অর্ধচেতন সুখ বা দুঃখ

স্বপ্নহীন নীকষ কালো শান্তির মত ঘুম বা সুষুপ্তি হাতে গোনা কয়েকটা রাত জুড়ে থাকে । বেশীরভাগ রাতই দীর্ঘ গোটা একটা কিম্বা ভাঙা ভাঙা স্বপ্নের আনাগোনায় অনুভূতি মুখর ।

স্বপ্ন সেটা ভয়েরই হোক কিম্বা আনন্দের, ভাঙ্গে এবং সকাল হয় । কিছুটা সময় রেশ থেকে যায়, মনে ও পড়ে স্বপ্নটা অনেকটা সময় ধরে আবছা আবছা, ফিকে হতে থাকা । দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ আর অনুভূতির ভীড়ে মিশে যেতে থাকে, চাপা পড়তে থাকে স্বপ্ন ও তার অর্ধচেতন সুখ বা দুঃখ গুলো ।

তার পর আসে আরেকটা রাত ।

মানুষ ঘুমোতে যায় স্বপ্ন দেখবে জেনেও । মানুষ ঘুমোতে যায় এটা জেনেও যে কাল সকালে আবার ঘুম থেকে উঠতে হবে অদ্ভুত একটা হারিয়ে যাওয়া ভাব নিয়ে । মানুষ ঘুমোতে যায় স্বপ্নটা না শেষ হয়েই ভেঙ্গে যেতে পারে জেনেও ।

কারণ মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে । ব্রেণের ডিডাকটিভ অংশটার সাময়িক নিষ্ক্রিয় হওয়ার সুযোগে স্বপ্নের ঘটনা ও চরিত্রদের সত্যিকারের বিশ্বাস করতে ভালবাসে । কারণ মানুষ কোনো এক স্বপ্নের সত্যি হয়ে যাওয়ার আশায় বাঁচতে ভালবাসে ।

Wicca একটি অপভ্রংশের কাহিনী

উইচক্র্যাফট এখন উঠতি টিনেজ কলেজ বা একটু ইংলিশ ঘেঁষা স্কুলের বড় ক্লাসের ছেলে মেয়ে প্রধানতঃ মেয়েদের একটা বড় আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে । তারা সর্টকাটে কাজ হাসিল করা, মানে কোনো পছন্দের মানুষকে আকৃষ্ট করা, কেউ “বাওয়াল” করলে শক্তিতে তার সঙ্গে না পেরে উঠে অন্য উপায়ে তাকে জব্দ করা ইত্যাদির অলীক আশায় গুগল মামার সাজেস্টেড সার্চে বিভিন্ন “চ্যান্টিং”, “সার্কেল”, লাল নীল মোমবাতি নিয়ে গভীর মনযোগ দিয়ে বিভিন্ন ক্রিয়া কর্মের অভ্যাস করে যাচ্ছে । অনেকে আবার স্রেফ বন্ধুদের চোখে নিজেকে একটু অন্য রকম, একটু “হটকে” প্রমাণ করার জন্য উইচক্র্যাফটের চর্চা করছে । অদ্ভুত ব্যাপার হল যে এই বাচ্চাগুলি কিন্তু ভারতীয় তন্ত্র বা মোহিনী বা ডাকিনী বিদ্যা সম্বন্ধে তেমন ওয়াকিবহাল নয় । স্বাভাবিক ব্যাপার, কারণ এগুলির ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্যের যোগান গুগলে নেই । তাই এই উঠতি টিনেজ উইচরা তন্ত্রের ব্যাপারে প্রায় জ্ঞানহীন শুধু তাই নয়, তন্ত্রের চর্চা যারা করে তাদের এরা বেশ কিছুটা অবজ্ঞার চোখেই দেখে ।

দেখুন মশাই, আমি কিন্তু এখানে “সবই ব্যাদে আছে” অ্যাজেন্ডার প্রচার করতে আসিনি, নেহাত রাখাল আর রাজকণ্যার গল্প বুনতে বুনতে কলমটা হাঁপিয়ে গেছে তাই রাখাল একটু অন্য কিছুর খোঁজে। শুধু স্বার্থপর সুবিধাবাদী রাজকণ্যার কথা ভেবে জীবন কাটিয়ে দিলে কি চলবে ??? রাখালেরও তো একটা নিজস্ব পৃথিবী আছে, সেই পৃথিবীর কত অচেনা গলি, রাজপথে ঘোরা বাকি আছে, কত অ্যাডভেঞ্চার বাকী আছে হারানো দিনের গল্পের, ইতিহাসের খোঁজে । চলুন আজ রাখালের হাত ধরে সেরকমই একটা লতায় ঢেকে যাওয়া, ভুলে যাওয়া গলির সন্ধানে যাত্রা করা যাক ।

ভারতীয় প্রকৃতি উপাসনা যা মূলতঃ আফ্রিকা থেকে লক্ষ বছর আগে ভারতের দক্ষিণ উপকূলে আসা মানুষদের সঙ্গে ভারতের তন্ত্রীতে সঞ্চারিত হয়েছিল তাই তামসিক সাধনা রূপে পরে পরবর্তী উন্নততর স্বাত্বিক বা একেশ্বরবাদী ব্রহ্ম উপাসক আর্যদের দ্বারা লীপিবদ্ধ হয় । পরে আর্য উপাসনার মূল স্রোতের সঙ্গে এর মিশ্রণে একটি স্বতন্ত্র ধারা তন্ত্র নামে আত্মপ্রকাশ করে । এই তন্ত্র ছিল মূলত বস্তুতান্ত্রিক ও বামধর্মী । তন্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো কিছুর সংযম বা সাধন তখনই সম্ভব যখন বস্তুটিকে সম্পূর্ণ রূপে জানা যাবে । বৈদিক একেশ্বরবাদের মত এটি শুধু সবই এক এই বিশ্বাস নির্ভর উপলব্ধীতে সীমাবদ্ধ ছিল না । বরং তন্ত্র ব্যবহারিক পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃতির নিয়ম গুলি উপলব্ধী করতে ও তাদের কে আয়ত্ত করে নিজ কাজে ব্যবহার করতে উৎসাহ দিত । যে কারণে প্রাচীন তান্ত্রিক দের কিমীয়া বিদ্যা বা অ্যালকেমী জানা আবশ্যিক ছিল । তন্ত্র বিশ্বাস করত একটি মানুষ যদি রসগোল্লার মিষ্টত্ব কখনও আস্বাদনই না করে, যদি কখনও সঙ্গমের সুখ অনুভবই না করে তবে সে তার অস্থায়ীত্ব ও অসারতা বুঝবেই বা কী করে আর স্বরূপ উপলব্ধী করার মাধ্যমে তাকে সংযমই বা করবে কী করে ।

তন্ত্রের কীমিয়া ও আয়ুর্বেদ অংশটি কোনো এক অজানা পথ ধরে একসময় ইউরোপে পৌঁছায় (সম্ভবতঃ ইজিপ্ট হয়ে) এবং বিভিন্ন রূপান্তর ও স্থানীয় প্রকৃতি উপাসনার অলৌকীকতা আরোপিত হয়ে উইক্কা নামে আত্মপ্রকাশ করে । মনযোগ দিয়ে দেখলে আজও তন্ত্রের নানা অবশেষ উইক্কার মধ্যে খুঁজে পাবেন । যদিও সেগুলি এতটাই পরিবর্তিত যে প্রায় চেনাই যায়না ।

উইক্কান সার্কেল বা গ্রীড আসলে স্থন্ডীল বা যন্ত্রমের পরিবর্তীত রূপ, এছাড়াও হেক্সিং – মারণ উচাটন, বশীকরণ, এরকম আরও অনেক কিছু খুঁজলেই পাওয়া যাবে যা আসলে তন্ত্রের ক্ষীণ স্মৃতিচিহ্ন । তবে তন্ত্রের সঙ্গে উইক্কার কিছু মূল ভাবগত পার্থক্য আছে । উইক্কা মূলত বিভিন্ন অলৌকিক প্রাকৃতিক শক্তির আয়ত্তকরণ ও নিজ প্রয়োজনে তাদের ব্যবহারের কথা বলে । কিন্তু তন্ত্র বলে উল্টো কথা । শক্তির প্রাপ্তীর মাধ্যমে ও তাকে স্বেচ্ছায় পরিহারের মাধ্যমে রিপু সংযম তথা আমিত্বের নাশ বা চরম সত্যের উপলব্ধির কথা বলে তন্ত্র । তন্ত্র পথের সাধনায় অলৌকিক শক্তি বা সিদ্ধাই অন্তরায় স্বরূপ । যদিও কিছু নীম্নস্তরের তান্ত্রিক মূলতঃ এই শক্তিগুলি পাবার জন্যই সাধনা করে থাকে । কিন্তু তাকে প্রকৃত সাধনা বলেনা এবং সেই ব্যক্তিকে গুণীন ওঝা বা ডাইন বলে চিহ্নিত করা হয়, যোগী বা সাধক নয় ।

আজ এখানেই কলম থামালাম, আপনাদের ভাল লাগলে পরে তন্ত্র ও উইক্কার বিভিন্ন বিভাগ গুলি নিয়ে আলোচনা করা যাবে ।

রাখাল ও না খোলা খামের পাহাড়

প্রিয় রাজকুমারী,

তোমার দয়াপরবশতার ভিক্ষার মত করুণায় ছুঁড়ে দেওয়া চিঠি লেখার সম্মতির জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

আসলে কি করা যাবে বল, সেই কোন ছোট্ট বেলা থেকে মনের সব কথা – অনুভুতি পরস্পরের সাথে ভাগ করে নেওয়া আমাদের অভ্যাস ।
না না ভুল বললাম, আমাদের নয়, কারণ তুমি তো এই অভ্যাসটা কবেই ঝেড়ে ফেলেছ, ঠিকই করেছ, দৈন্যসর্বস্ব তুচ্ছ মানুষরা পরজীবীর মত, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বদ অভ্যাস না থাকাই তো ভাল ।

যাই হোক, তবু একতরফা বার্তা পাঠানোরও একটা স্বস্তি আছে, ছবির সঙ্গে কথা বলে যাওয়ার থেকে অন্ততঃ এ অনেক অনেক ভাল । আমার পাঠানো চিঠির খামে তোমার হাতের স্পর্শ লাগছে, এতেই আমার শান্তি । সে যতই তোমার প্রাসাদের পিছনের আস্তাকুড়ে না খোলা খামের পাহাড় জমা হোক না কেন ।

এমন দয়াটুকুই বা কে করে বল । ছোট্ট বেলার সেই তুচ্ছ কয়েকটা বৈঁচি ফল আর বুনো ফুলের মালার প্রতিদানে তোমার এত করুণা ! … সত্যিই তুমি যথার্থ রাজকুমারী ।

রাজকুমারী, তোমার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই আমার, এমনকি কোনো অভিমান ও না । সে যা ছিল সেসব মান অভিমান তুলে রাখা আছে তোমার ছোটবেলার জন্য ।

আবার যদি কোন দিন কুয়াশা ভরা মাঠের ধারে সেই ছোটোবেলায় ফিরে যাই অন্য কোন জন্মে, যদি আবার দেখা হয় ভীষণ মিষ্টি এক ছোট্ট রাজকুমারীর সঙ্গে এক ছোট্ট রাখাল বালকের । রাজরক্ত বা সাধারণের পরিচয়ের খোলস ফেলে রেখে সবুজ ঘাসের ওপর, সেই দিন হিসেব হবে যত মান অভিমানের ।
এখন যে আমি শুধুই এক মেঠো লোক, রাজকুমারীর করুণাভিক্ষুক ।

তবে রাজকুমারী তোমার জন্য বড্ড চিন্তা হয় আজকাল । সময় যে তার খাতার পাতায় পাতায় কালপ্রবাহে ভেসে যাওয়া শুকনো পাতাদের তুলে রাখে যত্ন করে ।
তাদের প্রতিটি হিসেব লেখা থাকে খাতার তলায় ।

রাজকুমারী, তোমার নিষ্ঠুরতা, তোমার অবজ্ঞা যে তোমার দিকেই অমোঘ গতিতে ফিরে আসছে, তুমি তার পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছ কী ? অন্য কোনো আয়না থেকে বিচ্ছুরিত প্রতিফলন যে একদিন ছুঁয়ে ফেলবেই তোমাকে তোমার অজান্তে।

সেদিন যদি লাল কমলের নীল কমলের দেশে ফিরে যাও রূপকথা আর রাখালিয়া সুরের খোঁজে, বুলডোজার আর বৈদ্যুতিক করাতের শব্দে নতুন ঠিকানা শুনতে পাবে তো ??? অচীনপুরের রাস্তায় ওঠা বড় বড় ফ্ল্যাটের আর আই টি নগরের স্কাইস্ক্র্যাপারে দাঁড়িয়ে মাটি ছুঁতে পারবে তো ??? শিকড়টা … ???

ইতি,

তোমার ছেলেবেলার

রাখাল

সেতু

তোমাকে কখনও কোনো অভিশাপ দিই নি, কেনই বা দেব ?

শুধু সেফটি পোস্টার আটকাই দেওয়ালে …

তোমার ভাবনারা না একদিন জোট বেঁধে খুঁজে পায় সেতু

তোমার সিদ্ধান্তেরা না তোমারি দিকে অস্ত্র ধরে …

কেনই বা

কেনই বা বার বার ছবি গুলো দেখি …
কেনই বা কমেন্টস পড়ি ……
কেনই বা খারাপ লাগে ……

বুঝিও না, বোঝার যে খুব আগ্রহ আছে তা নয় …

আজ আবার অ্যালজোলাম …

ইনকমপ্যাটিবিলিটি

তোমার অনেক ফটো দেখছি, সেভ করছি হার্ড ড্রাইভে । যেমন করেছি গত প্রায় ১ বছর। কেন করছি নিজেই জানিনা । কী হবে এগুলো দিয়ে তাও জানিনা ।

অনেকটা ছুঁড়ে ফেলা নাক থ্যাবড়ানো, গাল তোবড়ানো ছোটো বেলার টিনের পুতুলের জঞ্জালের মত । দেখি, কারণ চোখ টা আটকে গেছে বাইরের রোদ বৃষ্টিতে জং ধরে, বন্ধ হয়না ।

মানুষ আশায় বাঁচে । সেই ক্ষীণ আশাটাও আজকাল অশরিরী । কারণ স্পষ্ট হয়েছে আমার দৈন্য, আমার দূরত্ব, আমার ইনকমপ্যাটিবিলিটি, আমার অপ্রাসঙ্গিকতা ।

তবে জান, তুমি একটা কথা বড্ড ভুল বলেছিলে । আমি স্বার্থশূণ্য নই গো । সত্যিই যদি সেটা হতাম তাহলে প্রতিদিন অফিস থেকে ক্লান্তি জড়িয়ে ফিরে তোমার প্রোফাইলে উঁকি মেরে নিজের কষ্ট গুলোকে খুঁচিয়ে তুলতাম না, বরং তোমার আনন্দময় জীবনে উত্তরণ, তোমার নিজেকে মিথ্যে বোঝানোর চার বছরের শেকল কেটে বেরোনো দেখে খুশী হতাম । হাসতে হাসতে ঘুমোতে যেতাম ।

নুন নেই

কিছু অস্বাভাবিক নৈকট্যে তুলনা করি, ফিরে দেখি বছর দুয়েক
কিছু উদ্গত অস্ফুট অভিশাপ জোড় করে গিলে নিই অভ্যস্ত উদারতায়

সাড়ে আটটার ব্যারাকপুরে স্মৃতি পায়ে দলে স্টেশন অফিস
আলু কিলো তিন টাকা, আমার ঘরে ডি.ডি.টি. বা নুন নেই ।

ট্রেনে আড়চোখ , চুরি করে দেখা
পাশাপাশি ছেলে মেয়ে মৃদু হাসি, চিমটি …

আমার সাড়ে নটা, ঘাম ডিও বাস,
ছত্তীশগড়ের টয়লেটে মেয়েটা আছড়ে ফেলতে চায় বারবার গুঁজে দেওয়া পুরুষতান্ত্রিক পাথর ।

আলু তিন টাকা কিলো, আমার ঘরে ডি.ডি.টি. বা নুন নেই …

ভোর ৪টে ৪

যদি ঘুমের মাঝে স্বপ্নে তাকে পাওয়া যায় একদম সেই আগের মত করে ? আর ঘুম ভাঙ্গে এক বুক শূন্যতা নিয়ে … বাস্তবে । সে যে আমার থেকে অনেক দূরে, মনে পড়ে যায়, তার আনন্দউচ্ছল জীবনে আমার অস্তিত্ব অপ্রাসঙ্গিক ।

তবে সেই স্বপ্নকে কী বলবে ? সুস্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন ?

যত রাতেই ঘুমোতে যাইনা কেন, প্রতিদিন একই সময় হঠাৎ করেই ভেঙ্গে যাচ্ছে ঘুমটা । ভোর ৪টে ৪ । চোখের কোন গুলো আবারও ভিজে গেছে আজ ।