আবহাওয়াবীদেরা জেগে আছে

একদা পথের দুই ধার মুকুলিত হইয়াছিল বিচিত্র গুল্মের পুষ্পে । কিন্তু কিয়দ্দূর চলিবার পরেই পথচারীর বোধগম্য হইল যে উহা প্রকৃতপক্ষে কৃত্রিম ও চিত্তবিভ্রমের জন্য রচিত । বুঝিয়া প্রকৃতিস্থ হইতেই পথচারীর উপলব্ধী হইল পুষ্পশোভিত বংশদন্ডযুগলকে বিমুগ্ধ নয়নে দেখিবার অবকাশে তাহার পকেটস্থিত কষ্টসঞ্চিত যৎসামান্য অর্থ নিপুণ মস্তিষ্কে কেহ হরণ করিয়াছে । মুকুলিত পথপার্শ্বের আশারূপিনী মদনবাণের উদ্দেশ্য ও স্বীয় ধনহরণের মধ্যবর্তী সমীকরণ উপলব্ধী হইবামাত্র পথচারী সবিস্ময়ে সম্মুখে এক ভীসণাসুরের আবির্ভাব প্রত্যক্ষ্য করিল । তার বিভিষিকাময় রূপ প্রত্যক্ষ্য করিয়া অর্থশোক বিস্মৃত হইয়া প্রাথমিক ভীত ও পরবর্তিতে ইহার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলিবার প্রচেষ্টায় রত হইল । ভীষণ সংগ্রামের মাঝে কালের অমোঘ অঙ্গুলীহেলনে যখন মদনবানের তেজ ফুরাইয়া গেল, মুকুল ঝড়িয়া গেল, পথীপার্শ্বের সজ্জিত পুষ্পযুগলের দীর্ণ কীটদংষ্ট রূপ সবাকার সম্মুখে উন্মোচিত হইয়া গেল তখন উপায়ন্তরশূণ্য হইয়া অকস্মাত আশাদেবী বিনা সংবাদে আবির্ভূতা হইলেন ও তাঁহার জ্যোতিতে ত্রিলোক আলোকিত করিয়া অসুরবধ করিলেন । পথচারীগণ ভক্তিগদগদ চিত্তে দেবীর জয়ধ্বনী করিতে লাগিল । পথিপার্শ্বের পুষ্পসজ্জা পুনরায় স্থাপিত হইল । পথচারীরা চারণগীতি ছাড়িয়া ভক্তিবণত চিত্তে দেবী বন্দনা করিতে করিতে অগ্রসর হইয়া চলিল বহুকালের অপরিবর্তীত রাস্তা ধরে ।

পিছনে পড়িয়া রহিল বিশাল অসুরের শব । কালে যাহার উপর মাইল ফলক স্থাপিত হইবে । স্মারকে লিখিত থাকিবে দেবীর আশীর্বাদে মানবকূলের অসুর জয়ের বীরগাথা । শুধু লিখিত থাকিবেনা সেই অজ্ঞাত তথ্যগুলি যা আবহাওয়াবীদ গণের দিনলীপিতে লিখিত হইবে । লিখিত থাকিবেনা অসুরের প্রকৃত স্বরূপ, লিখিত থাকিবেনা উহা প্রকৃতপক্ষে একটি দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রমানব ছিল । লিখিত থাকিবেনা উহার নিয়ন্ত্রক সুইচটি ছিল দেবীর হস্তের আয়ুধে লুক্কায়িত । শুধু উদ্দাম হাওয়া বহিবে দিকশূন্যপুরে আর মৃদুস্বরে উপহাস করিয়া চলিবে বিজয়োৎসবে মগ্ন পথচারীদিগকে, দ্বিতীয়বার বিভ্রান্ত হইবার নির্বুদ্ধিতাকে …

*********************************************

বোমাটা ফাটতে পারে যেকোনো সময়ে, ফাটাতে পারে যে কেউ … আবহাওয়াবীদেরা জেগে আছে ।