লেয়ার

অনেক দিন হল বাসগুলো নতুন ইউনিফর্ম পেয়েছে, আকাশী কালারের মাঝে হলুদ বেল্ট । কিন্তু বালি হল্ট থেকে উল্টোডাঙ্গা যাওয়া এই বাসটা হয়ত বা দারিদ্রে কিম্বা অভ্যাসে শুধু মুখে ছাড়া সারা শরীরের অন্য কোথাও রঙ মাখেনি । লরঝরে বাসটায় লোকও বেশী নেই, ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিক ওদিক বসে ।

কন্ডাক্টর মন দিয়ে নোট গুলো গুণে গুণে সাজাচ্ছে ।

দরজার ঠিক পেছনের সিটে বসা দুই মহিলা ইটিভি বাংলায় চলা সিরিয়ালটায় শাশুড়িটা কি শয়তান সেই আলোচনায় মশগুল ।

বাসের ঠিক সামনের দিকের সিটে বসা লাল টুকটুকে ফ্রক পরা বাচ্চা মেয়েটার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ মানুষটি । বার বার প্রাণ ভরে দেখেও যেন প্রাণ ভরছে না । আহা ঠিক যেন রুণু । অমনই তো ছিল মেয়েটা । অমনি ছটফটে, হাসি খুশী । সে কত দিন আগের কথা ।

গল্পরত দুই মহিলার ঠিক পিছনের সিটেই বসে আছে ফরসা, পাতলা চেহারার এক তরুণী । হাতে ঢাউস মোবাইল আর কানে হেডফোন । একটা কালো টি শার্ট আর অগোছালো ভাবে পরা একটা স্কার্ট । হাঁটুর কিছুটা ওপরে একটা লালচে জড়ুল । সম্ভবতঃ সেক্টর ফাইভের অগুন্তি কল সেন্টারের কোনো একটায় কাজ করে ।

বার বার ফিরিয়ে নিলেও বিমল রায়ের চোখ বার বারই চলে যাচ্ছে সুন্দরী  মেয়েটার দিকে । আড়চোখে বার বার মেয়েটার আকর্ষণীয় মুখ কিম্বা পায়ের জড়ুল । এইভাবে কারুর দিকে তাকানোটা ঠিক নয় জেনেও মনকে সংযত করা যাচ্ছেনা কিছুতেই, গোল্ডেন ফ্রেমের চেঞ্জার গ্লাসের আড়ালে ওর কতটাই বা লুকোনো যায় চোখের গতিবিধি … কি মুশকিল … !!!

হাডকো হাডকো হাডকো … উল্টোডাঙ্গা এসে গেছে, এবার নামতে হবে ।

সোনালী ফ্রেমের চশমাটা ঠিক করে নিয়ে সিনিয়ার সিটিজেন সিট থেকে উঠে দাঁড়ালেন মিষ্টার বি রয় ।
২২ বছরের বিমলের সিঁড়ির অন্ধকারে চেপে ধরে গিলে খাওয়া পাশের বাড়ির রুণুর শৈশব, কিম্বা বছর ৪৫ এর সংসারী রয়বাবুর কিশোরী মেয়েটার ট্রেণে কাটা পড়া ক্ষতবিক্ষত দেহের হাঁটুর ওপরে থাকা জড়ুল দেখে শনাক্ত করার দিনগুলো … আবার স্যান্ডুইচ হয়ে যায় বিস্মৃতি মাখানো ব্যস্ততার ব্রেডে ।

তাড়াতাড়ি না নামলে ৭টার গোবরডাঙ্গা লোকালটায় আর ওঠা যাবেনা …