ফেভারিট ডিশ

আজকের বক্তৃতার হাততালি আর পিঠচাপড়ানি চেটেপুটে
নারীমুক্তি বা ধর্ষকের কঠোর শাস্তির দাবীর সওয়াল জবাব
জনিত পরিশ্রমের পরে কোল্ডড্রিঙ্কস ছাড়া আর কি খেলে ?

কি গো বিদ্বজন ? বাড়িতে আজ কী হল ? মাংস না ইলিশ ?
স্বভাবকবি বা বিপ্লবী সমাজের হটকেক নিয়ে অবশ্যকর্ম চচ্চরি
আর সান্ধ্য মজলিশের গেলাসের পাশের ঝালছোলার চাট ?

চলন্ত বাসের জানলার ধারে বসা অচেনা লোভনীয় শরীরটার
মুখের কোমলতা দেখার খেয়াল থাকেনা, ক্যাকাফোনী ঢেকে
দুকান ভরে কল্পিত শীৎকারে, লালা ঝরে সুটেড-বুটেড সভ্যতার

অল্পদিনের ভিন্ন শারীরিক গঠনের বন্ধুত্বের হাত সংক্রমণের মত
কোপন গতিতে পৌঁছতে চায় তোমার স্বাধীনতায়, ঘ্রাণ নিতে চায়
তোমার গোপনীয়তার, পোষা মোরগের দিকে তাকিয়ে লালা ঝরায়

পথের ধারের স্কুলফ্রক পরিহিতার অনাবৃত উরুর দিকে চোখ রেখে
মনমৈথুনে ব্যস্ত সভ্যতার লালা ঝরে, বিসর্জিত দেবীমূর্তির দিকে
তাকিয়ে লালা ঝড়ে, ঝড়ে পচাশরীরের বাজারে, হাসপাতালে মর্গে

কি হে বিদ্বজন যে উত্তরটা তোমার গলায় আটকে আছে আর মস্তিষ্কে
স্টিমুলেট করছে সাবধানে লুকিয়ে রাখা সুখ, ওটা আমি চিনি, পারি
তোমার রাতের অন্ধকারে সার্ভ করা প্রিয়খাদ্যের স্বাদ অনুমান করতে

মস্তিষ্কে জমতে থাকা দলা পাকানো থুতুটা তোমায় ছুঁড়ে অপচয় না করে
গিলে নেব প্রয়োজনের প্রায়োরিটিতে, রেডিওলজিষ্ট চোখ কঙ্কাল দেখায়,
এক্স-রে প্লেটে স্পষ্ট আমার মনের ছবি, আর স্পষ্ট তোমার মুখোশের রঙ

আরেকটা হটকেক হেডলাইনের অপেক্ষায়

ভাইফোঁটার পবিত্রতার মোড়কে ফোঁটা ফোঁটা নির্লজ্জ কামনা ঝড়েছিল
তোর ফ্রক তুলে ধরে অকপট করে দেওয়া উরুর মোলায়েম দেওয়ালে
প্রথম আদীম জন্তুটার প্রতিবর্ত ঘামের গন্ধের স্বাদ দিয়েছিলি যত্ন করে

পারিবারিক অন্ধকার কানাগলির হারিয়ে যাওয়া ল্যাম্পপোস্টের মত
বিস্মৃতির অতলে ফেলেছিস আমার কৌতুহলে কাটাছেঁড়া নষ্ট শৈশবের লাশ
আজ তোর লালপাড় সাদা শরীরের রক্তমাখা টুকরো আপন করতে চাই …

প্রথম স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলে তুই থেকে তুমির পরিবর্তিত আন্তরিকতায়
কৈশোরের কৌতুহল মিটিয়ে খেলেছিলে আপন করার “চু – কিত কিত”
বিকৃত আনন্দের স্ট্রাটেজিক চাবুকে ছিঁড়েছ আমায় ইচ্ছে মত যখন খুশী

আজ যদি প্রিয়বন্ধুর ধোঁয়াশা মাখা বোরখায় হাত ধর নতুন স্বপ্নের বাজারে
উৎসুক সন্ধ্যায় যে একলা দেওয়ালে ঠেসে ধরে শিখিয়েছিলে চুমুর অনুভব
সে পাঁচিল তোমার ফাটিয়ে বের করা মস্তিষ্কের রঙে রাঙ্গাতে চাইব না বল ?

পরিবার হয়ে বাঁধতে চেয়েছিলি সহজ-সরল ভালোবাসায় আর সাংসারিক
আলোচনা, একটা রূপকথার মত পথে হাঁটার হাতছানি আর অভিনয়
নোংরা নর্দমার পথে শুষেছিস আমার সব সুখ, মন্থনের অন্তিম অভিলাষে

আজ আবার নতুন রক্তের স্বাদে ছিবড়ে করা আমার নষ্ট শরীর থেকে মুখ
ফিরিয়ে, হানা দিচ্ছিস অন্য কোনো কাটা ঘায়ের পচা গন্ধে সেবিকা সেজে
তোকে আহুতি দেওয়া যজ্ঞের ছাই গায়ে মেখে জ্বালা জুরোবোনা কেন বল ?

আরেকটা নতুন হেডলাইন পিছনে ফেলবে অন্য সব প্রচলিত বা বানানো
“হটকেক”, “হাতে গরম”দের, ভাজা মৌরির মত মৌতাত করে খেয়ে নতুন
“রীপার” এর অমানবিকতার ঢেঁকুর ম্লান করবে কানা শহরের ক্যকাফোনি ।

সিদ্ধির অপেক্ষায়

আমার আশ্রমের সামনে দিয়ে বয়ে যায় ছোট নদী
চার পাশের গাছ গুলোয় ফুটে আছে লাল ফুল
ধোঁয়ার অন্য রকম গন্ধে এখানে সব কিছু শান্ত
আমার সৌম্য মূর্তি ভস্ম মাখা বরাভয় ছড়িয়ে দেয় পরিবেশে

লোকে বলে আমি সিদ্ধ পুরুষ, আমার দর্শনে তারা
সাহস পায় জীবনের যুদ্ধ গুলোর মুখোমুখি হতে
আমার জটাজালের ভার আমার বয়সের সাক্ষী তারা জানে
জানে আমি চাইনা কিছুই, তবু দিয়ে যায় খাবার

তারা শুধু জানেনা আমার রক্তাম্বর তোমার রুধিরে ছোপানো
জানেনা যজ্ঞধূমের গন্ধটা তোমার মেদের আহুতিতে
জানেনা সকালের যত্নে শরীরে মেখে নিই তোমার চিতাভস্ম
জানেনা আমার জপমালাটার হাড়ের পুঁতিগুলো তোমার অবদান

তারা জানেনা মধ্যরাতের গুহ্য সাধনার অছিলায় আসনের নীচে
স্মৃতির কবর খুঁড়ে তুলে আনি তোমার বহুব্যবহারে পচা দেহটা
আমার সাধনা তোমার নিস্পন্দ চোখে গেঁথে দেয় একটা প্রশ্ন
যে প্রশ্নের অস্তিত্ত্ব তুমি বার বার অস্বিকার করেছ ঘন কাল নিস্তব্দতায়

মুখোশের আড়াল

অনেক নাটক হয়ে গেছে
সুশীল, সুবোধ বা গান্ডু যাই বলনা কেন
জন্ম থেকে মুখের চামড়ায়
জোড় করে সেলাই করে দেওয়া মুখোশটা
চুলকে লাল করে ফেলেছি

যৌনপল্লীর রাস্তায় নিষিদ্ধ গন্ধের গোপন
অভিসারে ব্যস্ত নাকটাকে অনেকবারের
কষ্টে সিঁটকোনোর পোজ দেওয়া করিয়েছি
তোমার বহুগামীতাকে মেনে নিয়ে
সমাজের সামনে ক্ষমাশীল মৈত্রেয়ের অবতার
হইনি, অভিনয় করেছি …

আমি হতে চাইনা সাজানো গোছানো
দারু খোর দেবদাস বা ব্যর্থ কবিতাকার
হতে চাইনা, তোমাদের বাড়তি করুণার
ডোনেশন বক্স, হতে চাইনা
যন্ত্রণায় জন্মনেওয়া আর্ট ওয়ার্ক…

হতে চাইছি লাশকাটা ঘরের একনীষ্ঠ শীল্পি,
অশনাক্ত নারী শরীরের থ্যাঁতলানো মুখ দেখে
জ্বলজ্বলে আশায় দাঁত বের করে হাসতে
মুন্ডু খুঁজে না পাওয়া রেলেকাটা নগ্ন শরীরটার
দিকে তাকিয়ে ছুরি চালাতে চাইছি এঁটো আঁস্তাকুড়ে,
যেটা দিয়ে তুমি খুন করেছ আমার প্রতিবিম্বদের

হারিয়ে যাওয়ার আগে

শুধু নিজের বলে দাবী করার কাউকে খুঁজছি দিনের পর দিন
যার সঙ্গে ভাগ করা যাবে মস্তিষ্কের যে কোন কোণের ভার

যার সঙ্গে ভালবাসা বা কাল্পনিক কোনো অনুভুতি সত্যি বলে
ধরে নেওয়াযাবে নির্দ্বিধায়, শুধু হাতে হাত ধরে চোখ বন্ধ করে

মাথার ওপর একটা প্লাস্টারহীন ছাদ আর বসের কড়া চোখে
নীরবে পেরিয়ে যাওয়া উপহার হীন জন্মদিনেরা ব্যর্থ যাবেনা

পুরোনো তোষকের ওপর ভাগাভাগি করা একটা চাদর যার
সঙ্গে হয়ে উঠবে স্বপ্নকল্পিত বরফের নিস্তব্দ নীলাভ কন্দর

আসলে খুঁজছি পরশ পাথর জানি সেটা শুধু সিনেমা বা গপ্পে
ঝিলিক দিয়ে যায় অযৌক্তিক আশাকে উস্কে দিতে তবুও

*********************

লাল,লীল,সবুজ মিশে একাকার প্যালেট থেকে কালি মাখছে শ্বেতপাথরের মেঝে
পথের ধারে আমার দীর্ঘ ছায়াটার মত কাল, যেটার অবিনশ্বরতার গর্ব ভুলে যাবে তুমি

পয়সা বাঁচানোর ফিকির বা শেখার আনন্দে তাতালের উষ্ণ স্পর্শে যখন দক্ষিণা দেব
তোমার নিয়ন্ত্রিত ঘরের জানলায় নতুন বাঁচতে শেখার প্রতিবিম্বেরা হাসবে, জড়াবে

খেলতে খেলতে ঘুম আসার আগে সাফল্যের মুচকি হাসি আমার একান্ত নিজের
তোমাকে হাত ধরে ভাঙ্গাচোরা জঞ্জালের পৃথিবী থেকে পৌঁছে দিয়েছি তোমার অজান্তে

ঘুম আসতে হবেই কারণ সুন্দর নতুন পৃথিবীতে প্রবেশাধিকার চাইনি কখনও
শেষবারের মত ছুঁয়েছি তোমার হাত সীমান্তে, কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আগে

ফাউন্টেন ব্রেণ

প্রতিদিনই কলমের ছোঁয়ায় রামধনুরঙ্গা স্বপ্ন আঁকতে বসি
কিন্তু মস্তিষ্ক থেকে অঝোড়ে ক্ষরিত ভাবনার নির্যাসেরা
কলমের মুখবেয়ে শুধু বিষ ঝড়ায়, ঘন কালো অন্ধকার বা
ভুল হয়েযাওয়া সভ্য বাস্তবের জন্য জমানো খিস্তির মত

তোমার অবিকৃতি

লেখার অনুপ্রেরণা ইতি উতি খাটের তলা, সোকেশে বইয়ের আড়ালে,

জমানো ছাতা পড়া গ্রীটিংস কার্ডে, ফেসবুকে, আনঅ্যান্সার্ড মেসেজে

কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা ।

এইসব মুহুর্তের জন্য কোরামিন হিসাবে রাখা ছিল তোমার ঘামে ভেজা রুমাল ।

গোপনিয়তায় তোমাকে অনুভব করার জন্য । কিন্তু প্লাস্টিক প্যাকেটে রাখলেও

হাজার বছরের ব্যবধান ঘামের গন্ধ বা অনুভূতি কোনোটাই অবিকৃত রাখেনা ।