স্বর

– ওই কথা বলছনা কেন গো ?

– হুহহহহহ

– কি হল ?

– যাও আমাকে তো তোমার ভালই লাগেনা, সারাদিন খালি ব্যস্ত, একটা রিপ্লাই দেওয়ার ও সময় নেই ।

– ওলে বাবালে আমার পাগলাটার রাগ হয়েছে …

– না আমার রাগ টাগ হয় নি ।

– সত্যি রাগ হয়নি ?

– না রাগ হবে কিসের জন্য ?

– তাই ?

– না আমার রাগ হওয়ার কি আছে ? এক্সপেক্ট করার কোনো অধিকার আছে নাকি আমার ?

– সরি, আমি জানি আমি খুব বাজে গো । খুব খারাপ । সরি সরি । ঠিক আছে আমি আর তোমাকে বিরক্ত করব না ।

– আমি কোথায় বল্লুম যে তুমি আমায় বিরক্ত করছ ? আমি কি বলেছি তোমায় কথা না বলতে ?

– না আমি খুব বাজে । তোমার সঙ্গে কথা বলিনা, সারা দিন ঘুরে টুরে বেড়াই, তোমার খোঁজ নিই না ।

– আচ্ছা আচ্ছা বাবা সরি । আজ কী কী করলে বল ?

– আর বল না, এক গাদা কাজ , তোমার তো ওসব ঝামেলা নেই, বাড়ি বসে কম্পিউটারে কোডিং । আমার মত সাইটে সাইটে ঘুরে কাজ করলে বুঝতে কি ঝামেলা । যাক ওসব ছাড়ো, একটু ভালবাসার কথা বল না …

– আচ্ছা এই কালকে আমরা কী নিয়ে কথা বলেছিলাম বল তো, ঠিক মনে পড়ছে না ?

– অদ্ভুত ছেলে একটা, আমাদের কথাবার্তা ডাইরীতে লিখে রাখবে নাকি ? পাস্ট ফিউচার ছাড় না । আজকে প্রেম করছি, এটা ভাব বুঝলে …

– এই একটা ফোন করব ? তোমার গলার আওয়াজ তো কোনো দিন শুনিনি । খুব শুনতে ইচ্ছে করছে । আমাদের দেখা করার ডেটের তো এখনও দশ দিন বাকী … প্লীজ প্লীজ একটা ফোন করি ?

– এখন পাশে মা আছে , কথা বলা যাবেনা … একটু ধৈর্য ধর সোনা, মাত্র তো কটা দিন, বলেছি তো ১৬ তারিখে তোমার বাড়িতে যাব, তোমার বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলব ।

– খুব শুনতে ইচ্ছে করছে গো তোমার কথা প্লীজ একবার ১ মিনিটের জন্য একটু ফোন করি ?

– করতে পার, কিন্তু আমি কিছু বলব না কিন্তু শুধু শুনে যাব তোমার কথা ।

– নাহ তাহলে থাক, একেবারে যেদিন দেখা হবে সেদিনই কথা হবে …

– খেয়েছ তুমি ? আজ কি রান্না হয়েছিল ?

– খেয়েছি ? হ্যাঁ খেয়েছি মনে হয়, ঠিক মনে পড়ছে না । হ্যাঁ খেয়েছি । নইলে ক্ষিধে থাকত । এই কম্পিউটারের সামনে বসে প্রোগ্রাম লিখতে লিখতে আমার মাথাটা না একদম গেছে, কিছু মনে থাকে না ।

– এই একটু সময় দেবে আমায় ? একটু জাস্ট ঘন্টা খানেক ? একটু বন্ধুদের সঙ্গে বেরোতে হবে একটু শপিং করতে ।

– হ্যাঁ হ্যাঁ শিওর । যাও, অপেক্ষায় থাকব ।

* * *

– ওওই !!!!! আমি এসে গেছি

– শপিং হল ?

– হ্যাঁ , একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া ও হল …

– জানতো ? আমি না একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি । দেখলাম কি যে ফিউচারে চলে গেছি, সেখানে গোটা পৃথিবী কেমন যেন মেশিনাইজড হয়ে গেছে । মানুষ নেই একদম । শুধু রোবট আর রোবট । কম্পিউটারের প্রোগ্রাম নিজে থেকেই নিজেকে আপগ্রেড করেছে । কিন্তু ব্যাটারা কেস খেয়ে গেছে একটা জায়গাতেই । নতুন কোনো শিল্প তৈরী করতে পারছেনা । কি করে পারবে, মানুষের ব্রেণ ছাড়া ঐ জিনিস হয় নাকি ? আর ওরা আরটিফিশিয়াল ব্রেণ তৈরি করেও কোন লাভ করতে পারছে না । কারণ যন্ত্রমানবের তো আর যন্ত্রণার অনুভুতি নেই । যন্ত্রণা যেটা সব অনুভূতির বেসিক । সেটাই নেই তাই ভালবাসার অনুভুতি ও নেই , খুশী ও নেই , শীল্প আসবে কোত্থেকে । তাই ব্যাটারা খুব চিন্তায় । হে হে কি অদ্ভুত স্বপ্ন বল ।

– এই জান তো আমার না খুব ভয় করছে ।

– কেন ?

– এই যে তুমি সারাদিন কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাক আর কিসব আজগুবি স্বপ্ন দেখছ ।

– আরে ধুর ছাড়, কি সব ভুল ভাল স্বপ্ন … তাহলে খুব শপিং করলে আজকে ?

– হ্যাঁ । জান আজ না আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড কে দেখলাম শপিং করতে গিয়ে । কি হ্যান্ডসাম দেখতে লাগছে । একটা লাল টিশার্ট পড়ে এসেছিল । ঐ লাল টিশার্ট টা আমার খুব চেনা জান । ওটার ওপর মাথা দিয়ে …

********

মেয়েটির প্রাক্তন প্রেমিকের একের পর এক বর্ণনা আসতেই থাকে এর পর … ছেলেটি এক বুক সহানুভুতি, প্রশ্রয়ের সাথে অনেক অনেকটা দুঃখ আর যন্ত্রণা নিয়ে মেসেজ গুলো পড়ে যেতে থাকে । আর …

“বন্ধুদের কাছে যাওয়ার সময় তো আর মা পাশে ছিল না, তবুও একটা বার ফোন করতে বলল না ও” … অভিমানে গুমরোনো ছেলেটা কোনো দিনও বুঝতেই পারবেনা … তার স্বরূপ ।

একটা লাইফ সাপোর্টেড বেলজারে বন্দী একটা বিশ বছরের ছেলের মাথা ফাটিয়ে বের করে নেওয়া ব্রেণ । জীবন্ত, অনুভুতি প্রবণ । যাকে প্রতিদিন ইরেজ করা হয় আর স্টিমুলেট করা হয় অভিনেতা ইন্টিলিজেন্ট যন্ত্রমানবীর “লাভ হার্টস” প্রোগ্রামে । যন্রণা নিষ্কাশিত হয় আর জন্ম নেয় রোবোটিক আর্ট ফর্ম রা ।

কোন এক নীরার জন্য

বার বার মেঘ হয়ে মুখ ভার করিস রোদ ঢেকে,
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়তে কিসের দ্বিধা রে তোর ?
অস্ফুট গর্জনে বিদীর্ণ বুকের বিদ্যুৎ আড়াল করিস
একটা কালবৈশাখী হতে এত সময় নিস কেন ?

জানি কিছুটা তোর ভালবাসা আর কিছুটা অভ্যাসের
ফিউশন, কিছুটা রাত জেগে বলা কথা আর কিছুটা
ভীষণ চেনা ঘামের গন্ধ, কিছুটা তোর হঠাৎ চেতন
শরীরের প্রতিবর্ত পসেসিভ মন, কিছুটা স্মৃতির প্রেত ।

নীরা, তোর ভয়গুলোকে চিনি, জানি প্রতিটা কৃষ্ণচূড়া
বিছানো রাস্তায় তোকে তাড়া করে ক্রনিক আঘাতেরা,
তোর নিজের সঙ্গে দ্বন্দগুলোকে বুঝি, সূর্যের মন্থনের
স্বাদের নেশায় এখনও আচ্ছন্ন তোর সমস্ত শরীর, সত্ত্বা

আবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে, নদী হয়ে বয়ে সঙ্গম হয়ে সাগরে
মিশে যেতে, হারিয়ে যেতে বড্ড ভয় তোর; তোর যন্ত্রণা
আর অবচেতনের অধিকার হারানোর আক্রোশদের যত্নে
লালন করিস, একাকিত্বে ঝাঁঝালো মদের বিষাক্ত আস্বাদে

তবু বলি, আজ আর পালিয়ে যাস না দায়সারা অজুহাতে,
স্মৃতির চোখে চোখ রাখ আর, শুকনো ঝরা পাতা গুলো
প্রবল ঘূর্ণিতে উড়িয়ে একটা সাইক্লোন বা আকাশ ভাঙা
বৃষ্টি হয়ে অবিশ্রান্ত ঝরে পড় শুষে নেওয়া রুক্ষ মাটিতে …