অন্য রূপকথা …

বুইলেন, সে অনেক অনেএএএএএএক দিন আগের কথা … । রাজপুত্তুর তো চলেছে তার অপহৃত রাজকণ্যার খোঁজে । বহু সন্ধানে সে জানতে পেরেছে রাজকণ্যা বেচারী বন্দী হয়ে আছে রাক্ষসদের ঘুমপুরীতে । রাক্ষসরা না থাকলে ঘুমোয় রাজকণ্যা । মায়া ঘুম । মাথার কাছে সোনারকাঠি আর রূপোর কাঠি ।

দিনের পর দিন হেঁটেও ফুরোতে চায় না পথ । কত পাহাড় নদী বন পেরিয়ে চলেছে রাজপুত্র । তবু পথের দিশা যেন ওলটপালট না হয়ে যায় । চন্দন বন, তামার পাহাড়, সোনা বালির নদী পেরিয়ে রাজপুত্র এসে পৌঁছল নদীর ধারে বিশাল গোলাপবনে । এট্টু হাই টাই অনেক্ষণ ধরেই উঠছিল রাজপুত্তুরের । গোলাপডালের কাঁটা বাঁচিয়ে একটু লম্বা হয়ে নিল রাজপুত্তুর । ঘুম ভাঙল সন্ধ্যে পেরিয়ে, রাত পেরিয়ে সেইই সক্কালবেলায় । তাও অত ভোর ভোর ঘুম ভাঙত না রাজপুত্তুরের । মখমলের বিছানা নেই বলেই হয়ত, না শুধু তাই নয়, আরও একটা ব্যাপার আছে । রাজপুত্তুরের মুখের উপর ঝুঁকে আছে, না না , ভুল বলা হল, বলা উচিত ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে একজোড়া টানাটানা চোখ । ভাবটা অনেকটা “পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ” টাইপের ।

তা যাই হোক, রাজপুত্তুর তার উদ্দেশ্য সবিস্তারে ব্যাক্ত করার সময় রাজকণ্যার বিরহে নাকি বীরত্বের উৎসাহে লক্ষ্যই করল না প্রেমসিক্ত দুটি কাজলনয়ণা দৃষ্টি আস্তে আস্তে বাষ্পাকুল হচ্ছে আবার লুকোচ্ছে আঁচলের শুকনো কাপড়ে । হয়তবা ঐ কেলে বদন দেখেই রাজপুত্তুরের অত প্রেম ফ্রেমের কথা মাথায় আসেনি ।

এই কৃষ্ণকলি কি মায়াবিনী ? রাজপুত্র একবার ভাবল, তার পর ভাবল তলোয়ার তো আছে, চিন্তা কি । এদিকে আঁচল ভরে আনা ফল আর মিষ্টি জলে রাজপুত্তুরের আপ্যায়ণে ত্রুটি হল না কিন্তু । সন্ধ্যে হব হব এমন সময়ে রাজপুত্রকে রাক্ষসপুরীর সন্ধান দিয়ে আর কখন রাক্ষসরা ঘুমোয় সেটা বলে দিয়ে চলে গেল কৃষ্ণকলি । আর যে তার থাকার হুকুম নেই । যাওয়ার সময় আঁচল ভরে নিয়ে গেল গোলাপের পাপড়ি । গোলাপ যে তার বড্ড প্রিয় ।

ইদিকে পরের দিন সক্কাল বেলা রাজপুত্তুর মালকোঁচা মেরে রওনা হল রাক্ষসপুরীর দিকে । পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় বিকেল হয়ে গেল । তারপর রাক্ষসদের প্রাণ ভোমরা চুরি, রাজকণ্যার ঘর খুঁজে বার করা ইত্যাদি ঝক্কিতে আরও খানিকটা সময় চলে গেল ।

রাজকণ্যার ঘরে রাজকণ্যাকে পাওয়া গেল । তবে ঘুমন্ত নয় । কানে হেডফোন দিয়ে খাটে বসে ঠ্যাং নাচানো অবস্থায় । রাজপুত্রর তো এসব দেখে সেরিব্রোটেস্টোবনবনাইটিস কন্ডীশান । রাজকণ্যা তাকে দেখে বলল, “আরে এই উদগান্ডু, তুই এখানে কি করতে এসেছিস ? হাতে ওটা কি দেখি দেখি …”

শকড রাজপুত্র মন্ত্রমুগ্ধের মত এগিয়ে গিয়ে কৌটোটা দিতেই রাজকণ্যা কৌটো খুলে ভোমরাটাকে উড়িয়ে দিল । আর বলল “এবার যা ভাগ, এখানে কি করতে এসেছিস ? আমাকে ফেরানোর মতলবে হলে নিজের ইয়ে নিজেই মারছিস । আমি যাব টাব না । এখানে দিব্বি আছি, সারাদিন রোল বার্গার কাটলেট খেতে পাচ্ছি, দেশে তো ওই শুধু পোজ দিয়ে সিংহাসনে বসা আর সারাদিন শাকপাতা খাওয়া । এখানে অনেক ভাল আছি । ফিরে যা, এখানে ক্যারদানী মারতে এসে লাভ হবেনা । রাক্ষসরা এক্ষুনি জাগল বলে, তারপরে আমি তাদের সাথে লুডু খেলতে বসব । তোকে দেখলে কিন্তু খবর আছে । ”

ব্যাস বাদানুবাদ শুরু হয়ে গেল, যুক্তি পাল্টাযুক্তি, গা জোয়াড়ী, খিস্তোখিস্তির অযৌক্তিক তর্ক । তর্ক প্রায় বোথসাইডেড ব্রেকাপের কাছাকাছি কন্ডীশনে চলে গেলেও রাজপুত্তুর বা রাজকণ্যে কেউই লক্ষ্য করল না যে ঘড়িতে ছটা বাজতে আর মিনিট খানেক দেরী । রাক্ষসরা জাগল বলে ।

ওদিকে মতিচ্ছন্ন ভোমরাটা বার কয়েক ভোঁ ভোঁ করে রাজপুত্রের মাথার চার পাশে ঘুরে তার পর মনে হয় মুক্তির দরজা ভেবে ভুল করে লাফ দিল ঘরে জ্বলা মোমবাতির আগুণে । রাজপুত্র রাজকণ্যে ঝগড়ায় ব্যস্ত থাকায় খেয়ালই করল না ।

কিন্তু ঝাঁপ দেওয়া মাত্রই বাইরে থেকে ভেসে আসতে লাগল রাক্ষসদের মরণ আর্তনাদ “বাবারে, মরে গেল্লুম র‍্যে, কে কল্লি বটেক , জীয়ন্ত চিবায় খাব্ব” ইত্যাদি । অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ঠান্ডা । কেউ দেখল না মোমবাতির গোড়ায় পড়ে রইল শুধু এক চিমটে ভোমরা পোড়া ছাই আর কটা গোলাপের পাপড়ি ।

রাজকন্যা রাজপুত্রের ঝগড়া ওদিকে শেষ হয়েছে । রাজপুত্র অ্যাবাউট টার্ণ করে রওনা হয়েছে নিজের দেশের দিকে । আর রাজকণ্যার কি যে হল … মানে বার্গার কাটলেট তো দূরের কথা, শাকপাতাও আজকাল জুটছে কিনা তার খবর পাওয়া যায়নি ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s