দ্য ইমিউন সিস্টেম

– “রাইনো ভাইরাস, অর্থাৎ যেটাকে আমরা সাধারণ সর্দী-কাশী বলি তার কারণ যে ভাইরাস, আর তোমাদের আগেই বলেছি ভাইরাস হল লিভিং বাট ননলিভিং অবজেক্ট । কারণ টিল দ্য টাইম এরা কোনো স্যুটেবল অর্গানিক ম্যাটার বা এনভায়রণমেন্টের মধ্যে না থাকতে পারছে, দ্যে ডোন্ট শো এনি প্রপার্টি অফ লাইফ বাট যখন এরা মানুষ বা অন্য কোনো লিভিং বডিতে এন্টার করছে দ্যে স্টার্ট টু অ্যাক্ট লাইক এনি লিভিং অর্গানিজম । বুঝলে ?”
– “ইয়্যেস স্যর”
– “তো এখন এই ভাইরাসের লিভিং প্রপার্টিজ ডিসকভার করা যায় তখনই, যখন তারা ইনকিউবেট করে বা নিজেদের মধ্যে থাকা আর এন এ বা ডি এন এ কে কপি করে আদারওয়াইজ দ্যে আর জাস্ট সাম কমপ্লেক্স অ্যারেঞ্জমেন্ট অফ অর্গানিক ম্যাটারস । আর একমাত্র তখনই তাদের ডিটেক্ট করা যায় যখন তারা কোনো একটা হেলদি সেলকে অ্যাফেক্ট করে নিজেদের কপিইং মেশিনে পরিণত করে আর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে সেল ডেস্ট্রয় করতে থাকে ইভেন তখন তাদের ডেস্ট্রয়ও করে দেওয়া যায়। বাট দ্যাট ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট ওনলি আমাদের বডির ন্যাচারাল কিলার সেলস ক্যান ডু দ্যাট। তাই লাইক মোস্ট আদার ভাইরাসেস রাইনো ভাইরাসেরও কোনো ডিফাইন্ড কিওরিং মেডিসিন নেই । সর্দি-কাশীর মত ভাইরাল ডিজিজেস আর কিওরড বাই বডি ইটসেলফ । মেডিসিনস আর প্রোভাইডেড টু ইজ ইওর বডি ওনলি ।”
– “স্যর হাউ ডু দিস ভাইরাসেস আর টারমিনেটেড, আই মিন স্যর প্রসেসটা যদি আরেকবার একটু রিভাইজ করে দেন”
-“ওয়েল তোমাদের আগের ক্লাসেই বলেছি, ওকে তোমরা যখন বলছ । শোনো এমনিতে এই ভাইরাসেস আর নট টক্সিক লাইক ব্যাক্টেরিয়া । এরা যেটা করে সেটা হল কোনো একটা হেলদি সেলকে ইনফেক্ট করে তার মধ্যে নিজেদের কপি মেকানিজম আর জেনেটিক ডাটাটা ইনপুট করে । অ্যাকচুয়্যালি ওরা হেলদি সেলটাকে উম্ব এর মত ইউজ করে । সেলটা জাস্ট একটা রিপ্রোগ্রামড রোবটে কনভার্ট হয়ে যায় আর ওর মধ্যের সব প্রোটিন ম্যাটারসকে একাধিক ভাইরাসে কনভার্ট করতে থাকে । এই সময় সেলের ভিতরে থাকা ভাইরাস গুলোকে ডিটেক্ট করা যায় । একটা সময় পর নিউলি ক্রিয়েটেড ভাইরাস গুলো সেলটাকে এক্সপ্লোড করে ডেস্ট্রয় করে বেরিয়ে আসে । নতুন সেলকে ইনফেক্ট করতে যায় আর এভাবেই সেল গুলো নষ্ট হয়ে যেতে থাকে । তো বডির কিছু নিজস্ব ফাইটার সেল আছে । যার মধ্যে একটা হল ন্যাচারাল কিলার । সে ইনফেক্টেড সেলটা এক্সপ্লোড করার আগেই টক্সিন স্প্রে করে সেলটা শুদ্ধু ভাইরাসগুলোকে মেরে ফেলে
। যাতে আর অন্য কোন সেলে এফেক্ট না হয় । আন্ডারস্টুড ?”

ক্লাস নিয়ে ল্যাবে ফিরলেন ডক্টর সেন । গত কয়েকদিন ধরে অধিকাংশ সময়টাই কাটাচ্ছেন ল্যাবে । কোথায় কোথায় ? কিভাবে পাবেন তাঁর প্রশ্নের উত্তর ?

একটা সাধারণ ভাইরাস । রাইনো ভাইরাসের থেকেও পাতি । কেন এর ইনকিউবেশন স্টেপটা হচ্ছে না ?

গত কয়েকদিন ধরে দিন রাত এক করে নাওয়া খাওয়া ফেলে পড়ে আছেন ল্যাবরেটরিতে । কি মিস করে যাচ্ছেন তিনি ? খুব চেনা খুব জানা কি যেন একটা প্যাটার্ণ ধরেও ধরতে পারছেন না ডক্টর সেন ।

মনে পড়ে গেল সর্বাণির কথা । তাঁর স্ত্রী । পলিসিস্টিক ওভারি তে আক্রান্ত বলে বাচ্চা নেননি । সুখী দম্পতির মনের কোনো কোণায় যে না পাওয়ার দুঃখটা মুখ লুকিয়েছিল সেটা হঠাত করেই আজ কেমন যেন এক স্বস্তির নিশ্বাসে রূপান্তরিত হল । যাক বাবা ভাগ্যিস নেওয়া হয়নি । নিলে কি হতে পারত ভাবতেও বুকটা ধড়ফড় করে ওঠে । চারদিকে এই নতুন ভাইরাস যেভাবে গর্ভে থাকা শিশুদের গর্ভেই আক্রমণ করে বিকলাঙ্গ করে দিচ্ছে ।

কি মিস করে যাচ্ছেন তিনি ? কোন ফিচারটা ? জাস্ট একবার, মাত্র একবার একটু নিশ্চিত  হতে পারলেই টক্সিন মার্কিং কেমিক্যালটা ঢেলে দেবেন হাতের টেস্ট টিউব থেকে কনসার্ভড স্লাইডে।
কি তাঁর সাব কনশাশ থেকে ফিসফিস করে তাঁর কানে বলে যাচ্ছে আর নেটওয়ার্কহীনতার অস্পষ্টতায় যেন তিনি শুনতে পারছেন না , কি সেটা ? কি ?

হাসপাতালের বাইরে থেকে আসা তীব্র যান্ত্রিক আওয়াজে মাঝে মাঝেই চিন্তাতে ছেদ পড়ছে । কাল থেকে হসপিটালের সামনের বিশাল ঘোড়ানিম গাছটা আর ছায়া দেবেনা হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা লোকগুলোকে । অবশ্য সে কদিনের জন্য , কদিন পরেই ওখানে হবে “অনুপ্রাণিত” বাস প্রতিক্ষালয় । সে জন্যই তো এত তাড়াহুড়ো করে বিশাল গাছটাকে কাটার তোরজোড় শুরু হয়েছে । ডিজেল চালিত করাতের কটুগন্ধী ধোঁয়া সমস্ত নিষেধকে বক দেখিয়ে ঢুকছে হাসপাতালে । নাঃ এখানে আর কিছুক্ষণ পরে বসা যাবেনা, এত পলিউশন বেড়ে গেছে শহরটায়, মানুষ কি করে এমন লাগামছাড়া ভাবে নিজের বাসস্থানকে নষ্ট করতে পারে ভেবে মাঝে মাঝে অবাক লাগে ডক্টর সেনের ।

এল ই ডি টিভিটায় একগাদা খবরের কচকচি, তবুও দেখেন, আলাদা আলাদা নিউজ চ্যানেল সার্ফ করে ।

আজ খালি একটা খবরই বার বার দেখাচ্ছে , একটা নিষেধাজ্ঞা । পৃথিবীর সম্ভবতঃ সবাই আক্রান্ত এই নতুন অদ্ভুত ভাইরাসের প্রকোপে তাই বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা অনির্দিষ্টকালের জন্য কনসিভ করার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে … ইত্যাদি।

সামনের দেওয়ালে টাঙানো স্যার, মানে তাঁর শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট ডক্টর গুরুদাস সোরেনের ছবিটার দিকে হঠাত করেই চোখ চলে গেল ডক্টর সেনের । একটা কথা স্যার মাঝে মাঝেই বলতেন, “বুঝেছ সেন, হিউম্যানিটি ইজ দ্য বিগেস্ট ভাইরাস ইনফেকশন ইন দ্য বডি অফ আর্থ । বাট আর্থের ইমিউন সিস্টেমরা কেন এখনও অ্যাক্টিভেট হচ্ছেনা সেটাই আশ্চর্য্য !”

ডক্টর সেন হাতের টেস্টটিউবটা রেখে দিলেন, ওটার কাজ ফুরিয়েছে, এখন আর মনে কোনো সংশয় নেই, প্যাটার্ণটা চেনা যাচ্ছে ।

উদ্দেশ্যহীন চোখে স্বপ্নাবিষ্টের মত স্যারের ছবির দিকে তাকিয়ে অস্ফুট কন্ঠে বলে উঠলেন, “দ্য ইমিউন সিস্টেম ইজ অ্যাক্টিভেটেড স্যার, আলটিমেটলি অ্যান্ড ফাইনালি” ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s