একা

অনেক দিন ছড়া লিখিনি …..

আজ এই ছেলেমানুষি লাইন দুটো রাখা রইল “হেমা”র জন্য ….

যাওয়াআসার পথের ধারে ভয়ালরূপে তোমায় দেখা
যদিও জানি আসল তুমি মনে মনে বড্ড একা

স্রষ্টা, প্রেম ও মুক্তি

আচ্ছা জন্মের জন্য তো জননপ্রক্রিয়া লাগে, তাহলে এই সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টি জনন ব্যতীত কীভাবে হল ? আর কল্পকাহিনীর আদম ইভের থেকে মানব সৃষ্টি যদিও বা ধরে নেওয়া যায় তবে তাদের বাসস্থান ইডেন উদ্যানটির জন্মই বা হল কী ভাবে ?

যদি বলি সৃষ্টির আদি কারক হল প্রেম তাহলে কি আজগুবি বা ন্যাকামী ভেবে লেখাটা পড়া এখানেই বন্ধ করে দেবেন ? তবুও কিন্তু আমার কলম চলতেই থাকবে, রাখাল আর তার সখীদের প্রেমের রূপকথা বুনতে থাকবে অনন্ত কাল ধরে । কারণ রাখালের দেহাতীত কল্পপ্রেমেই যে কাহিনীর জন্ম হয়ে চলে কলমের নিব বেয়ে ।

কেউ কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন রাখালের ভালবাসা কী শুধু একটা ভেক বা সহানুভুতি কুড়োনোর মার্কেটিং নয় ? নইলে সে তার রাজকণ্যাকে ফেলে কুহকিনীর দেশেই বা যাবে কেন আর তার মনের অহঙ্কারের গরাদ ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে হাল ছেড়ে দিয়ে মগ দেশের রাজকণ্যার উদ্দেশ্যেই বা যাত্রা করবে কেন ?

কারণটা খুবই সোজা, স্রষ্টা যেমন তাঁর সৃষ্টির কল্পনার সঙ্গে মিলনে জন্ম দেন মহাবিশ্বের তেমনই রাখালের অস্তিত্বও বেঁচে থাকে তার সহানুভূতির ক্রোড়ে জন্ম নেওয়া কাহিনীতে । তাই তো রাখাল বার বার তার মোহন বাঁশিতে সুর তোলে, প্রেম বিলোয় যুগযুগান্ত ধরে ।

কেউ কেউ এই ক্ষণে ক্ষণে বদলানো প্রেমের রূপ দেখে অবিশ্বাসী হন, ঠিক যেমন কবিগুরুর নাম মজলিশী পি এন পি সি তে হয়ে ওঠে বউদিবাজ । তাঁদের জানা নেই প্রেম মানেই শরীর সর্বস্ব, নিদেন পক্ষে নিষীদ্ধ আলাপচারিতা বা কঞ্জুগাল সম্পর্কের লিখিত আগরে বাঁধা পড়া নয়, প্রেমের প্রকৃত স্বরূপ সহানুভূতি, প্রেমের প্রকৃত স্বরূপ অফুরন্ত স্নেহের বরষণে একটি হৃদয়কে আশ্রয় দেওয়া, প্রেম মানে অনুভূতির আদান প্রদানে দুটি হৃদয়কে আলোকিত করা ।

সে প্রেম কোনো নির্দিষ্ট একটি মানুষের অবয়বের শীকলে বাঁধা না পড়ে প্রতিটি মানুষের ভালবাসাকে আস্বাদন করতে পারে, সে প্রেম প্রেমিক প্রেমিকার বন্ধুত্ব করাতে পারে । কারণ সে প্রেমই হল মুক্তি । দেহের বা স্থাবর মায়ার অর্গল ভেঙ্গে বিশাল ব্যাপ্তিতে জঙ্গমত্ব প্রাপ্তি । হাতে হাতের আগেও মনের সঙ্গে মনের পরিচিতি ।

প্রেমের নিয়ন্ত্রণ যদি সত্যিই হরমোনের হাতে থাকত, তাহলে দেহজ তৃষ্ণার নিবৃত্তির সাথে সাথেই প্রেম এবং সহানুভূতিরও নিবৃত্তি ঘটত ।

আর প্রেমের কোনো নির্দিষ্ট গঠন হয়না বলেই অকলঙ্কিত স্রষ্টাচরিত্র বিবাহিতা বান্ধবী বা নিজের অর্ধেক বয়ঃক্রমের খুকীর প্রেমরসে সিক্ত হয়ে চিদানন্দসাগরে অবগাহন করতে পারে ।

এই প্রেমই যে সৃষ্টির আকর, প্রেমিকার হৃদয়দর্পণ হতে প্রতিফলিত স্বীয় মননের সহানুভূতি ।

এই তো শিকল ভাঙা, এই তো পূর্ণতা , এই তো মুক্তি ।

**********

বহু দিনের অব্যাবহারে বন্ধ পুরোনো ভোডাফোন মোবাইলের হঠাত দেওয়া চার্জটা একদিন আবার নীরব থেকে নিঃশেষিত হয়ে যাবে । শেষ হবে আরেকটা অধ্যায় ……জন্ম হবে নতুন কাহিনীর ।

ছেলেবেলা ছুঁয়ে দেখা – 1

আমার প্রিয় ঝড় …. সাইকেলের দোকানের গুমটিতে সাময়িক আশ্রয় , শীলাবৃষ্টি , ভিজে ভিজে রাস্তায় আধভিজে কাঁচা আম … সাইকেলের বলের পাশে থাকা নুনের কৌটো, সাইকেলের কাকা আর চিকু , টকে জরা জিভে …. আরেকবার ছেলেবেলা ছুঁয়ে দেখা ।

সূতো

কখনও কী মনে হয়, শরীরসর্বস্ব পরিচয় অনেক তো হল ?
স্তাবকদের একঘেয়ে জয়ধ্বনীতে অস্থিরতা বধীর করে কী ?
কখনও কী মনের গোপন কোনো কোণে হারানো ছোট্টবেলারা
ফিরে আসে খেলামবাটি আর সত্যি অনুভূতির বন্ধুত্ব খুঁজে ?

সময় নদীর কাল স্রোতে যখন এক একটা করে খসে পড়বে
ঝলমলে রাজ প্রাসাদের ইঁট, যেদিন পরিত্যক্ত্য হবে অবহেলায়
শুনতে পাও কি সেদিনের আগাম ফোরকাস্ট আর অমোঘ নোটিশ
দেখতে পাওকি একটা ঘর চারটে দেওয়াল আর জানালায় পৃথিবী ?

তবে বাতাসে কান রেখো, শুনতে চেয়ো কোনো রাখালিয়া মোহনবাঁশি
যারা যুগ যুগান্তের সাক্ষীবটের তলায় কুয়াশা ভোরে অপেক্ষায় থাকে
না কোনো রাজকণ্যা নয়, একটা মানুষের, একটা অনুভবের, একটা
ভালবাসার যেখানে শরীরের আগে বাঁধা পড়ে মন, সহানুভূতির সূতোয়

কার্বণিত রাখাল

রাখাল যদি সত্যিই কল্পনার জগতের চরিত্র হত, তাহলে কিন্তু কাহিনীটা হয়ত বেশীদূর গড়াত না । কারণ কল্পনা বুনে তোলা কল্কার মত রাখালের জীবনটাও হত ব্যালেন্সড আর পারফেক্ট । সে ডাইমেনশনের রাখাল কুহক দেশের সীমানা ছাড়িয়ে কয়েক পা হাঁটার পরেই কোথা থেকে এক কবুতর টুপ করে তার কাঁধে বসত । কয়েক দন্ড তীর বেগে ওড়ার ক্লান্তি জুড়িয়েই পায়ে বাঁধা লীপি তুলে দিত রাখালের হাতে ।

“রাখাল তুমি পারলে আমায় ফেলে রেখে চলে যেতে ? পারলে আমার নিশ্চিত বন্ধুহীনতা আর একাকীত্বের পরিণতি জেনেও দেশান্তরের পথে পা রাখতে ? চেয়ে দেখ আমার মায়াদন্ড আমি নিক্ষেপ করেছি উপলব্ধীর আগুণে । কালের অমোঘ নিয়মে আমার মায়াশহরের লুণ্ঠিত পরিত্যক্ত্য পরিণতি আজ আমার দু চোখ ভরে ডেকে আনছে হঠাত করেই হারিয়ে যাওয়ার ভয় । যে ভয়কে দুর্বলতা ভেবে এতদিন উপহাস করেছি, তার আর্তনাদ চাপা পড়েছে স্বার্থান্বেষী স্তাবকদের জয়ধ্বনীতে ।

রাখাল আজ যখন সন্ধ্যা নামছে পৃথিবীর বুকে তখন আমার মায়ায় আমার অলকাপুরীতে শরতের রোদ । কিন্তু আমি যে ক্লান্ত, একঘেয়ে জয়ধ্বনীর শব্দে । আমার অনন্ত যৌবন, আমার মাদকতার অভিশাপ আমার কন্ঠ রোধ করছে ।

রাখাল, আজ প্রাণ চাইছে মায়ার আবরণ সরিয়ে জগতের মুখোমুখি হতে । শরতের শ্যামলীমা আর নীলাকাশের অভিনয় কাটিয়ে গোধূলী ভরা সন্ধ্যাকে প্রত্যক্ষ্য করতে । হীরক খচিত কেয়ূরে পার্লার ফ্যাশনড কেশরাজীকে উন্মুক্ত করে দিয়ে তোমার হাত ধরে বেরিয়ে পড়তে পৃথিবীর খোঁজে । একটা বাস্তব দিনের শেষে, কোনো বন্য ঝরনার পাশে তোমার চওড়া বুকে মাথা রেখে মনের কবরে দাফন করা অনুভূতিগুলো পুনরজ্জীবিত করতে ।

আমায় সঙ্গে নেবেনা রাখাল ?”

***********************

কিন্তু দুঃখের কথা হল যে আমার কলমের ভিতর দিয়ে আপনাদের সামনা সামনি হেঁটে আসা রাখাল বাস্তবের এক কার্বণিত অনুলীপি । কার্বণের প্রলেপে তার রঙ কখনও চেঞ্জ হয়ে হয় নীল কখনও কাল, কিন্তু অবয়ব বদলায় না ।

তাই আমাদের রাখাল অবাস্তবের কবুতরের অর্থহীন অপেক্ষা করেনা । দিনের শেষে যখন আকাশে একটা দুটো করে তারা ফুটে ওঠে তখন ঘুমোতে যাওয়ার আগে তার বাঁশির সুর আকাশ বাতাসে ক্ষণিকের স্বপ্ন আঁকে । কিন্তু সে ক্ষণিক মাত্র … কাল যে তাকে আরও পূর্বে এগিয়ে যেতে হবে, মগ দেশের দিকে, অনেক পথ যে বাকি ………

বহুরূপীর কালারটোন

যথাক্রমে ব্যাঘ্র ও সিংহ বেশধারী দুই বহুরূপীতে দেখা হওয়ার পর যদি তারা মুখোশ গুলো খুলে দুদন্ড সুখ দুঃখের গল্প বা মুখোশ ইত্যাদির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি- টিদ্ধি নিয়ে আলোচনা করে, তাহলে পৃথিবীটা আরেকটু সুন্দর হতে পারত ।কিন্তু বাস্তবে তো সেরকম হওয়া কষ্ট কল্পনা । বাস্তবে দুই বহুরূপীর দেখা হলে দুজন দুজনার স্বরূপ স্পষ্ট বোঝা সত্বেও একজন নিজেকে আসল বাঘ আরেকজন নিজেকে আসল সিংহ হিসেবে প্রতিপন্ন করার প্রাণপণ চেষ্টা করে ….

মানুষের স্বজাতি বিদ্বেষের সমান কালারটোনের কালিতে এ ঘটনা লেখা যায় কিনা জানা নেই তবে উড়ন্ত পাখীর চোখ দিয়ে দেখলে এই হার্দিক বা বৌদ্ধিক গোলযোগকেই সম্ভবতঃ

Egoল বলে ।

একটা তার

ছেঁড়া তারটা লাল কেন বলতে পার ???
হ্যাঁ, ওটা নিজের সঙ্গে সঙ্গে আমার জামাটাকেও রাঙ্গিয়েছে
কারণ একাকিত্ব কেউ কি চায় ?

তারটা বড্ড বেশী উঁচু ডালে বাঁধা হয়ে গেছিল
পৃথিবী পাক দেওয়া স্যাটেলাইটের দূরত্বের দুটো অবৈজ্ঞানিক
হৃদয় কিম্বা বৈজ্ঞানিক ব্রেণের আইলেটে

সত্যি-মিথ্যার কাল্পনিক রেফারেন্স ফ্রেমের
উচিত অনুচিতে যাবনা, কারণ ডিডি গেঞ্জী আর ধর্ম গ্রন্থের মত
ভালবাসার ক্যাচলাইনও একই টিউনে …

তারের ওপর আসা হঠাত আনক্যালকুলেটেড
স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের প্লাবনে ছিঁড়ে যাওয়া তথ্যের ময়না তদন্তের
স্বাক্ষী বদলের সাক্ষী থাক নির্বাক সময়

আর

নর্মদা নদীর অভিশ্রুতি চাপা দেয় একটা হাস্যমুখি লাশ, ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞায়
হাতে ধরা রিপোর্টে একটা তার যার এক প্রান্ত পুতুলের মাথার ছিদ্রে
আরেক প্রান্ত ছেড়ে গেছে মুঠো করা হাত থেকে

নেশা নেশা

আজ হঠাত করেই বেশ জ্বর চলে এল দুপুর বেলা । আমি তখন অফিসে । এখনও বেশ উত্তাপ … জ্বালা । তবু বেশ ভালো লাগছে, বেশ নেশা নেশা ……

আজ অনেক দিন পর পিয়ানোটা নিয়ে বসলাম … বাইরে মাঝে মাঝে ঝড়ো হাওয়া দিচ্ছে, পাশের গাছটা থেকে টুপটাপ দু একটা পাতা খসে যাচ্ছে হিসেব না লিখেই …

পিয়ানো তে অচেনা সুর বাজিয়ে চলেছি নিজের অজান্তেই … পিয়ানো অনেক কিছু মনে করায় … তবু পিয়ানোটা শান্তি দেয় । জ্বরের উত্তাপের মাঝেও কোনো পাহাড়ী ঝর্ণার ঠান্ডা জলের মত …

অর্ধচেতন সুখ বা দুঃখ

স্বপ্নহীন নীকষ কালো শান্তির মত ঘুম বা সুষুপ্তি হাতে গোনা কয়েকটা রাত জুড়ে থাকে । বেশীরভাগ রাতই দীর্ঘ গোটা একটা কিম্বা ভাঙা ভাঙা স্বপ্নের আনাগোনায় অনুভূতি মুখর ।

স্বপ্ন সেটা ভয়েরই হোক কিম্বা আনন্দের, ভাঙ্গে এবং সকাল হয় । কিছুটা সময় রেশ থেকে যায়, মনে ও পড়ে স্বপ্নটা অনেকটা সময় ধরে আবছা আবছা, ফিকে হতে থাকা । দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ আর অনুভূতির ভীড়ে মিশে যেতে থাকে, চাপা পড়তে থাকে স্বপ্ন ও তার অর্ধচেতন সুখ বা দুঃখ গুলো ।

তার পর আসে আরেকটা রাত ।

মানুষ ঘুমোতে যায় স্বপ্ন দেখবে জেনেও । মানুষ ঘুমোতে যায় এটা জেনেও যে কাল সকালে আবার ঘুম থেকে উঠতে হবে অদ্ভুত একটা হারিয়ে যাওয়া ভাব নিয়ে । মানুষ ঘুমোতে যায় স্বপ্নটা না শেষ হয়েই ভেঙ্গে যেতে পারে জেনেও ।

কারণ মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে । ব্রেণের ডিডাকটিভ অংশটার সাময়িক নিষ্ক্রিয় হওয়ার সুযোগে স্বপ্নের ঘটনা ও চরিত্রদের সত্যিকারের বিশ্বাস করতে ভালবাসে । কারণ মানুষ কোনো এক স্বপ্নের সত্যি হয়ে যাওয়ার আশায় বাঁচতে ভালবাসে ।

Wicca একটি অপভ্রংশের কাহিনী

উইচক্র্যাফট এখন উঠতি টিনেজ কলেজ বা একটু ইংলিশ ঘেঁষা স্কুলের বড় ক্লাসের ছেলে মেয়ে প্রধানতঃ মেয়েদের একটা বড় আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে । তারা সর্টকাটে কাজ হাসিল করা, মানে কোনো পছন্দের মানুষকে আকৃষ্ট করা, কেউ “বাওয়াল” করলে শক্তিতে তার সঙ্গে না পেরে উঠে অন্য উপায়ে তাকে জব্দ করা ইত্যাদির অলীক আশায় গুগল মামার সাজেস্টেড সার্চে বিভিন্ন “চ্যান্টিং”, “সার্কেল”, লাল নীল মোমবাতি নিয়ে গভীর মনযোগ দিয়ে বিভিন্ন ক্রিয়া কর্মের অভ্যাস করে যাচ্ছে । অনেকে আবার স্রেফ বন্ধুদের চোখে নিজেকে একটু অন্য রকম, একটু “হটকে” প্রমাণ করার জন্য উইচক্র্যাফটের চর্চা করছে । অদ্ভুত ব্যাপার হল যে এই বাচ্চাগুলি কিন্তু ভারতীয় তন্ত্র বা মোহিনী বা ডাকিনী বিদ্যা সম্বন্ধে তেমন ওয়াকিবহাল নয় । স্বাভাবিক ব্যাপার, কারণ এগুলির ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্যের যোগান গুগলে নেই । তাই এই উঠতি টিনেজ উইচরা তন্ত্রের ব্যাপারে প্রায় জ্ঞানহীন শুধু তাই নয়, তন্ত্রের চর্চা যারা করে তাদের এরা বেশ কিছুটা অবজ্ঞার চোখেই দেখে ।

দেখুন মশাই, আমি কিন্তু এখানে “সবই ব্যাদে আছে” অ্যাজেন্ডার প্রচার করতে আসিনি, নেহাত রাখাল আর রাজকণ্যার গল্প বুনতে বুনতে কলমটা হাঁপিয়ে গেছে তাই রাখাল একটু অন্য কিছুর খোঁজে। শুধু স্বার্থপর সুবিধাবাদী রাজকণ্যার কথা ভেবে জীবন কাটিয়ে দিলে কি চলবে ??? রাখালেরও তো একটা নিজস্ব পৃথিবী আছে, সেই পৃথিবীর কত অচেনা গলি, রাজপথে ঘোরা বাকি আছে, কত অ্যাডভেঞ্চার বাকী আছে হারানো দিনের গল্পের, ইতিহাসের খোঁজে । চলুন আজ রাখালের হাত ধরে সেরকমই একটা লতায় ঢেকে যাওয়া, ভুলে যাওয়া গলির সন্ধানে যাত্রা করা যাক ।

ভারতীয় প্রকৃতি উপাসনা যা মূলতঃ আফ্রিকা থেকে লক্ষ বছর আগে ভারতের দক্ষিণ উপকূলে আসা মানুষদের সঙ্গে ভারতের তন্ত্রীতে সঞ্চারিত হয়েছিল তাই তামসিক সাধনা রূপে পরে পরবর্তী উন্নততর স্বাত্বিক বা একেশ্বরবাদী ব্রহ্ম উপাসক আর্যদের দ্বারা লীপিবদ্ধ হয় । পরে আর্য উপাসনার মূল স্রোতের সঙ্গে এর মিশ্রণে একটি স্বতন্ত্র ধারা তন্ত্র নামে আত্মপ্রকাশ করে । এই তন্ত্র ছিল মূলত বস্তুতান্ত্রিক ও বামধর্মী । তন্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো কিছুর সংযম বা সাধন তখনই সম্ভব যখন বস্তুটিকে সম্পূর্ণ রূপে জানা যাবে । বৈদিক একেশ্বরবাদের মত এটি শুধু সবই এক এই বিশ্বাস নির্ভর উপলব্ধীতে সীমাবদ্ধ ছিল না । বরং তন্ত্র ব্যবহারিক পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃতির নিয়ম গুলি উপলব্ধী করতে ও তাদের কে আয়ত্ত করে নিজ কাজে ব্যবহার করতে উৎসাহ দিত । যে কারণে প্রাচীন তান্ত্রিক দের কিমীয়া বিদ্যা বা অ্যালকেমী জানা আবশ্যিক ছিল । তন্ত্র বিশ্বাস করত একটি মানুষ যদি রসগোল্লার মিষ্টত্ব কখনও আস্বাদনই না করে, যদি কখনও সঙ্গমের সুখ অনুভবই না করে তবে সে তার অস্থায়ীত্ব ও অসারতা বুঝবেই বা কী করে আর স্বরূপ উপলব্ধী করার মাধ্যমে তাকে সংযমই বা করবে কী করে ।

তন্ত্রের কীমিয়া ও আয়ুর্বেদ অংশটি কোনো এক অজানা পথ ধরে একসময় ইউরোপে পৌঁছায় (সম্ভবতঃ ইজিপ্ট হয়ে) এবং বিভিন্ন রূপান্তর ও স্থানীয় প্রকৃতি উপাসনার অলৌকীকতা আরোপিত হয়ে উইক্কা নামে আত্মপ্রকাশ করে । মনযোগ দিয়ে দেখলে আজও তন্ত্রের নানা অবশেষ উইক্কার মধ্যে খুঁজে পাবেন । যদিও সেগুলি এতটাই পরিবর্তিত যে প্রায় চেনাই যায়না ।

উইক্কান সার্কেল বা গ্রীড আসলে স্থন্ডীল বা যন্ত্রমের পরিবর্তীত রূপ, এছাড়াও হেক্সিং – মারণ উচাটন, বশীকরণ, এরকম আরও অনেক কিছু খুঁজলেই পাওয়া যাবে যা আসলে তন্ত্রের ক্ষীণ স্মৃতিচিহ্ন । তবে তন্ত্রের সঙ্গে উইক্কার কিছু মূল ভাবগত পার্থক্য আছে । উইক্কা মূলত বিভিন্ন অলৌকিক প্রাকৃতিক শক্তির আয়ত্তকরণ ও নিজ প্রয়োজনে তাদের ব্যবহারের কথা বলে । কিন্তু তন্ত্র বলে উল্টো কথা । শক্তির প্রাপ্তীর মাধ্যমে ও তাকে স্বেচ্ছায় পরিহারের মাধ্যমে রিপু সংযম তথা আমিত্বের নাশ বা চরম সত্যের উপলব্ধির কথা বলে তন্ত্র । তন্ত্র পথের সাধনায় অলৌকিক শক্তি বা সিদ্ধাই অন্তরায় স্বরূপ । যদিও কিছু নীম্নস্তরের তান্ত্রিক মূলতঃ এই শক্তিগুলি পাবার জন্যই সাধনা করে থাকে । কিন্তু তাকে প্রকৃত সাধনা বলেনা এবং সেই ব্যক্তিকে গুণীন ওঝা বা ডাইন বলে চিহ্নিত করা হয়, যোগী বা সাধক নয় ।

আজ এখানেই কলম থামালাম, আপনাদের ভাল লাগলে পরে তন্ত্র ও উইক্কার বিভিন্ন বিভাগ গুলি নিয়ে আলোচনা করা যাবে ।