রবীন্দ্র জন্মদিবস

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিবস … “বাঙালী মননে রবীন্দ্রসাহিত্য” গোছের কিছু একটা লিখলে বোধহয় মানাত । কিন্তু আমি মাইরি পাগলাচো- পাবলিক তাই কটা ভুলভাল ভাট না লিখে পারছি না ।

কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে, যাদের অনেকের নামই আবার রবীন্দ্র রচনা থেকে নেওয়া, রবিন্দ্রানুরাগী কিনা জানিনা তবে ভীষণ রাগী প্রকৃতির রামচাঁটিতে পিষে যাওয়া কিছু পাহাড়ি মানুষের জন্য দিন নেই , দুপুর নেই, সন্ধ্যে নেই ত্রাণ সংগ্রহ করেই চলেছে । বহু মানুষ যেমন স্রেফ হাঁকিয়ে দিচ্ছে তেমনই অনেকে পরম মমতায় সাধ্যমত ভালবাসা রেখে যাচ্ছে হাতে ধরা পিচবোর্ডের বাক্সগুলোয়, নেপালের মানুষ গুলোর জন্য । আমার এখনকার বলার কথাগুলি এঁদের উদ্দেশ্যে নয় …

আজ আমার বলা সেই সব মানুষদের প্রতি … একই লোকেশনে আলাদা তারিখে ত্রাণ সংগ্রহের সময় যাঁরা বলছেন “কালকে তো দিয়েছি …”

প্রথমেই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চাই আর বলতে চাই আপনাকে দেখে এই ভেবে গর্ব হচ্ছে যে আমাদের চারপাশে এখনও প্রকৃত মানুষেরা রয়েছেন, যাঁরা নিজের ব্যক্তিগত সুখ সুবিধার বাইরে গিয়ে একটু হলেও অন্যের কথা ভাবেন ।

কিন্তু দাদা / দিদি এখানেই কি আপনার সব দায়িত্ব শেষ ? একটা কথা ভেবে দেখেছেন কি এরকম আর কত দিন ? একটা নেপাল হয়েছে, আরেকটা গুজরাট কিম্বা কলকাতা কিন্তু যে কোনো দিন হতে পারে । তাই শুধু অর্থসাহায্য নয় । চাই সার্বিক সচেতনতার প্রসার । যে সচেতনতা শুরু হতে হবে আপনার থেকেই । কিভাবে সচেতনতা প্রসার করবেন তার কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই । যদি সত্যিই পৃথিবীর সৌম্য সুন্দর রূপ ধরে রাখতে চান, তবে নিজে জানার চেষ্টা করুন কিসের জন্য প্রকৃতি আর এই রুদ্র-ক্ষমাহীন রূপে সজ্জিতা । গুগল আছে, বই আছে আর একটা কমন সলিউশন রয়েছে ।
নেপালের মানুষদের স্মৃতিতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে “আমরা সমব্যথী” গোছের ফ্লেক্স না লাগিয়ে, মোমবাতি মিছিল না করে । নেপালের দুর্ভাগা মানুষ গুলোর স্মৃতিতে একটা করে অন্তত গাছ লাগান আর তার রক্ষণাবেক্ষণ করুন, যাতে এখনও বেঁচে থাকা মানুষগুলোকেও অকালে চলে যেতে না হয় ।

রবিঠাকুরের জন্মদিনের লেখা তে একটা কোটেশন-টোটেশন না দিলে আবার নম্বর কাটা যাবে … তাই এটা দিয়েই শেষ করলুম —

“দাও ফিরে সে অরণ্য, লহ এ নগর
লও যত লৌহ লোষ্ট্র, কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নব সভ্যতা …”