উন্মাদের মস্তিষ্কলিপি

আশ্বিনের শারদ প্রভাতে বেজে উঠেছে আলোকমন্দির

পেঁজা তুলো মেঘরা ভাসে, বনসাই ছুঁতে চায় ঊর্ধ্ববাহু হয়ে

সাদা দিন কালো রাত, আর কিছু স্মৃতি আজো বরাদ্দ বন্দীর

টাকার বিছানা আর খ্যাতিরা তোলে সংযম পার্টিশন, সঙ্গদোষভয়ে

সাধারণ সাদা ঘর, ছেঁড়া চিঠির কিছু সস্তা অক্ষর কখনো পারেনি কোথাও দাগ কেটে যেতে

ছেলেবেলা, মেয়েবেলা, কিছু অপরিণত বিপ্রকর্ষী খেলা, কেউ কিছু ভাবত কি ঝালমুড়ি খেতে খেতে

এক গান, এক সুর, মিলিয়ে মিলিয়ে চলা বহুদূর তবু গুপ্ত থেকে যায় নিষিদ্ধ অসন্তোষ কিছু কিছু

ইচ্ছা অনিচ্ছা আদর, স্বার্থহীন স্নেহের চাদর উড়ে যায়, নিঃশব্দে পাল্টায় অভিমুখ সময়ের পিছু পিছু

ভূগোল খাতায় উপপাদ্য ইতিহাস উত্তর, অতি সাধারণ ম্যাড়মেড়ে সত্তর, কেরিয়ার ব্যারিয়ার সিন্ধু

হেসে খেলে ডিসকভারি পথে, অ্যারিজোনা নটিংহাম হয়ে বরবুদরের রথে, তবু মনে শিশিরবিন্দু

দ্বেষে দ্বেষে অবিরাম যুদ্ধে ক্লান্ত দ্বেষবাসী হেসে, ফলিডল মেশায় প্রতিগ্রাসে ভুলে গিয়ে, মরেছে সে অনেক আগেই

অকারণ ডাল ছিঁড়ে ঘোড়ানিম, নিষ্কাশে যন্ত্রণা অপরিসীম, যুগযুগ ধরে চলে একা অন্ধকার তবু থাকবেই…

নেশা নেশা

আজ হঠাত করেই বেশ জ্বর চলে এল দুপুর বেলা । আমি তখন অফিসে । এখনও বেশ উত্তাপ … জ্বালা । তবু বেশ ভালো লাগছে, বেশ নেশা নেশা ……

আজ অনেক দিন পর পিয়ানোটা নিয়ে বসলাম … বাইরে মাঝে মাঝে ঝড়ো হাওয়া দিচ্ছে, পাশের গাছটা থেকে টুপটাপ দু একটা পাতা খসে যাচ্ছে হিসেব না লিখেই …

পিয়ানো তে অচেনা সুর বাজিয়ে চলেছি নিজের অজান্তেই … পিয়ানো অনেক কিছু মনে করায় … তবু পিয়ানোটা শান্তি দেয় । জ্বরের উত্তাপের মাঝেও কোনো পাহাড়ী ঝর্ণার ঠান্ডা জলের মত …

কেনই বা

কেনই বা বার বার ছবি গুলো দেখি …
কেনই বা কমেন্টস পড়ি ……
কেনই বা খারাপ লাগে ……

বুঝিও না, বোঝার যে খুব আগ্রহ আছে তা নয় …

আজ আবার অ্যালজোলাম …

ইনকমপ্যাটিবিলিটি

তোমার অনেক ফটো দেখছি, সেভ করছি হার্ড ড্রাইভে । যেমন করেছি গত প্রায় ১ বছর। কেন করছি নিজেই জানিনা । কী হবে এগুলো দিয়ে তাও জানিনা ।

অনেকটা ছুঁড়ে ফেলা নাক থ্যাবড়ানো, গাল তোবড়ানো ছোটো বেলার টিনের পুতুলের জঞ্জালের মত । দেখি, কারণ চোখ টা আটকে গেছে বাইরের রোদ বৃষ্টিতে জং ধরে, বন্ধ হয়না ।

মানুষ আশায় বাঁচে । সেই ক্ষীণ আশাটাও আজকাল অশরিরী । কারণ স্পষ্ট হয়েছে আমার দৈন্য, আমার দূরত্ব, আমার ইনকমপ্যাটিবিলিটি, আমার অপ্রাসঙ্গিকতা ।

তবে জান, তুমি একটা কথা বড্ড ভুল বলেছিলে । আমি স্বার্থশূণ্য নই গো । সত্যিই যদি সেটা হতাম তাহলে প্রতিদিন অফিস থেকে ক্লান্তি জড়িয়ে ফিরে তোমার প্রোফাইলে উঁকি মেরে নিজের কষ্ট গুলোকে খুঁচিয়ে তুলতাম না, বরং তোমার আনন্দময় জীবনে উত্তরণ, তোমার নিজেকে মিথ্যে বোঝানোর চার বছরের শেকল কেটে বেরোনো দেখে খুশী হতাম । হাসতে হাসতে ঘুমোতে যেতাম ।

আত্মকথন – ৪

হ্যাঁ ভুলটা আমি ই করেছিলাম । নিছক ভুল নয়, আপাতঃদৃষ্টিতে অন্যায় । তবু ভালবাসাকে তো আর চেপে রাখতে পারিনা দমবন্ধকরা অনুতাপে আর প্রতি মুহুর্তে তোমার অজান্তে শেয়ার করা তোমার প্রতিটি কষ্টের ভারে । সর্ব সমক্ষে ক্ষমা চাইছি তুমি ক্ষমা করবে না জেনেও ।

জানি তুমি এগিয়ে গেছ অনেকটা পথ, আমার চিরকালীন চাওয়া পূর্ণ করেছ নিজের অজান্তেই, সাহসী হয়েছ, হয়েছ আত্মবিশ্বাসে গর্বিত । এখন পিছন ফিরে চাইতে তোমার লজ্জা করে । করাটাই স্বাভাবিক, হিসেব না করেই যে গোলাপ রাখার জন্য তুলে নিয়েছিলে বেঢপ মাটির ভাঁড় । কিন্তু তোমার সত্যিকারের বন্ধুত্বেরা আস্তে আস্তে শিখিয়েছে, তোমায় পরিণত করেছে । এখন তুমি জান, গোলাপের জায়গা মাটির ভাঁড় নয় । সুদৃশ্য আর্টিফেক্ট যুক্ত ফুলদানী ।

আমি সত্যি যে কিছু বুঝিনা, জান তুমি । তাই আমার সঙ্গে তর্ক করা নিরর্থক জেনে এড়িয়ে যাও প্রতিটি দৃশ্য আর অনুভূতির ফ্ল্যাশব্যাক । তবু দীর্ঘ পথে হাঁটতে হাঁটতে যদি কখনও মনে হয়, “ট্রেণ টা লোকাল হলেও দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে ছিল সঠিক টিকিট” । জানি মনে হবেনা । কারণ কর্পোরেট পৃথিবীতে ক্ষমাশীল অপরাধীর কোনো ক্ষমা নেই । কারণ ভুলে যাওয়া খুব সহজ, শুধু পাশে কিছু মানুষ থাকা দরকার দুঃসময়ের সাথি হয়ে । যাদের সব বারণ সব সময়েই মেনে চলা হয়, যাঁদের বিশ্বাসঘাতকতার অজুহাতে বিরক্ত করা স্মৃতিগুলোকে বিস্মৃতির কবরে পাঠানো যায় ।

জানি মনে হবেনা কারণ “প্রথম সম্পর্ক” শেষের অফিশিয়াল ঘোষণার মধ্যে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের ঝেড়ে বেছে চিনে নেওয়া পছন্দসই একটা অবয়বের আকাঙ্খা । যে মানুষটা আর যাই হোক উন্নাসিক, দাম্ভিক বা চাকরীহীন হবেনা । অ্যান্টিক কিউরিও শপের বহুমূল্য ফুলদানিতে সাজানো গোলাপ তার কর্পোরেট উপস্থিতিতে ভ্যালু অ্যাড করবে ইন্টিরিয়র ডেকরেশনে ।

তবু অঘটনেরা ঘটে বলেই পৃথিবী আজও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায় ।

তাই যদি কখনও মনে পড়ে বহুপ্রতীক্ষিত বিকেলের একটুখানি দেখার আনন্দ, বন্ধুহীন জীবনের সব কথা কারুর সঙ্গে ভাগ করার আনন্দ, ঘন্টার পর ঘন্টা কলেজের বাইরে শুধু তোমার জন্য কাউকে অপেক্ষা করতে দেখার আনন্দ, প্রতিটি বিপদে একদম নিজের করে কাউকে পাশে পাওয়ার আনন্দ, নিয়মের খাঁচা থেকে একছুট্টে বেরিয়ে এসে শহরটাকে চুপি চুপি ঘুরে দেখার আনন্দ, প্রথম ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ করার আনন্দ, সরস্বতী পূজো, দূর্গাপূজো কিম্বা বড়দিনে কারুর বহু যত্নে বানানো কেকের তীক্ত স্বাদকে অস্বীকার করে ভালবাসার মিষ্টি স্বাদে ভরে দেওয়ার আনন্দ ।

সেই অদ্ভুত ভালোলাগা ঘেরা কষ্টের মুহুর্তের চিন্তায়, তাই তোমার জন্য রেখে গেলাম সেই পৃথিবীর চাবি । যদিও কোনো দাবী নেই তোমার কাছে ।

তুমি ভাল থেক ।

তোমার প্রতিটি পোস্ট, প্রতিটি কথা আমায় তিলে তিলে নিষ্প্রাণ করছে । তাই সম্পূর্ণ মনোরোগী হয়ে যাওয়ার আগেই তোমার দেখানো পথ ধরে আমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে সময়টাকে ।

আত্মকথন – ৩

হাজার হাজার ফুট উঁচুতে মাইনাস ৪৫ ডিগ্রী সেন্ট্রিগেট তাপমাত্রায় । সামান্য কিছু মাইনে আর কিছুটা গর্বের বিনিময়ে । পর পর পাওয়া একের পর এক প্রমিসিং চাকরির অফার ছেড়ে । কেন যেতে চাইছি ??? প্রশ্নটা এই ক দিনে অনেকবার শুনেছি আলাদা আলাদা উৎস থেকে ।

আসলে প্রতিদিন একটু একটু করে মনুষ্যসমাজের বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠছি । ছটফট করছি অব্যক্ত কিছু অস্বস্তিতে । আমার উপস্থিতিতে ভারাক্রান্ত হচ্ছে অনেকগুলো সুস্থ মনন । তাই পালাতে চাইছি অনেক অনেক দূরে । বরফের নিশ্তব্দ দেশে উদ্দেশ্য ও বিধেয়হীন জীবন নিয়ে । যেখানে সুখ বা ভুলের স্মৃতিরা ভীড় করবেনা অধিকাংশ অবকাশে ।

ভাগ্যের পার্শিয়াল সহায়ে যদি পাই ঘুমের হঠাত ছুটি । উদ্দেশ্যহীন জীবন ব্যর্থ যাবেনা । একটুখানি গর্ব আর অনেকখানি শান্তি নিয়ে চিরযৌবনের ঘুম ঘুমোবো নিশ্চুপে নীল তুষারের দেশে, হয়ত অন্য কোনো জন্মের একটা সত্যিকারের উষ্ণতার জন্য ।

আত্মকথন – ২

সম্পর্কেরা বাতাসের মত । দেখি আর না দেখি, আছে, এই অনুভুতিটা থাকলেই বাঁচা যায় । নইলে দম আটকে যায় ।

একেক জায়াগার বাতাসের প্রপার্টিস একেক রকম । কোথাও অক্সিজেনের পরিমাণ ২০ শতাংশ তো কোথাও ১৫ শতাংশ । কোথাও কার্বণ ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ শতকরা ০.৩৮ তো কোথাও ০.৫০ ।

সম্পর্কের ও রকমফের আছে । কিছু সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে পরিণত হয় , কিছু আবার সময়ের সাথে সাথে বদলায় । সম্পর্কের টানাপোড়েন যেমন থাকে, তেমনই থাকে বুক ভরে অরণ্যের বাতাসে শ্বাস নেওয়ার মত সতেজতা, প্রশান্তি । কিন্তু জলের তলায় সিলিন্ডার ছাড়া ডুবুরী বা বায়ুশূণ্য কাঁচের ঘরে বন্দী ল্যাবর‍্যাট যেমন হাওয়ার অভাবে ছটফট করে কাঁচের দেওয়ালে হাতড়ায় মুক্তির রাস্তা খুঁজতে তেমনই সম্পর্কের কখনও ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত বা দীর্ঘসূত্রিতায় ভেঙ্গে পড়ায় মানুষের দম আটকে আসে । হয়ত একটু আগে বা পরে ।

থিওরিটিক্যালি কিছু সম্পর্ক কখনও বদলায় না । কিন্তু বাস্তব আর থিয়োরির মাঝের কন্সট্যান্ট গোঁজামিলের ব্যাতিক্রম তার সীমাকে অতিক্রম করে অহরহ । তাই নিজের, অন্যের বা মিউচুয়াল ভুলের ফাটল দুদেশের প্লেটতত্ত্বে আলোড়ণের যে সাগর তুলেছে বার বার বিবিধ ভুখন্ডে তার মাঝে অন্তরীপ খুঁজে বেড়াই সন্ধ্যা নামার আগের দুপুরে ।

আজ দুটো সেট বিচ্ছিন্ন পাথরের মাঝে সরু গুল্মলতার শেকড় বা ছত্রাকের সন্ধান করলাম । একটা তার মধ্যে জমা শ্যাওলাঢাকা বর্ষার জলকে বইতে দিল আমার দুচোখ ভিজিয়ে । আরেকটা শুধুই মরুভূমী আর কাল্পনিক দোষারোপের অর্থহীন পান্ডুলিপির হিসেব মেলানোয় জাল বুনছে ঘৃণার মুখোশে অভিমানের ।

কিন্তু সন্ধ্যা নামার আগে আবার হয়ত দেখা হবে । কোনো বৃদ্ধাশ্রমে বা হঠাত কোনো অনাকাঙ্খিত শেষ স্টেশনে । তখনো কি হিসেব নিবি কটা ঠিক আর কটা ভুলের ?

আত্মকথন ১

আজকাল কী হয়েছে জানিনা । সারা শরীরে সবসময় ভীষণ অস্বস্তি । যেহেতু মনের বা শরীরের কষ্ট নিরাপদ ফেসবুক ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করি না তাই জীবনটা আহা উহু তেই চালিয়ে নেব এই প্রত্যয়টা দৃঢ় হয় ।

আজকাল মাঝে মাঝেই হঠাত করে ঘুমিয়ে পড়ি, ঘুম আমার কিছুক্ষণের পেন কিলার, বেশ জেনেরিক পেনকীলার । কিছুটা সিডেটিভ এর মত কাজ ও বলাযায় । হাতে থাকা ফোন, বই অজান্তেই খসে পড়ে, অর্ধেক লেখা শব্দেরা খাতায় অপেক্ষা করে ঘুমিয়ে পড়া স্রষ্টার নিথর লেখনির পুনর্জীবনের ।

পেনকীলারের মতই কিছুক্ষণ যন্ত্রণার রেহাই, আর ঘুম ভাঙলেই এফেক্ট শেষ হয়ে যাওয়া সাময়িক পেনকীলারের মত যন্ত্রণাটা ফিরে আসে অনেকগুণ বেশী হয়ে ।

হঠাত স্বপ্নে কেন তুমি আমায় ক্ষমা করে দিলে ? বুকে টেনে নিলে ঠিক যেমন ভাবে আমি ফ্যান্টাসি করেছি অনুতাপের মাঝে । বাস্তবের দুনিয়ায় জেগে কেন বার বার ভুল হয়ে যায় ?

যন্ত্রণাটা আবার ফিরে আসছে । লকগেট ভেঙ্গে যাওয়া টারবাইন ভাঙা স্রোতের মত । দুমরে মুচড়ে যাওয়া টারবাইনের ধাতব টুকরো আমার সারা সত্ত্বায় ক্ষত করতে এগিয়ে আসছে আমি জানি । অ্যাসিডের মত রক্ত ঝড়বে আমার কলম বেয়ে যা ভিতরে ভিতরে প্রতি মুহুর্তে ঝাঁঝড়া করছে আমায় ।

সৃষ্টির মুহুর্তে জননীর যন্ত্রণা হয়ত সৃষ্টির আবশ্যিক শর্ত ।