর মাঝে যে সামান্য সময় লাঞ্চ ব্রেক দিতো তাতে পাহাড় থেকে নেমে খোঁজাখুঁজি করে দোকান বের করে খাওয়াদাওয়া করা সম্ভব হত না । তা প্রথম কয়েকদিন তাই শুটিং ইউনিটের লাঞ্চ থেকে গুড্ডির (ডিমের) তরকারী থেকে গোটা দুয়েক ডিম তুলে নিয়ে সেটাকে বেশ করে জল দিয়ে ধুয়ে নিয়ে সেই ডিম আর সামান্য নুন দিয়ে ভাত মেখে খেতাম । সন্ধ্যের টিফিন টা সারতাম পাহাড়ের ওপরেই ছোট ছোট গুমটিতে বিক্রি হওয়া উকমা আর বিভিন্ন ফলের রস দিয়ে, সাপোটা (সবেদা), খরমুশা (ফুটির মত একরকম ফল) এগুলোর রস আমার ভীষণ প্রিয় ছিল । কোনো কোনো দিন শখ করে ভেলপুরী, চাটমশালা ও একটু আধটু খাওয়া হয়ে যেত । যে থ্রীস্টার হোটেলটায় আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল সেটা ছিল স্টুডিও থেকে বেশ দূরে, পাহাড়ের নীচে, সমতলে । যদিও ফেরার জন্য গাড়ী ছিল তবুও শুটিং সেরে ফিরতে ফিরতে প্রায় ১০টা – ১১টা বেজে যেত । সেই সময় আর হোটেল খোঁজার উপায় বা এনার্জী কোনোটাই থাকতো না । তাই ওখানের বিখ্যাত সুইট ব্রেড উইথ অ্যাডেড ফ্রুট দিয়েই ডিনার টা সারতে হত । সে এক নিরস খাওয়া দাওয়া । এরকমই চলছিল, তো একদিন স্টুডিওতে ডায়রেক্টর সূরিয়াকীরণ জী আমার হালতের কথা জানতে পেরে আমাকে বললেন “আরে বোকা, তোমার হোটেলের পেছনেই তো ভালো একটা রেস্টুরেন্ট আছে … সেটা প্রায় সারা রাত খোলা থাকে। সেখানে যাওনি কেন ?” কী করে তাঁকে বোঝাব যে ভাষা কত বড় সমস্যা হতে পারে ! যাই হোক সেদিনই রাত্রে চলে গেলুম সেই রেস্টুরেন্টে , হোটেলের পেছনদিকটায় বলে আমার এতদিন চোখেই পড়েনি । একটা থালী অর্ডার করলাম, মনে মনে ভাবলাম দেখা যাক কী অখাদ্য নিয়ে আসে… কিন্তু যেটা এল সেটা দেখে আমার অবাক হওয়ার পালা । খুবই তৃপ্তি করে পেট ভরে বহুদিন পরে ঠিক-ঠাক খেয়েছিলাম । সেই প্রথম থালীটার একটা ছবি তুলে রেখেছিলাম, বহুদিন পরে সেটার কথা এই হায়দ্রাবাদ প্রসঙ্গে মনে পড়ল, আপনাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতাটা আর সেইসঙ্গে ছবিটা শেয়ার করলাম । আবার তো যেতে হবে হায়দ্রাবাদ, এবার পাকাপাকি ভাবে …

পুনশ্চঃ – হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানীর খুব নাম শুনি, একদিন শখ করে থালীর বদলে সেটার অর্ডার দিয়েছিলুম, এতও অখাদ্য জিনিস বাপের জন্মে খাইনি …

1604932_10201829494208180_8419594962948903046_n 10156098_10201829494168179_3537554675579064120_n

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s