বাঙালীর ঘরোয়া বড়দিন আর ভালোবাসার কেক

বড় দিন এসে গেল প্রায় । আদতে ভারতীয় উৎসব না হলেও বড়দিনের সাহেবী কায়দার বাঙালীত্বকরণ আমরা করে নিয়েছি অনেকদিন আগেই । সেই উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকেই মূলতঃ কলকাতা সারা বিশ্বের সঙ্গে একই ভাবে মেতে উঠত বড়দিনের রঙিন উৎসবে । ইদানিং বড়দিন পালন করার রেওয়াজ কলকাতা, মফস্বল ছাড়িয়ে পল্লী-গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে । বড়দিনের দিন চার্চে গিয়ে মোমবাতি জ্বালানো বা গোলাপফুল দেওয়া (পুষ্পাঞ্জলী স্টাইলে) এবং সান্তাক্লসের সঙ্গে সেলফি তোলা তো এখন বড়দিনের অপরিহার্য্য অংশ হয়ে উঠেছে । এছাড়াও পার্কস্ট্রীট ঘোরা, ক্রিসমাস ট্রী কিনে ঘরে সাজানো কিম্বা সান্তাক্লসের টুপি পরে রাস্তায় বেরোনো এগুলো না করলে লোকজন আজকাল আনকালচার্ড বলে প্যাঁক ও দেয় বটে ।

1513646_564495096977974_1653221344_n 1525509_564498370310980_1244577649_n 1526483_564495146977969_512331934_n 1531832_564498420310975_188318127_n 1545049_564498373644313_164100854_n

এই সব নতুন নতুন বিশ্বায়িত সংযোজন হালে হলেও একটা রেওয়াজ কিন্তু বহু কাল হল বাঙালীর শিকড়ে মিশে গেছে । কেক । এমনকি যখন বাঙালী জন্মদিনে আবশ্যিক খাদ্য ছিল পায়েস তখনকার দিনেও বড়দিনে ভোজনরসিক বাঙালীর কেক খাওয়া ছিল মাস্ট । এখন বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের নানা ফ্লেভারের কেক শপিংমলের প্যাকেটে চড়ে বা পাড়ার মোড়ের মনজিনিস – সুগার এন্ড স্পাইশ থেকে হোমডেলিভারী হয়ে বাঙালীর টেবিলে এসে পৌঁছলেও একটা সময়ে বাঙালীর রান্না ঘরে চালুনি, বেলুন, চাকী, তারজালি ছিল আবশ্যিক ইন্সট্রুমেন্টস, পাড়ার মোড়ে মোড়ে রুটির দোকানের আইডিয়া তখনো আসেনি । সেই সময়ের বাঙালীর শীতকালে পিঠে পার্বণের মতই অন্যতম একটা উৎসব ছিল কেকের উৎসব বড়দিন । আজকাল ভাপা পিঠে, গুড় পিঠে, পাটি সাপটা, পায়েস পুলি সব সম্ভ্রান্ত মিষ্টির দোকানে কিনতে পাওয়া যায় । অন্ততঃ কোনো বাচ্চাকে এই পিঠে নামের “কনফেক্সনরীর” উৎস জিজ্ঞাসা করলে সে ওই মিষ্টির দোকান ই দেখিয়ে দেবে কিন্তু একটা সময়ে আমরা যারা ছোট ছিলাম তারা চাল গুঁড়োনো থেকে পুর পাক করা — পিঠে তৈরীর কৌশলটা চোখের সামনে দেখতে দেখতেই শিখে গিয়েছিলাম বিভিন্ন রেসিপি ।

কথার মাঝে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া আমার একটা বদভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে । যাই হোক, কেকের কথা হচ্ছিল । বহুদিন থেকেই বড়দিনে কুক্কুটান্ড নিষিদ্ধ নয় এমন সব বাড়িতেই প্রকাশ্যে (এবং পূর্বোল্লিখিত বাড়িগুলির অনেকগুলিতেই গোপনে) কেক ভক্ষণ ছিল অবশ্য কর্তব্য । আর একটু এলিগ্যান্ট ফ্যামিলিতে যাদের প্রাত্যহিক কাজ বাদ দিয়ে কিছু অবসর মিলত তাঁরা বাড়িতেই তৈরী করতেন নানা স্বাদের হরেক রকম কেক । কেক কেনা যে হত না তা নয় । বিশেষ করে বেশ কিছু বেকারীর হাতে তৈরী কেক তো কিংবদন্তীর পর্যায়ে উঠে গেছিল । তবু বাড়িতে বানানো জিনিসের মজাই আলাদা ।

তো চলুন বড়দিনের আগে আগেই একটা কেক বানানোর রেসিপি দিয়ে দি আপনাদের জন্য ।

————————————————————————————————–

উপকরণঃ-

২০০ গ্রাম / ২ কাপ চিনি ( মিক্সিতে গুঁড়িয়ে পাউডার করে নেবেন )

১৫০ গ্রাম / ১.৫ কাপ বাটার ( গলিয়ে নেবেন , বাটার না থাকলে সাদা তেল নিতে পারেন )

২ টো ডিম ( মুরগীর ডিমই রেকম্যান্ডেড তবে বাড়ির কারুর অসুবিধা থাকলে হাঁসের ডিম ও দিতে পারেন )

২ চামচ ভ্যানীলা এসেন্স ( হাঁসের ডিমের ক্ষেত্রে ৫ চামচ দেবেন )

২ চামচ বেকিং সোডা

২০০ গ্রাম / ২ কাপ ময়দা

১৫০ মিলি লিটার / ১.৫ কাপ দুধ

চকলেটের গুঁড়ো ( কাছাকাছি কোথাও না পেলে ডেয়ারিমিল্ক বা বোর্ণভাইল কিনে গুঁড়ো করে নিতে পারেন মিক্সি তে )

ড্রাই ফ্রুটস ( কাজু, কিসমিস, আমন্ড, মোরোব্বা, মিষ্টিবাদাম, বীজ ছাড়ানো শুকনো খেজুর বা চুহারা ইত্যাদি )

———————————————————————————————–

মিশ্রণ তৈরীর পদ্ধতীঃ-

প্রথমে একটা পাত্রে ময়দা আর বেকিং সোডাটা নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন । এবার অন্য একটা বাটিতে গলানো বাটার বা সাদা তেল নিয়ে সেটায় চিনির গুঁড়োটা ঢেলে দিন । ভালো করে ঘাঁটতে থাকুন । ভালভাবে মিশে যাওয়ার পর ডিম গুলো ফাটিয়ে দিয়ে দিন । ভালভাবে মেশাতে থাকুন । এর পর ভ্যানীলা এসেন্সটা দিয়ে দিন এবং চকোলেটের গুঁড়োটা মিশিয়ে ভালো করে ঘাঁটতে থাকুন । প্রায় মিনিট দশেক ঘাঁটার পর যখন ভাল ভাবে মিশে যাবে, তখন ওতে সোডা মেশানো ময়দাটা দিয়ে দিন এবং ভাল করে মেশাতে থাকুন । ইলেকট্রিক হ্যান্ড মিক্সার থাকলে ভালো তবে বেশী সময় নিয়ে একটু পরিশ্রম হলেও ম্যানুয়ালী চামচ দিয়ে মেশানোর মত ভাল অন্য কিছুতে হয় না । মিশ্রণটায় কোনো ডেলা থাকলে চলবেনা । প্রয়োজন মত দুধটা মিশিয়ে নিতে হবে ।

————————————————————————————————-

বেকিং এর পদ্ধতিঃ-

মাইক্রোওভেনের ক্ষেত্রে —- মিশ্রণটাকে ফ্ল্যাট বেস স্কয়ার বা ফ্ল্যাট বেস ওভাল বা ফ্ল্যাট বেস রাউন্ড পাত্রে (মাইক্রোওয়েভেবল) বেক করতে হবে । মিশ্রণটা ঢালার আগে পাত্রের গায়ে বাটার মাখিয়ে পিচ্ছিল করে নিন । এবার ওতে সামান্য ময়দার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন  । আর পরে মিশ্রণটা ঢালুন । মিশ্রণটা পাত্রের আর্ধেক উচ্চতা পর্যন্ত ঢালবেন কারণ বেক হওয়ার সময় কিন্তু ওটা আয়তনে বেড়ে যাবে । এর পর ওটাকে মিক্স মোডে দিয়ে ১৫ মিনিট মাইক্রোওয়েভ টাইম সেট করে দিন । বেকিং কনভেকশন বা গ্রীল মোডেই ভাল হয় । তবে তাতে দেরী হয়। তাই মিক্স মোডে করলে মোটের ওপর খারাপ হয় না আর তাড়াতাড়ি হয়েও যায় ।

মাইক্রোওভেন বা কেক ওভেন না থাকলে — মিশ্রণটাকে একটা সিলভারের বাটিতে বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের শেপিং কেসে করে বেক করতে হবে । মিশ্রণটা ঢালার আগে পাত্রের গায়ে বাটার মাখিয়ে পিচ্ছিল করে নিন । এবার ওতে সামান্য ময়দার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন  । আর পরে মিশ্রণটা ঢালুন । এবারে একটা কুকারের মধ্যে একটা স্টিলের ডিশ বসিয়ে তার উপরে মিশ্রণের পাত্রটা রেখে কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে ওভেনে মাঝারি ফ্লেমে বসিয়ে দিন । মিনিট চল্লিশ লাগবে বেক হতে । কুকারের ভিতরে যেন আবার জল দেবেন না ।

1535595_10201198457912667_675048339_n 12177_4132355876355_1725569706_n 281709_4132350916231_863477890_n 383598_4132351716251_1044286794_n 393114_4132351596248_850919160_n 409422_4132352676275_629233604_n 1525397_10201198458192674_1060476260_n 1528523_10201283713123994_1927139259_n

—————————————————————————————————-

ডেকরেশন এর জন্যঃ-

ডেকরেশনের ক্ষেত্রে নিজের ভাবনার রঙে রাঙ্গিয়ে নিতে পারেন কেকটা কিম্বা নিজের ভালবাসার মানুষদের নাম লিখে সাজাতে পারেন । ডালিমের কোয়া, চেরী বা কিসমিস ওপরে দিয়ে সাজাতে পারেন । কেক ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে ক্রীম অপরিহার্য্য । ক্রীম দুভাবে বানাতে পারেন ।

প্রথম উপায় —  দুধের সর জমা জমা করে সেটাকে একটা পাত্রে নিয়ে পাত্রটা বরফের উপর বসিয়ে ঘাঁটতে থাকুন । কিছুক্ষন পরে যখন ওতে আর কোনো ডেলা ডেলা ভাব থাকবে না, তখন ওতে কিছুটা পাউডারড সুগার আর কয়েক চামচ ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে ঘাঁটুন আরও কিছুক্ষণ (লক্ষ্য রাখবেন তেলতেলে মাখন যেন উপরে ভেসে উঠতে না থাকে) । ব্যাস কেক ডেকরেশনের জন্য আপনার ক্রীম তৈরী । বিভিন্ন ফ্লেভারের জন্য ওতে চকলেট কিম্বা আম ইত্যাদি মেশাতে পারেন ঘাঁটানোর সময় । রঙিন ক্রিম বানানোর জন্য কামধেনু বা অন্যান্য কোম্পানীর ভোজ্য রঙ ব্যবহার করতে পারেন ।

দ্বিতীয় উপায় — একটা পাত্রে আধ কাপ ঠান্ডা জল নিন । এতে দশ গ্রাম জিলাটিন মেশান । ৫ মিনিট রেখে দিন যাতে সমস্ত পাউডার টা জলে মিশে যায় । এর পর হাল্কা আঁচে বসান আর যতক্ষণ না পুরো জিলাটিন টা জলে গুলে না যায় নাড়াতে থাকুন । এর পর একটা পাত্রে ২ কাপ দুধ নিয়ে (গরুর বা মোষের দুধ হলে ভাল হয়, কেনা দুধ সাধারণতঃ ফ্যাট ফ্রী ছাড়া পাওয়া যায় না আজকাল) ওতে মিশ্রণটা ঢেলে দিন ও নাড়াতে থাকুন যাতে দুধ ও জিলাটিনের মিশ্রণটা ভালোভাবে মিশে যায় । এরপর এতে ১ চামচ ভ্যানিলা এসেন্স আর আধ কাপ চিনির পাউডার দিন । ভালভাবে মিশিয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন । ২০ মিনিট পর ফ্রিজ থেকে বের করুন আর কিছুটা নাড়াচাড়া করে আবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন । ২০ মিনিট পরে আবার বের করে ভালভাবে মিশিয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন । তিন চার বার এই প্রসেসটা রিপিট করার পর ফাইনালি এটা বের করুন আর মিক্সি বা হ্যান্ডমিক্সার দিয়ে ভাল করে প্রায় মিনিট ১০ ধরে এটাকে নাড়াচাড়া করুন । ব্যাস ক্রিম রেডি । জিলাটিন কাছাকাছি দোকানে না পেলে এখান থেকে হোমডেলিভারীতে আনিয়ে নিতে পারেন — http://www.ebay.in/itm/Gelatine-/321601840633?pt=LH_DefaultDomain_203&hash=item4ae0f6a5f9

দোকানের সস্তা কেক বা ক্রিম রোলে থাকা ক্রীমের রহস্য ———- দালদা গলিয়ে সামান্য ভোজ্য রঙ আর চিনির পাউডার মিশিয়ে ঘাঁটতে থাকুন । সবচেয়ে সস্তা আর তাড়াতাড়ি তৈরী ক্রিম পেয়ে যাবেন । দোকানের কেক বা রোলে এই ক্রীমই প্রতিদিন খাচ্ছেন আপনি ।

তাহলে বড়দিন মনের মত করে উপভোগ করুন । কেমন লাগলো কেক বলবেন কিন্তু । আমি ফিরে আসছি খুব শিগগিরই পিঠেপুলির অজানা সব রেসিপি নিয়ে ।

This slideshow requires JavaScript.

রয়াল গোল্ড (Home Brewed Wine)

রয়াল গোল্ড প্রস্তুত প্রণালী

প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি

১) সামান্য ভাজা চিনি ২০০ গ্রাম
২) কালো আঙুর ২০০ গ্রাম
৩) গন্ধরাজ লেবু (কাঁচা) ১ টি বড়
৪) কালচে মধু (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৫) দারুচিনি (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৬) লবঙ্গ (ইমিডিয়েট নয়, পরে লাগবে)
৭) মাপনী ফ্লাস্ক (নূন্যতম ৫০ মিঃলিঃ সাইজের)
৮) সবুজ আপেল (যত কাঁচা হয়, ততই ভাল) ৪ টি মাঝারী সাইজের
৯) ইস্ট (ছোট একটা ২০টাকার কৌটো)
১০) স্টেরিলাইজড সাইফন পাইপ
১১) দুটি ক্লনিকাল ফ্লাস্ক ৫০০ মিঃলিঃ সাইজের
১২) ব্রিদার ও কর্ক

প্রস্তুতপ্রণালীঃ-
প্রথমে ফ্লাস্ক, পাইপ, ব্রিদার এগুলিকে গরম জলে ধুয়ে স্টেরিলাইজ করে নিন, ইস্ট ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি ওয়াইনকে টকিয়ে দেবে এবং বিষাক্ত করে দিতে পারে । এবার আপেল আঙুর এগুলিকে ভাল করে ধুয়ে নিন । আপেল টুকরো টুকরো করে নিন । মিক্সি বা অন্যকোনো ভাবে এগুলিকে গ্রাইন্ড করে নিন । গ্রাইন্ড হয়ে যাওয়ার পর মার্কিন বা অন্যকোনো পরিস্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিন । ছেঁকে নেওয়া ফলের রসকে এবার একটা পরিস্কার পাত্রে (কোনো ভাবেই তামা, পিতল, কাঁসা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র চলবেনা) ১ ঘন্টা রেখে দিন কাপড় ঢাকা দিয়ে ।
১ ঘন্টা পর ঐ রসের মধ্যে গন্ধরাজ লেবুর রস মিশিয়ে ভাল করে ঘেঁটে দিন । আবার কাপড় ঢাকা দিন এবং ২ ঘন্টা রেখে দিন ।
১ ঘন্টা ৩০ মিনিট পরে একটা কাঁচের গ্লাসে অর্ধেক ঈষদুষ্ণ গরম জল নিন (৫০ মিঃলিঃ পরিমাণ), গরম যেন খুব বেশী না হয়, হাত দিলে ছেঁকা পড়ার মত গরম যেন না হয় । ঐ জলে সামান্য চিনি (চা চামচ পরিমাণ) গুলে নিন, এবার ওতে এক টেবিল চামচ ইস্ট গুলে দিন । এবার গ্লাসটাকে রেখে দেখতে থাকুন । প্রথমে ইস্ট গুলো তলায় থিতিয়ে পড়বে, তার পর একটা একটা করে ভেসে উঠতে থাকবে, এবং জলে ফেনা কাটতে শুরু করবে । ফেনা তৈরী হওয়া মানে আপনার ইস্ট মিশ্রন রেডী ।
এতক্ষনে ২ ঘন্টা কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার কথা । ফলের রসের ঢাকনা খুলুন, ওতে ২০০ গ্রাম চিনি মিশিয়ে দিন, এবার ২০০ মিঃলিঃ স্টেরিলাইজড জল মেশান । ভালো করে ঘেঁটে দিন ।
ফলের জুসের মিশ্রন থেকে ৪০০ মিঃলিঃ রস নিয়ে ক্লনিকাল ফ্লাস্কে ঢালুন । বাকি জুস টা আপনি গ্লাসে করে খেয়ে নিতে পারেন, সরবত হিসাবে মন্দ লাগবে না ।
এবার ফ্লাস্কে ইস্ট মিশ্রণটা ঢেলে দিন । ফ্লাস্কের মুখে কাপড় চাপা দিয়ে ১ ঘন্টা রেখে দিন ।
১ ঘন্টা পর এয়ারলক ব্রিদার যুক্ত কর্কটা ভালো করে ফ্লাস্কের মুখে এঁটে দিন । এবার ফ্লাস্কটাকে কোনো ছায়া আছে এমন জায়গায় (মোটামুটি ঠান্ডা জায়গায়) ১ মাস রেখে দিন । এক মাসের মধ্যে ওটাকে কোনো রকম নাড়াচাড়া করবেন না ।

একমাস পরে সাবধানে কর্ক খুলুন, নাড়াচাড়া যতদূর সম্ভব কম করে । এবার সাইফন পাইপটা দিয়ে মিশ্রণটাকে আস্তে আস্তে দ্বিতীয় ক্লনিকাল ফ্লাস্কে ঢেলে নিন (ব্যবহারের আগে দ্বিতীয় ক্লনিকাল ফ্লাস্ক ও সাইফনটাকে স্টেরিলাইজড করে নিতে ভুলবেন না) … এমন ভাবে ঢালবেন যাতে প্রথম ক্লনিকাল ফ্লাস্কের নীচে থিতিয়ে পড়া স্লাগ (ইস্ট, ফলের সুক্ষ ফাইবার ইত্যাদির থকথকে স্তর) দ্বিতীয় ফ্লাস্কে না আসে । সম্পূর্ণ মিশ্রণ টা দ্বিতীয় ফ্লাস্কে আসার পর তাতে কয়েকটা লবঙ্গ আর দারুচিনির টুকরো দিয়ে এয়ারলক ব্রিদার সহ কর্কটা এঁটে আগের মত করে রেখে দিন ২ মাস । এই ২ মাসের মধ্যে প্রথম ক্লনিকাল ফ্লাস্কটাকে ধুয়ে পরিস্কার করে রেখে দিন ।

২ মাস পর মিশ্রণটাকে ছেঁকে নিন, ফিল্টার কাগজ দিয়ে ছাঁকতে পারলে ভালো হয় । এবার ওতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ভালো করে কর্ক (ব্রিদার ছাড়া, মানে কমপ্লিট এয়ারলক কর্ক) এঁটে রেখে দিন মিনিমাম ৬ মাস ।

জিনিসটা তৈরী হয়েছে কিনা সেটা বোঝার উপায় হল এর রঙ, প্রথম প্রথম এর রঙ থাকবে খড় ধোওয়া জলের মত ঘোলাটে টাইপের । যত ম্যাচিওর হবে তত এর রঙ পরিবর্তন হয়ে স্বচ্ছ সোনালী হতে থাকবে ।

10151335_10201830087423010_874172316751756192_n 10255372_10201835137669263_2975951136284147170_n

টিপসঃ – আমি কাঁচের মাপনি ফ্লাস্কের বদলে প্রথম দিকে (যখন আমার মাপনি ফ্লাক্স ছিলনা) বড় সাইজের সার্জিকাল ইঞ্জেকশন ব্যবহার করতাম । সেটায় ৫০ মিঃলিঃ পর্যন্ত দাগ দেওয়া থাকে । হিসাব করার সুবিধা যদি আপনি এখানে যা মেজারমেন্ট দেওয়া আছে তার অর্ধেক হিসাবে বানিয়ে টেস্ট করতে চান ।