তত্ত্ব

সাদা হয়ে যাওয়া দাড়ি আর চুলে হাত বুলিয়ে নিল ওঁ। তার প্রতিচ্ছবিতে মাথার দুপাশে অতিরিক্ত লোব গুলো আবার সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্রিয়েটম ফর্মুলা গুলো একবার মনে মনে আবৃত্তি করে নিল । নাঃ ঠিক আছে, ঠিক সময় মত খেয়ে নেওয়া গেছে। না হলে কমতে কমতে আবার একটা বলের মত ক্ষুদ্র গুটি তে সমস্ত সত্তা গুটিয়ে নিয়ে অনন্ত কালের অপেক্ষায় চেতনাহীন সুষুপ্তিতে লীন হয়ে যেতে হত।
 
সময় চলে যাচ্ছে, ছায়াপথ এর মধ্যেই এক চতুর্থাংশ আবর্তন সেরে ফেলেছে, আজ আর কালকের মত দেরী করলে চলবে না। খুব সন্তর্পণে নিজের শরীর থেকে এক কণা দেহকোষ তুলে নিল ওঁ।
 
* * *
 
আরো বেশ কিছুটা সময় চলে গেছে, কৃত্রিম কালচার মাধ্যমে রাখা দেহকোষটা ইতিমধ্যে আয়তনে বেশ কিছুটা বেড়ে গেছে। কালচারে খুব যত্ন নিয়ে কিছুটা পোষক দ্রবণ ঢেলে দিল ওঁ। গভীর মমতায় লালিত কোষটির দিকে নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল, ওটি যে তারই অংশ, সন্তানবত্। ইতিমধ্যেই তার শরীরে আস্তে আস্তে পরিবর্তন স্পষ্ট হচ্ছে। পাকা চুলের বদলে দেখা দিয়েছে কুঞ্চিত কাজলকৃষ্ণ কেশরাজী, বলিরেখারা অদৃশ্য হয়ে দেখা দিয়েছে পেলব কমনীয়তা। ফ্যাকাসে গাত্রবর্ণ হয়ে উঠেছে নীহারিকার মত উজ্জ্বল নীলাভ। সময় যে বেশী নেই বুঝতে পারছে ওঁ।
 
* * *
 
ছায়াপথের একটি সম্পূর্ণ আবর্তন সম্পূর্ণ করতে আর বেশী দেরী নেই …. ওঁ এখন প্রায় শিশুবত, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে তার জটাজাল ; কিছুতেই মনস্থির করতে পারছে না সে …. তার সমৃদ্ধ প্রজ্ঞার অধিকাংশই বিস্মৃতি গ্রাস করেছে এখন। সর্বগ্রাসী ক্ষুধা তাকে উন্মাদপ্রায় করে তুলছে … সময় যে আজকের মত শেষ .. কোনক্রমে অস্থির অঙ্গ সঞ্চালনে কালচার থেকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত আপন দেহকোষটি তুলে নিয়ে ভক্ষণ করল ওঁ।
 
* * *
 
ছায়াপথের একটি পূর্ণ আবর্তন সম্পূর্ণ হল, ধ্যানসুষুপ্ত ওঁর শরীরে বিপরীত পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে …. শিশুসুলভ কোমল দেহে এক এক করে ফুটে উঠছে বলিরেখা …..
 
© Satadru Banerjee