সুসুপ্তি

ঝড়ের মেঘ আকাশ কালো পালিশে চকচক করা বিদ্যুৎ
যে ঝড় আমি বড্ড ভালবাসি, আর তোমার বিরক্তির কাদা
আজ লাটাই হাতে ধরে নির্ঘুম অপেক্ষা, মেঘ অন্ধকার
এখন মিউজিক প্লেয়ারে তোমার নামে সেট করা রিংটোনটা
এমনিই বাজে, মিথ্যের সিনেমাতে নিজের চরিত্র অভিনয়ে

বৃষ্টি বড় অপেক্ষা করায়, ভিজতে চাই আমি প্রতিটি ফোঁটায়
প্রকৃতির কান্না অথবা আমাদের বিষের ছোবলের অ্যাসিডে
মর্গ কিম্বা তোমার পাশে, হিমশীতল বা উষ্ণ সুসুপ্তি চাই শুধু

বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক

পেটে ক্ষিদে নেই, পরণে আছে পোশাক
মাথার ওপর ডাবল লেয়ার ছাদও আছে
যেটা নেই সেটা— নিজে কিছু করে দেখাতে পারার তৃপ্তি

যুদ্ধ টার শেষ নেই, শুধু ইজরায়েল বা গাজা নয়
যুদ্ধটা চলছে প্রতিটা বেখেয়ালে পার করা মূহুর্তে

যুদ্ধটা চলবেও কারণ শান্তির কপোতের মুখের পাতাটা
খসে পড়েছে — গুহা ছেড়ে চাকা বেয়ে নগরের পথে

যুদ্ধ মানে জেতা নয়, যুদ্ধ মানে সন্ধি বা হারাও নয়
যুদ্ধের কুশিলবরা যুদ্ধটার মত অবিনশ্বর হয় না

দিনের শেষের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে খুচরো জেতা হারা
যুদ্ধটা চলতেই থাকবে তাই সন্তুষ্টিরা এখানে জমি পায় না

যুদ্ধে এগোনো আসল, আর তার থেকেও সত্যি, এগোতে হবেই
কুরুক্ষেত্রে জন্মানো শিশুরা রক্তস্নাত মায়ের স্তন্য পান করে

নিরস্ত্র শত্রুকে এক কোপে যুদ্ধটা জেতা না জেতার চয়েস
দিনের শেষে সব হিসেব বরাবর , যুদ্ধে আসল জেতা — বিচারে

যুদ্ধটা শুরু করলাম, নিশ্চয়তা থেকে অনিশ্চয়তার দিকে, জমানো রত্নপুরীর সিন্ধুক গুঁড়ো করে বানালাম মাটি, নিজের শিরদাঁড়া উপড়ে বানানো লাঙ্গলে শুরু করছি নতুন সবুজের স্বপ্ন … সহযোদ্ধারা পাশে থেকো ।

বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক !!!

কোন এক নীরার জন্য

বার বার মেঘ হয়ে মুখ ভার করিস রোদ ঢেকে,
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়তে কিসের দ্বিধা রে তোর ?
অস্ফুট গর্জনে বিদীর্ণ বুকের বিদ্যুৎ আড়াল করিস
একটা কালবৈশাখী হতে এত সময় নিস কেন ?

জানি কিছুটা তোর ভালবাসা আর কিছুটা অভ্যাসের
ফিউশন, কিছুটা রাত জেগে বলা কথা আর কিছুটা
ভীষণ চেনা ঘামের গন্ধ, কিছুটা তোর হঠাৎ চেতন
শরীরের প্রতিবর্ত পসেসিভ মন, কিছুটা স্মৃতির প্রেত ।

নীরা, তোর ভয়গুলোকে চিনি, জানি প্রতিটা কৃষ্ণচূড়া
বিছানো রাস্তায় তোকে তাড়া করে ক্রনিক আঘাতেরা,
তোর নিজের সঙ্গে দ্বন্দগুলোকে বুঝি, সূর্যের মন্থনের
স্বাদের নেশায় এখনও আচ্ছন্ন তোর সমস্ত শরীর, সত্ত্বা

আবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে, নদী হয়ে বয়ে সঙ্গম হয়ে সাগরে
মিশে যেতে, হারিয়ে যেতে বড্ড ভয় তোর; তোর যন্ত্রণা
আর অবচেতনের অধিকার হারানোর আক্রোশদের যত্নে
লালন করিস, একাকিত্বে ঝাঁঝালো মদের বিষাক্ত আস্বাদে

তবু বলি, আজ আর পালিয়ে যাস না দায়সারা অজুহাতে,
স্মৃতির চোখে চোখ রাখ আর, শুকনো ঝরা পাতা গুলো
প্রবল ঘূর্ণিতে উড়িয়ে একটা সাইক্লোন বা আকাশ ভাঙা
বৃষ্টি হয়ে অবিশ্রান্ত ঝরে পড় শুষে নেওয়া রুক্ষ মাটিতে …

কাঁচের দেয়াল

স্বপ্নরা কি কাল্পনিক না তোর মত আবছা একটা অবয়ব ?
যারা অতীতের কবরে শুকনো গোলাপের খোঁজে অবহেলায়
পেরিয়ে আসতে পারে সহস্র বছরের বুনো গুলমার্গ  …

স্বপ্নরা কি তোর মতই অশ্রুজমা স্ফটিক ছড়িয়ে রাখে তাদের
হারাবার পথে … লুঠ হয়ে যাওয়া অমূল্য রত্নের মত ;
স্বপ্নরা তোর মতই ঘিরে থাকা বিবেকের চোখের অলিক ভয়ে
নিজেকে অস্বীকার করে সেই প্রাগিতিহাসের ফসিল সাক্ষী হয়ে ?

আদমের হাত ছুঁয়ে  অনুভুতি লুকোয় নিষিদ্ধ ফলে …
সীমাবদ্ধতার পাহারায় … ভগবানের মূর্তির অবয়বে মাথা রাখতে চায়
একটা প্রশস্ত বুকের ফ্যান্টাসিতে … নিয়ম পালনের অছিলায়

সত্যি করে বল, স্বপ্নরা কি তোর মতই বার বার মেকাপ বদলে আসা
মঞ্চসফল আপনজন , যাদের আপন ভেবেও ছোঁয়া যায়না
স্ক্রিপ্ট রিমোটের প্রম্পট সতর্কতায়, যাদের জন্য জমানো চুমুর দাগ
রয়ে যায়, ফিকে হয় তোর আর আমার মাঝের অদেখা কাঁচের দেয়ালে

সূতো

কখনও কী মনে হয়, শরীরসর্বস্ব পরিচয় অনেক তো হল ?
স্তাবকদের একঘেয়ে জয়ধ্বনীতে অস্থিরতা বধীর করে কী ?
কখনও কী মনের গোপন কোনো কোণে হারানো ছোট্টবেলারা
ফিরে আসে খেলামবাটি আর সত্যি অনুভূতির বন্ধুত্ব খুঁজে ?

সময় নদীর কাল স্রোতে যখন এক একটা করে খসে পড়বে
ঝলমলে রাজ প্রাসাদের ইঁট, যেদিন পরিত্যক্ত্য হবে অবহেলায়
শুনতে পাও কি সেদিনের আগাম ফোরকাস্ট আর অমোঘ নোটিশ
দেখতে পাওকি একটা ঘর চারটে দেওয়াল আর জানালায় পৃথিবী ?

তবে বাতাসে কান রেখো, শুনতে চেয়ো কোনো রাখালিয়া মোহনবাঁশি
যারা যুগ যুগান্তের সাক্ষীবটের তলায় কুয়াশা ভোরে অপেক্ষায় থাকে
না কোনো রাজকণ্যা নয়, একটা মানুষের, একটা অনুভবের, একটা
ভালবাসার যেখানে শরীরের আগে বাঁধা পড়ে মন, সহানুভূতির সূতোয়

একটা তার

ছেঁড়া তারটা লাল কেন বলতে পার ???
হ্যাঁ, ওটা নিজের সঙ্গে সঙ্গে আমার জামাটাকেও রাঙ্গিয়েছে
কারণ একাকিত্ব কেউ কি চায় ?

তারটা বড্ড বেশী উঁচু ডালে বাঁধা হয়ে গেছিল
পৃথিবী পাক দেওয়া স্যাটেলাইটের দূরত্বের দুটো অবৈজ্ঞানিক
হৃদয় কিম্বা বৈজ্ঞানিক ব্রেণের আইলেটে

সত্যি-মিথ্যার কাল্পনিক রেফারেন্স ফ্রেমের
উচিত অনুচিতে যাবনা, কারণ ডিডি গেঞ্জী আর ধর্ম গ্রন্থের মত
ভালবাসার ক্যাচলাইনও একই টিউনে …

তারের ওপর আসা হঠাত আনক্যালকুলেটেড
স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের প্লাবনে ছিঁড়ে যাওয়া তথ্যের ময়না তদন্তের
স্বাক্ষী বদলের সাক্ষী থাক নির্বাক সময়

আর

নর্মদা নদীর অভিশ্রুতি চাপা দেয় একটা হাস্যমুখি লাশ, ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞায়
হাতে ধরা রিপোর্টে একটা তার যার এক প্রান্ত পুতুলের মাথার ছিদ্রে
আরেক প্রান্ত ছেড়ে গেছে মুঠো করা হাত থেকে

নুন নেই

কিছু অস্বাভাবিক নৈকট্যে তুলনা করি, ফিরে দেখি বছর দুয়েক
কিছু উদ্গত অস্ফুট অভিশাপ জোড় করে গিলে নিই অভ্যস্ত উদারতায়

সাড়ে আটটার ব্যারাকপুরে স্মৃতি পায়ে দলে স্টেশন অফিস
আলু কিলো তিন টাকা, আমার ঘরে ডি.ডি.টি. বা নুন নেই ।

ট্রেনে আড়চোখ , চুরি করে দেখা
পাশাপাশি ছেলে মেয়ে মৃদু হাসি, চিমটি …

আমার সাড়ে নটা, ঘাম ডিও বাস,
ছত্তীশগড়ের টয়লেটে মেয়েটা আছড়ে ফেলতে চায় বারবার গুঁজে দেওয়া পুরুষতান্ত্রিক পাথর ।

আলু তিন টাকা কিলো, আমার ঘরে ডি.ডি.টি. বা নুন নেই …

Status Single !!!

অনেকে অনেক বার নানা মুহুর্তে প্রশ্ন করেছে, স্বর বা ধরণ আলাদা হলেও
ঘুরে ফিরে অবয়ব বদলে আসা প্রশ্নটা একই, তুমি ! তুমি সিঙ্গেল ? সে কী !

আর তার পরেই অবিশ্বাসী চোখ নিয়ে সেই একই প্রশ্ন, “কিন্তু কেন !!! ??”
উত্তরটা না দিয়ে মৃদু হেসে চলে আসি রহস্য ঘেরা হাবভাব আর বোদ্ধা মুখে

আসলে সত্যি কথাটা কী করে বলি বলুন তো, আপনাদের ব্যক্তিগত ঠুলিতে
যদি পাগল কিম্বা মিথ্যেবাদী ভাবেন ? ভাবেন প্রতারক, ভন্ড কিম্বা গাঁজাখোর

তাই বার বার বলতে চাওয়া সত্যিকথাটা গিলে নিই সাবধানে, নিপুন অভিনয়ে
আমার প্রাণহীন প্রেমের লাশেরা যে আজও ঘোরে রাস্তায় অন্যকোনো সাইকেলে

ছিনাথের ল্যাজ

মাঝে মাঝে নতুন জামা পরেনিতে ইচ্ছা করে সবার আড়ালে কোনো গলি ঘুঁজিতে
লাল নীল সবুজ, আলখাল্লা বা কুর্তায়, পাগরী কিম্বা ফেজ কখনওবা দাড়ি কখনও
শুধুই কামানো মাথা বা হাতে কড়া, না না, সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের কথা বলতে বসিনি
এটা একান্তই ব্যক্তিগত শখ বা ভণিতা, বহুরূপী জন্মগত কেউ, কেউ শুধু নির্মল
শখে, কারুর নিষ্ফল আক্রোশে নিজের বোকামির লজ্জা ঢাকতে ছিনাথের ল্যাজ
কাটা যায়, পৌরুষের ফিনাইল গন্ধী ঘরের দেওয়াল আলো করে ঝোলে স্টাফড
ট্রোফির মাথা দাঁত বের করা, চোখে বোকা বোকা মার্বেল গোঁজা, আমারও ইচ্ছা
করে তোমার ঘরে তোমার অতীত কৃতিত্ত্বের সাক্ষি হয়ে ঝুলে তোমায় বিকৃত মুখে
অনন্তকাল দাঁত খিঁচোতে, তোমার শেষজীবনের বিকারে জীবন্ত হওয়া দুঃস্বপ্ন হতে

ছিনাথেরা তোমার মত পবিত্রতায় বিশেষ সময়ের তৃষ্ণায় শরীরের গোপন অংশের
আবরণ খুলেদিতে পারেনা অন্ধকার ঘরের মুষ্টিমেয় দেনাপাওনার হিসেবের আসরে
ছিনাথের শরীরের সঙ্গে যে মিশে যায় ওর সাজের চামড়া, কখনও বাঘ, কখনও
ফকির, কখনও রাজা, ছিনাথেরা রাজপথে পথে ঘোরে হাতের বাটিতে কাগজ পিন
ছিনাথেরা খোলা বাজারে আবরণ খুলে নগ্ন হতে জানে, তোমাদের বিদ্রুপের সামনে

প্রেম – ফ্রেম

তুমি ভেবেছিলে তুমি ল্যামিনেটেড, গ্লসী ব্ল্যাক ফাইবারে কেমিক্যাল
পেস্টেড ছাপ, অবিনশ্বর, ইচ্ছা করে হারিয়ে যাওয়ার নোটঙ্কিতেও
অবিচ্ছেদ্য, অপরিহার্য্য, নাগালের বাইরে কোনো প্রাসাদের ব্যালকনী
থেকে অন্যকারুর সম্পত্তিতে তৃপ্তির হাসি হাসবে আমার দিকে চেয়ে

কাঁচের ফ্রেমবন্দী না হওয়ার আত্মবিশ্বাসে খেলেছ, আমার নিউরণের
পাপোশে তুলে দিয়েছ তোমার প্রতিবারের স্বকীয়তায় কর্দমাক্ত জুতো
কনফিডেন্সে মাত্রা ভোলার স্পর্ধা তোমায় অচেনা করেছে, ভেবেছিলে
ল্যামিনেটেড ফ্রেমের রাসায়নিকে স্ট্যাটিক ছবি বদলে ফেলা যাবেনা

কিন্তু তুমি জানো না, প্রাসাদের ডেকোরেটেড দেওয়ালে ঝুলন্ত ছবিটাও
ঝাপসা হয় সময়ের ধূলোয়, সামর্থ্যহীন হাতে জ্বলন্ত অঙ্গারে এঁকে নেব
অন্য কোন সরল রেখার চিত্র, যা যন্ত্রণা বা খুশীতে থাকবে আমার সাথে
কারণ তোমার মনে রাখা বা ভোলাতে তোমার নষ্ট বাস্তব পাল্টে যায় না