Barbed Tape

সে আজ থেকে অনেকগুলো বছর আগের কথা, সামান্য একজন কেরাণী থেকে শিল্পপতি হওয়ার গল্প। এই কারখানাটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাইকেল মরিস খুবই সামান্য মূলধন নিয়ে।

তারপর ফুলতে ফাঁপতে আজকে কারখানাটা আজৌলগড়ের অর্ধেকের বেশী জায়গার মালিকানা নিয়ে নিয়েছে।
অবশ্য এলাকায় কালোসাহেব বলে জনপ্রিয়, সবার ভালবাসার মানুষ মাইকেল মরিস আজ আর নেই। তাঁর ছেলে স্যাম আর মেয়ে সারার মধ্যে কারখানাটা সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়ার কাজটা বেঁচে থাকতে থাকতেই করে গিয়েছিলেন মরিস।
একেবারে যে সমান ভাগ হয়েছিল তা অবশ্য নয়, অন্ততঃ সেরকমই দাবী করে দুপক্ষই। কোল্ডস্টোরিং গোডাউনটা স্যামের ভাগে পড়লেও সারা চিরকালই দাবী করে আসছে আইনতঃ ওটা ওরই প্রাপ্য। এই নিয়ে অমিমাংসিত মামলা মোকদ্দমা, আলোচনা কম হয়নি। কিন্তু কোর্টের দেওয়া ইঞ্জাংশানের রায়ে কোল্ডস্টোর গোডাউনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য তালা পড়ে যাওয়া ছাড়া লাভ কিছু হয়নি।
 
জিনিসটা আরও খারাপ হয়ে দাঁড়ায় হঠাত করেই সারা কোথাকার কোন এক সর্দারজীকে কারখানাটা বেচে দিয়ে গুরগাঁওতে সেটেল হয়ে যাওয়ায়। হয়ত বা নারীবাদীরা বাদে সবাই যেমন বলে “মেয়ে বলেই ভয় পেয়ে” … দিন দিন দুটো কারখানাতেই বিভিন্ন কারণে শ্রমিক অসন্তোষ যেভাবে বাড়ছিল।
 
আগে যা ছিল শুধু মামলা আর আলোচনার বিষয়, সেটাই এখন আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ, স্যাবোটাজের রূপ নিয়েছে।
 
মাঝে মাঝেই কারখানা ভিজিট করতে এসে স্যামুয়েল বাবুর গা গরম করে দেওয়ার মত বক্তৃতায় উদবুদ্ধ হয়ে এপক্ষের শ্রমিকরা ওদিকের লাইভফিড মেশিনের তার কায়দা করে কেটে দিয়ে প্রোডাকশন বসিয়ে দেয়। আবার কখনও ওপাশের সিংজীর শ্রমিকরা চুপি চুপি কখন এদিকের কারখানার ডেস্প্যাচের গাড়ি বিকল করে সাপ্লাই আটকে দেয়।
 
সেবার তো নানকজয়ন্তীর দিন সিংজীর চোখা চোখা জবান শুনে মেতে গিয়ে ওদিকের দুজন নতুন জয়েন করা ছেলে এদিকের মেন পাওয়ার সাপ্লাইয়ের তার কাটতে গিয়ে ইলেক্ট্রিফায়েড হয়ে মরেই গেল। আবার বড়দিনের দিন কেক বিলোনোর সময় স্যামবাবুর “উও লোগোনে ইতনা প্রবলেম ক্রিয়েট করতা হ্যায় কি ঠিক সে কোই অর্ডারহি সাপ্লাই হো নেহি পা রাহা হ্যায়, ক্যায়সে আপ্লোগোকা ইঙ্ক্রিমেন্ট হোগা …” উস্কানিতে কয়েকজন পরের দিন ওদের গ্রাইন্ডিং মিল বসাতে গিয়ে ডান্ডা খেয়ে নিজেরাই পঙ্গু হয়ে বসে গেল।
 
এভাবেই চলছে এখনও, ঝামেলাও লেগেই আছে। অবশ্য ঝামেলা শুধু এটা নয়।
 
ক্লান্তিকর একটা দিন শেষে স্যামুয়েল তার বেনামে কেনা গড়িয়াহাটের ফ্ল্যাটটায় ফিরলেন, হাতে একটা দামী পোর্ট ওয়াইনের বোতল, আজ সাইনা আসবে, ঘরে ঢুকে আলোটা জ্বালাতে যাবেন এমন সময় ফোন এল, “বাবু, ইয়ে লেবার লোগ হল্লা কর র‍্যাহা হ্যায়, ইঙ্ক্রিমেন্ট আউর সেফটি কি লিয়ে, আভি তো হাম লোগ উনকো সামঝাকে ভাগা দিয়ে, মগর উওলোগ কাল ফিরসে হাল্লা মাচায়েগা এইস্যা লাগ র‍্যাহা হ্যায়”।
 
ফোনটা কেটে পকেটে রাখলেন স্যামুয়েল। এই এক টেনশন। অবশ্য বহু পুরোনো এফেক্টিভ সমাধানটা জানাই আছে। সেটাই আরেকবার কাজে লাগাতে হবে আর কি।
 
নাঃ সাইনা এসে পড়বে, অনর্থক সময় নষ্ট না করে মাথা থেকে পাগড়ি, আর গাল থেকে চাপ দাড়িটা খুলতে খুলতে টিভির রিমোট টায় চাপ দিলেন স্যামুয়েল।
 
ইন্ডিয়া পাকিস্তান টোয়েন্টি টোয়েন্টি আছে।