রয়াল গোল্ড (Home Brewed Wine)

রয়াল গোল্ড প্রস্তুত প্রণালী

প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি

১) সামান্য ভাজা চিনি ২০০ গ্রাম
২) কালো আঙুর ২০০ গ্রাম
৩) গন্ধরাজ লেবু (কাঁচা) ১ টি বড়
৪) কালচে মধু (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৫) দারুচিনি (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৬) লবঙ্গ (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৭) মাপনী ফ্লাস্ক (নূন্যতম ৫০ মিঃলিঃ সাইজের)
৮) সবুজ আপেল (যত কাঁচা হয়, ততই ভাল) ৪ টি মাঝারী সাইজের
৯) ইস্ট (ছোট একটা ২০টাকার কৌটো)
১০) স্টেরিলাইজড সাইফন পাইপ
১১) দুটি ক্লনিকাল ফ্লাস্ক ৫০০ মিঃলিঃ সাইজের
১২) ব্রিদার ও কর্ক

প্রস্তুতপ্রণালীঃ-
প্রথমে ফ্লাস্ক, পাইপ, ব্রিদার এগুলিকে গরম জলে ধুয়ে স্টেরিলাইজ করে নিন, ইস্ট ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি ওয়াইনকে টকিয়ে দেবে এবং বিষাক্ত করে দিতে পারে । এবার আপেল আঙুর এগুলিকে ভাল করে ধুয়ে নিন । আপেল টুকরো টুকরো করে নিন । মিক্সি বা অন্যকোনো ভাবে এগুলিকে গ্রাইন্ড করে নিন । গ্রাইন্ড হয়ে যাওয়ার পর মার্কিন বা অন্যকোনো পরিস্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিন । ছেঁকে নেওয়া ফলের রসকে এবার একটা পরিস্কার পাত্রে (কোনো ভাবেই তামা, পিতল, কাঁসা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র চলবেনা) ১ ঘন্টা রেখে দিন কাপড় ঢাকা দিয়ে ।
১ ঘন্টা পর ঐ রসের মধ্যে গন্ধরাজ লেবুর রস মিশিয়ে ভাল করে ঘেঁটে দিন । আবার কাপড় ঢাকা দিন এবং ২ ঘন্টা রেখে দিন ।
১ ঘন্টা ৩০ মিনিট পরে একটা কাঁচের গ্লাসে অর্ধেক ঈষদুষ্ণ গরম জল নিন (৫০ মিঃলিঃ পরিমাণ), গরম যেন খুব বেশী না হয়, হাত দিলে ছেঁকা পড়ার মত গরম যেন না হয় । ঐ জলে সামান্য চিনি (চা চামচ পরিমাণ) গুলে নিন, এবার ওতে এক টেবিল চামচ ইস্ট গুলে দিন । এবার গ্লাসটাকে রেখে দেখতে থাকুন । প্রথমে ইস্ট গুলো তলায় থিতিয়ে পড়বে, তার পর একটা একটা করে ভেসে উঠতে থাকবে, এবং জলে ফেনা কাটতে শুরু করবে । ফেনা তৈরী হওয়া মানে আপনার ইস্ট মিশ্রন রেডী ।
এতক্ষনে ২ ঘন্টা কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার কথা । ফলের রসের ঢাকনা খুলুন, ওতে ২০০ গ্রাম চিনি মিশিয়ে দিন, এবার ২০০ মিঃলিঃ স্টেরিলাইজড জল মেশান । ভালো করে ঘেঁটে দিন ।
ফলের জুসের মিশ্রন থেকে ৪০০ মিঃলিঃ রস নিয়ে ক্লনিকাল ফ্লাস্কে ঢালুন । বাকি জুস টা আপনি গ্লাসে করে খেয়ে নিতে পারেন, সরবত হিসাবে মন্দ লাগবে না ।
এবার ফ্লাস্কে ইস্ট মিশ্রণটা ঢেলে দিন । ফ্লাস্কের মুখে কাপড় চাপা দিয়ে ১ ঘন্টা রেখে দিন ।
১ ঘন্টা পর এয়ারলক ব্রিদার যুক্ত কর্কটা ভালো করে ফ্লাস্কের মুখে এঁটে দিন । এবার ফ্লাস্কটাকে কোনো ছায়া আছে এমন জায়গায় (মোটামুটি ঠান্ডা জায়গায়) ১ মাস রেখে দিন । এক মাসের মধ্যে ওটাকে কোনো রকম নাড়াচাড়া করবেন না ।

একমাস পরে সাবধানে কর্ক খুলুন, নাড়াচাড়া যতদূর সম্ভব কম করে । এবার সাইফন পাইপটা দিয়ে মিশ্রণটাকে আস্তে আস্তে দ্বিতীয় ক্লনিকাল ফ্লাস্কে ঢেলে নিন (ব্যবহারের আগে দ্বিতীয় ক্লনিকাল ফ্লাস্ক ও সাইফনটাকে স্টেরিলাইজড করে নিতে ভুলবেন না) … এমন ভাবে ঢালবেন যাতে প্রথম ক্লনিকাল ফ্লাস্কের নীচে থিতিয়ে পড়া স্লাগ (ইস্ট, ফলের সুক্ষ ফাইবার ইত্যাদির থকথকে স্তর) দ্বিতীয় ফ্লাস্কে না আসে । সম্পূর্ণ মিশ্রণ টা দ্বিতীয় ফ্লাস্কে আসার পর তাতে কয়েকটা লবঙ্গ আর দারুচিনির টুকরো দিয়ে এয়ারলক ব্রিদার সহ কর্কটা এঁটে আগের মত করে রেখে দিন ২ মাস । এই ২ মাসের মধ্যে প্রথম ক্লনিকাল ফ্লাস্কটাকে ধুয়ে পরিস্কার করে রেখে দিন ।

২ মাস পর মিশ্রণটাকে ছেঁকে নিন, ফিল্টার কাগজ দিয়ে ছাঁকতে পারলে ভালো হয় । এবার ওতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ভালো করে কর্ক (ব্রিদার ছাড়া, মানে কমপ্লিট এয়ারলক কর্ক) এঁটে রেখে দিন মিনিমাম ৬ মাস ।

জিনিসটা তৈরী হয়েছে কিনা সেটা বোঝার উপায় হল এর রঙ, প্রথম প্রথম এর রঙ থাকবে খড় ধোওয়া জলের মত ঘোলাটে টাইপের । যত ম্যাচিওর হবে তত এর রঙ পরিবর্তন হয়ে স্বচ্ছ সোনালী হতে থাকবে ।

10151335_10201830087423010_874172316751756192_n 10255372_10201835137669263_2975951136284147170_n

টিপসঃ – আমি কাঁচের মাপনি ফ্লাস্কের বদলে প্রথম দিকে (যখন আমার মাপনি ফ্লাক্স ছিলনা) বড় সাইজের সার্জিকাল ইঞ্জেকশন ব্যবহার করতাম । সেটায় ৫০ মিঃলিঃ পর্যন্ত দাগ দেওয়া থাকে । হিসাব করার সুবিধা যদি আপনি এখানে যা মেজারমেন্ট দেওয়া আছে তার অর্ধেক হিসাবে বানিয়ে টেস্ট করতে চান ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s