কেনই বা এই স্মৃতিচারণ ?

বিভিন্ন সুখ আর দুঃখের হারমোণিক ফ্রিকোয়েন্সিতে ব্রহ্মান্ডের তথাকথিত চেতন অংশ চলছিল, চলছে এবং চলবে । তবু জিনগত বা ইন্ডিউসড মিউটেশনে সমস্ত কিছুর সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে অনুভূতিরাও । আমাদের সঙ্গে সঙ্গে বয়স বাড়ছে পৃথিবীর । পানের পাতায় ঢাকা হঠাত সম্পর্কে বাঁধা পড়া অপরিচিতার চোখের দিকে প্রথমবার তাকানোর অপেক্ষা ও আনন্দের অনুভূতি যেমন আজ দুর্লভ হয়ে শুধু সিনেমা আর মা – ঠাকুমার মুখে শোনা মিষ্টি সময়ের গল্পে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, তেমনই দুর্লভ হয়ে পড়েছে বহুপ্রতিক্ষীত গরমের ছুটির বাঁধাধরা বাড়িফেরা আর দুপুরের ঝড়ে আমকুড়োনোর আনন্দানুভুতি ।

কে বলতে পারে আর কিছুদিন পরে আমাদের আজকের ভীষণ চেনা অনুভূতি, চাওয়া – পাওয়া, আনন্দ , অভিমানগুলোও কালের গর্ভে ডাইনোসর দের মত বিলীন হয়ে যাবেনা ? কে বলতে পারে গোলাপি সাইকেল নিয়ে ঘোরা ভিতু ভিতু মেয়েটা অনেক পাল্টে যাবেনা ? স্বপ্নিল চোখের যে ছেলেটা তাকে সব সময় বুকে আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল, তাকে প্রথমবারের জন্য বন্ধুত্ব আর বাঁচার স্বাদের সন্ধান দিয়েছিল, তার সঙ্গে কাটানো সুন্দর মূহুর্ত গুলো সহজেই ভুলে যাবেনা ? সুন্দর আর মডারেটেড স্টেটাসের লাইফস্টাইলের হাতছানির গর্বে পুরোনো অনুভূতিগুলোকে অস্বীকার করবে না ?

তাই হিজিবিজি হুজুকে দিনলিপি লিখে রাখি সময়ের ঝড়া পাতার গায়ে । যন্ত্রণায় জন্ম নেওয়া জমাট রক্তের মত কাল কালির আঁচড়ে । কারণ অনুভূতির যে কোনো মিউজিয়াম নেই ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s