আন্তর্জালিক প্রতিবাদের রূপকার শহীদরা

ফেসবুক করা বন্ধ করে দিয়েছি, তবুও মাঝে মাঝে কিছু এমন ঘটনা ঘটে যাতে হয়ত হাজার বছরের ধ্যান ভেঙেও উঠে আসতে হয় । নইলে ভাবনার অন্তর্চিৎকারে দম বন্ধ হয়ে আসে ।

মাস কয়েক আগে মুক্তমনা ব্লগে বিদ্বেষমূলক একটি লেখার প্রতিবাদ করেছিলাম । এবং সেখানে মুক্তমনায় প্রকাশিত লেখার গুণমান নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলাম । সেই প্রসঙ্গেই আলাপ হয় অভিজিৎ রায়ের সঙ্গে । সেদিন ছিল মিজানুর রহমানের মৃত্যু দিবস । আলাপ হয়েছিল তাঁর একটি লেখা পড়ে “শূণ্য থেকে মহাবিশ্ব” বইটির ব্যাপারে  স্মৃতিচারণ । মুগ্ধ হয়েছিলাম । পরে মানুষটির সঙ্গে সরাসরি যখন আলাপ হয় তখন তাঁর ব্যক্তিত্বে আরও মুগ্ধ হই । বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছিল । আমার যাদুবিদ্যাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ভেলকি, বুজরুকির বিরুদ্ধে সরব হতে বলেছিলেন । এবিষয়ে লেখালেখি করতে বলেছিলেন । আমি বলেছিলাম “এখনই একটা লেখা দিচ্ছি, প্রকাশ করুন না” । কিন্তু উনি বলেছিলেন “নিয়মিত লেখ, সবার জন্য একই নিয়ম” ।

এই প্রকৃত মুক্তমনের মানুষটি আর নেই । তাঁকে কিছু বাংলাদেশী মৌলবাদী দুষ্কৃতী কুপিয়ে খুন করেছে । তাঁর যে মস্তিষ্ক ছিল অমূল্য উদ্ভাবনী লেখার আকর স্বরূপ । সেই মস্তিষ্ক ফাটিয়ে রাস্তায় ছড়িয়েছে । তাঁর স্ত্রীর আঙুল কেটে নিয়েছে, চোখ ফাটিয়ে দিয়েছে ।

এই মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য ছিল মুক্ত মননের লেখাগুলি ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে দেওয়া । মুক্তমনা ব্লগ আজ থেকে ইন্টারনেটে অনুপস্থিত ।

এই শুয়োরের বাচ্চাদের কি এভাবে জিততে দেওয়া যায় ???? আপনারাই বলুন ???

মুক্তমনা আজ পিতৃহীন । অস্তিত্ব লুপ্ত । কিন্তু এটা সাময়িক । এভাবে চুপ করানো যাবেনা মুক্তকন্ঠকে ।

যদি সত্যিই শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে থাকেন তাহলে গর্জে উঠুন । লেখায় ধিক্কারের ঝড় তুলুন আন্তর্জালিক মাধ্যমে । আর যদি কোনো জায়গায় কোনো মৌলবাদীর উস্কানিমূলক, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য দেখেন । প্রতিবাদ করুন । বুঝিয়ে দিন ঐ বেজন্মা দের আমরা ভয় করিনা ।

অভিজিৎ রায় অমর । ব্লগার রাজীব অমর । আন্তর্জালিক প্রতিবাদের রূপকার শহীদরা এভাবেই অমর থাকবেন । বিদ্রোহের ভাষা হয়ে ফুটে উঠবেন কোটি কোটি বিক্ষুব্ধ মানুষের ঠোঁটে ।