সুসুপ্তি

ঝড়ের মেঘ আকাশ কালো পালিশে চকচক করা বিদ্যুৎ
যে ঝড় আমি বড্ড ভালবাসি, আর তোমার বিরক্তির কাদা
আজ লাটাই হাতে ধরে নির্ঘুম অপেক্ষা, মেঘ অন্ধকার
এখন মিউজিক প্লেয়ারে তোমার নামে সেট করা রিংটোনটা
এমনিই বাজে, মিথ্যের সিনেমাতে নিজের চরিত্র অভিনয়ে

বৃষ্টি বড় অপেক্ষা করায়, ভিজতে চাই আমি প্রতিটি ফোঁটায়
প্রকৃতির কান্না অথবা আমাদের বিষের ছোবলের অ্যাসিডে
মর্গ কিম্বা তোমার পাশে, হিমশীতল বা উষ্ণ সুসুপ্তি চাই শুধু

বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক

পেটে ক্ষিদে নেই, পরণে আছে পোশাক
মাথার ওপর ডাবল লেয়ার ছাদও আছে
যেটা নেই সেটা— নিজে কিছু করে দেখাতে পারার তৃপ্তি

যুদ্ধ টার শেষ নেই, শুধু ইজরায়েল বা গাজা নয়
যুদ্ধটা চলছে প্রতিটা বেখেয়ালে পার করা মূহুর্তে

যুদ্ধটা চলবেও কারণ শান্তির কপোতের মুখের পাতাটা
খসে পড়েছে — গুহা ছেড়ে চাকা বেয়ে নগরের পথে

যুদ্ধ মানে জেতা নয়, যুদ্ধ মানে সন্ধি বা হারাও নয়
যুদ্ধের কুশিলবরা যুদ্ধটার মত অবিনশ্বর হয় না

দিনের শেষের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে খুচরো জেতা হারা
যুদ্ধটা চলতেই থাকবে তাই সন্তুষ্টিরা এখানে জমি পায় না

যুদ্ধে এগোনো আসল, আর তার থেকেও সত্যি, এগোতে হবেই
কুরুক্ষেত্রে জন্মানো শিশুরা রক্তস্নাত মায়ের স্তন্য পান করে

নিরস্ত্র শত্রুকে এক কোপে যুদ্ধটা জেতা না জেতার চয়েস
দিনের শেষে সব হিসেব বরাবর , যুদ্ধে আসল জেতা — বিচারে

যুদ্ধটা শুরু করলাম, নিশ্চয়তা থেকে অনিশ্চয়তার দিকে, জমানো রত্নপুরীর সিন্ধুক গুঁড়ো করে বানালাম মাটি, নিজের শিরদাঁড়া উপড়ে বানানো লাঙ্গলে শুরু করছি নতুন সবুজের স্বপ্ন … সহযোদ্ধারা পাশে থেকো ।

বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক !!!

অ্যান্থেম …

ভরত বাবু তাঁর সন্তানের নাম আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলেন । এমনকি পাতার পর পাতা তার সম্বন্ধে নানা কাল্পনিক কবিতাও লিখে রেখেছিলেন । তার সঙ্গে কি করবেন, কোথায় যাবেন, তাকে কি কি শেখাবেন … আসলে চিন্তাশীল মানুষ তো । আর ডাইরির প্রথম পেজে বড় বড় করে লিখে রেখেছিলেন অনাগত অতিথির নাম ।

আশা দেবীর প্রসব বেদনা উঠেছে মনে হওয়ায় আর দেরী করেননি ভরত বাবু । অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষাও না । সোজা একটা ট্যাক্সি ডেকে বেরিয়ে গিয়েছেন তাঁকে নিয়ে । কাছের রেপুটেড একটা নার্সিংহোমের উদ্দেশ্যে ।

সব ব্যবস্থা পাকা করে দিয়ে ডাক্তারদের অনুমতি নিয়ে ভরত বাবু বাড়ী ফিরলেন অনেক রাত্রে । আজকে হওয়ার কোনো চান্স নেই । যা হবার হবে কাল ।

ঘরটা একটু নিজের মত করে সাজালেন, নতুন অতিথির জন্য । বেশ তাড়াতাড়িই হয়ে গেল । আসলে কয়েক দশকের অভ্যাস তো । উদযাপন না অভিনয় বোঝেন না ভরত বাবু তবু ঘড়ির কাঁটার মত অভ্যস্ত ট্র্যাকে পুতুলের মত নিষ্পন্দ হয়ে দেখেন পুনরাবর্তিত ঘটনা আর ট্রের উপর মৃতসন্তান ।

সব সত্যির অন্ধকার মিথ্যের তাপবীক্ষণ চশমায় দেখেও প্রতিবার ঘর সাজান, জিনিস পত্র এদিক ওদিক করেন নিবিষ্ট চিত্তে আর তারপর সময়ের ভারে স্পর্শকাতর ডাইরিটার পাতা ওল্টান যেটার প্রথম পাতায় তাঁর অনাগত সন্তানের নাম লিখেছিলেন নিজের হাতে ।

কবিতা গুলো পড়তে পড়তে কখন যেন তাঁর স্ত্রীর স্বপ্নগুলোয় বিভোর হয়ে যান বাস্তবকে মিথ্যুকের জোব্বা পড়িয়ে । ডাইরির প্রথম পাতাটা বার বার হাত বুলিয়ে দেখেন পরম মমতায় । যে পাতাটা হয়ত একদিন ইতিহাসের দলিল হয়ে উঠবে, যে পাতাটায় গোটা গোটা হাতে “গণতন্ত্র” লেখা আছে ।

শয়তানের রুটিন

বাড়ির নম্বর ৬৬৬ । কলকাতার অভিজাত পার্ক্সট্রীট এলাকায় চারিদিকের কনভেন্ট আর গীর্জা পরিবৃত হয়েই আপাতঃ বৈশীষ্ট্যহীন ৫ তলা ইমারতটার গর্বিত অবস্থান । কুচকুচে কালো রঙ বাড়িটাকে অন্যান্য বাড়ির থেকে কিছুটা আলাদা করেছে যদিও। বাড়ির গেটে থাকা যমদূতের মত দারোয়ানদুটো যদিও বলে যে বার বার রঙ করার খরচ বাঁচাতে কাল রঙ করা হয়েছে তবুও এদিক ওদিক কান পাতলেই শোনা যায় হাড়হীম করা কিছু কাহিনী, কিছু নিষিদ্ধ সাধনার কথা ।

বাড়ির মালিককে কেউ দেখেনি কখনও । কানাঘুষোয় শোনা যায় বাড়িতে এক রাজা থাকে আর থাকে তার রাণী ।  এই জেট প্লেনের যুগেও মানুষ তাসের রাজারাণী ছাড়াও অন্য কোনো রাজারাণীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করছে ভাবতে কষ্ট হলেও ব্যাপারটা বিশ্বাস করা স্বাভাবিক কারণ তারা বিশ্বাস করে এই বাড়ির মালিক – মালকীন শয়তানের পূজারী, অলৌকিক শক্তিধর । আর এই বিশ্বাসে জোড়দার স্ট্যাম্প মেরেছে সকাল বিকেল রাত্রি সব সময় ঢোকা বেরনো করা গাদা গাদা কালো রঙের গাড়ি । গায়ে লেখা “SATAN” ।

তা শহরের মাঝে এরকম একটা অধার্মিক ব্যাপার বেশীদিন চলতে দেওয়া তো আমাদের প্রতিক্রিয়াশীল শহরের ধাতে নেই তাই গেরুয়া, সাদা সবুজ সব শিবিরই একবার করে এসেছে, লোকজন জমিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু লাভ কিছু হয়নি । কারণ লোকজন ভয়েই আধমরা হয়ে ছিল । বোধ হয় গড আল্লা বা ভগবানের ভরসার থেকে শয়তানের উপর তাদের ভয় বেশী বলেই । কিম্বা হয়ত ভগবান এই সব বিভিন্ন রঙ্গের শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়ে তার প্রভাবও কমে এসেছে সব ধর্মেই কমন শয়তানের তুলনায় ।

গুটিকয় মামলাও হয়েছে । ৬৬৬ নম্বর বাড়ির মালিক নিজে না গেলেও তার উকিলেরা গিয়ে মামলা জিতে এসেছে । আসলে ভগবানের দালালরা ঠিক প্রমাণ করতে পারেনি যে ঐ বাড়ির কার্যকলাপ কার কোন পাকা ধানে মই দিচ্ছে । তাই লোকে হাল ছেড়ে দিয়েছে ঐ বাড়িটার ওপর । ঐ বাড়ির লোকেদের গতিবিধির ওপর । নতুন পার্থ দে , দেবযানীর মত মুখরোচক বা গায়ের লোমে আল্লাহো লেখা ভেড়া কিম্বা গণেশের মত শুঁড় নিয়ে জন্মানো বাচ্চা ইত্যাদি ভগবানের মহিমার খবরে প্রতিদিন চায়ের কাপে ঝড় উঠছে দোকানে বাজারে বাসে ট্রেণে …

* * *

অনেকগুলো বছর হয়ে গেল শতরূপা আর সায়নাংশুর বিয়ে হয়েছে । এখনও দুজন দুজনকে জমিয়ে আদর করার অভ্যাসটা ফিকে হয়নি যদিও, দিনকে দিন আরও বেড়েই চলেছে । ছোট্ট একটা চাকরি থেকে দুজনের চেষ্টায় আজ প্রায় ১৭ টা কোম্পানির মালিক তারা । কোম্পানি থেকে কালেক্টেড রেভিনিউ এর ৯০ শতাংশ দিয়েই তারা তাদের সারাজীবনের স্বপ্ন গুলোকে বাস্তবায়িত করে ।

শুরুটা হয়েছিল সেই বিয়ের কদিন পরপরই যখন ওরা সমস্যাটার কথা জেনেছিল । ওদের দুজনের জীবন যাত্রার মধ্যে শুধু মাত্র নিরোধ কেনা বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছু পরিবর্তন হয়নি । অবশ্য ওদের কিছু না এলেও সমাজের অনেক কিছু এসে গিয়েছিল, বাঁজা বা আঁটকুড়ো দম্পতীকে পাড়ায় রাখলে ভগবান অসন্তুষ্ট হয়ে অন্যদের অমঙ্গল করবেন সেই অজুহাতে পাড়া ছাড়া হয়েছিল নিতান্তই অল্প সম্বলের দুটো বাচ্চা বর বউ ।

তার পর অমানুষিক পরিশ্রম, ভালবাসা আর উন্নতির গল্প, অবশ্য সবটাই লোকের চোখ বাঁচিয়ে । কারণ পয়া বা অপয়া কোনো মানুষেরই উন্নতি সবাই হঠাত করে মেনে নিতে পারেনা, অন্য সমীকরণ খোঁজে । স্বচ্ছলতার পরও যখন কটা পথশিশুকে নিয়ে তাদের ওপর অবরুদ্ধ মমত্ব তার অনেক বছরের একটু একটু করে মজে যাওয়া খাত বেয়ে সরল ধারায় বওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে তখনই একটু একটু করে ভিজতে থাকা বালিয়ারীতে বাঁধ হয়ে দেখা দিল ভগবানের দালালরা, নিজেদের মনুষ্যত্বের গাফিলতিকে ঢাকতে অন্যের সহমর্মীতার প্রকাশ ভন্ডুল করার চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী ।

তারপর অনেক বছর পর জন্ম হল SATAN এর । বস্তি বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বাচ্চাদের কয়েকটা মোবাইল স্কুল চালায় ওরা । কালো গাড়ি গুলোতে অত্যাধুনিক ক্লাসরুমের আইডিয়াটা শতরূপারই । আর তাদের বাড়ির নীচের নিজস্ব বেকারীতে বানানো কেক, বিস্কুট ফল টিফিন দেয় ওদের । সবই চলে চুপচাপ । মিডিয়ার ঝলকানী নেই, ফুটেজ খাওয়ার গল্প নেই তাই রঙিন বাবুরাও মাথা ঘামানো ছেড়ে দিয়েছে । যতই হোক তাদের প্রচারে বা ভোট ব্যাঙ্কে তো আর টান পড়ছে না ।

একটা কথা কিন্তু কেউ জানেনা । ঐ “এস” “এ” আর “টি” এর মাঝে একটা কালো রঙের “এন” আছে, গাড়ির মিশকালো রঙের মধ্যে যেটাকে আলাদা করে চেনা যায় না ।

আসলে ভগবানের মুখোশের আড়ালে আজ দানবেরা মৌরসীপাট্টা গেড়েছে তাই শতরূপা আর সায়নাংশুর মত অনেকেই শয়তানকে জেহাদের প্রতীক করে নিচ্ছে, মানুষ আর তার সন্তানের নিরপেক্ষ ভবিষ্যতের চিন্তায় ।

লেয়ার

অনেক দিন হল বাসগুলো নতুন ইউনিফর্ম পেয়েছে, আকাশী কালারের মাঝে হলুদ বেল্ট । কিন্তু বালি হল্ট থেকে উল্টোডাঙ্গা যাওয়া এই বাসটা হয়ত বা দারিদ্রে কিম্বা অভ্যাসে শুধু মুখে ছাড়া সারা শরীরের অন্য কোথাও রঙ মাখেনি । লরঝরে বাসটায় লোকও বেশী নেই, ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিক ওদিক বসে ।

কন্ডাক্টর মন দিয়ে নোট গুলো গুণে গুণে সাজাচ্ছে ।

দরজার ঠিক পেছনের সিটে বসা দুই মহিলা ইটিভি বাংলায় চলা সিরিয়ালটায় শাশুড়িটা কি শয়তান সেই আলোচনায় মশগুল ।

বাসের ঠিক সামনের দিকের সিটে বসা লাল টুকটুকে ফ্রক পরা বাচ্চা মেয়েটার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ মানুষটি । বার বার প্রাণ ভরে দেখেও যেন প্রাণ ভরছে না । আহা ঠিক যেন রুণু । অমনই তো ছিল মেয়েটা । অমনি ছটফটে, হাসি খুশী । সে কত দিন আগের কথা ।

গল্পরত দুই মহিলার ঠিক পিছনের সিটেই বসে আছে ফরসা, পাতলা চেহারার এক তরুণী । হাতে ঢাউস মোবাইল আর কানে হেডফোন । একটা কালো টি শার্ট আর অগোছালো ভাবে পরা একটা স্কার্ট । হাঁটুর কিছুটা ওপরে একটা লালচে জড়ুল । সম্ভবতঃ সেক্টর ফাইভের অগুন্তি কল সেন্টারের কোনো একটায় কাজ করে ।

বার বার ফিরিয়ে নিলেও বিমল রায়ের চোখ বার বারই চলে যাচ্ছে সুন্দরী  মেয়েটার দিকে । আড়চোখে বার বার মেয়েটার আকর্ষণীয় মুখ কিম্বা পায়ের জড়ুল । এইভাবে কারুর দিকে তাকানোটা ঠিক নয় জেনেও মনকে সংযত করা যাচ্ছেনা কিছুতেই, গোল্ডেন ফ্রেমের চেঞ্জার গ্লাসের আড়ালে ওর কতটাই বা লুকোনো যায় চোখের গতিবিধি … কি মুশকিল … !!!

হাডকো হাডকো হাডকো … উল্টোডাঙ্গা এসে গেছে, এবার নামতে হবে ।

সোনালী ফ্রেমের চশমাটা ঠিক করে নিয়ে সিনিয়ার সিটিজেন সিট থেকে উঠে দাঁড়ালেন মিষ্টার বি রয় ।
২২ বছরের বিমলের সিঁড়ির অন্ধকারে চেপে ধরে গিলে খাওয়া পাশের বাড়ির রুণুর শৈশব, কিম্বা বছর ৪৫ এর সংসারী রয়বাবুর কিশোরী মেয়েটার ট্রেণে কাটা পড়া ক্ষতবিক্ষত দেহের হাঁটুর ওপরে থাকা জড়ুল দেখে শনাক্ত করার দিনগুলো … আবার স্যান্ডুইচ হয়ে যায় বিস্মৃতি মাখানো ব্যস্ততার ব্রেডে ।

তাড়াতাড়ি না নামলে ৭টার গোবরডাঙ্গা লোকালটায় আর ওঠা যাবেনা …

খেকো ও জাজমেন্ট

– দূর বাঁড়া একটা শোঁশাও ঠিক ঠাক কিনতে পারিস না ।

– কেন কি হয়েছে ?

– এই দেখ ল্যাওড়া, এদিকটা খেকো হয়ে রয়েছে, শালা কিসে ঠুকরেছে কে জানে ।

– কই ? ও তো একটু দাগ হয়ে গেছে ।

– আরে বাঁ… যেটা বুঝিস না সেটা নিয়ে কথা বলিস না। এটা কিসে ঠুকরেছে কে জানে, ফুটোটা দেখা যাচ্ছেনা, কিন্তু পাশে পচাটা ছড়িয়ে গেছে । আগে এসব খেয়ে টেয়ে নিতাম, এখন বুঝেছি স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর খুব । দূর খাব না বাল এটা …

১০টা ৪৫ এর ট্রেণে ফিরতে ফিরতে কমলের হাত থেকে হুইস্কি মেশানো কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলটা নিয়ে চাট ছাড়া মাল খাওয়ার বিকৃতি মুখে কয়েক ঢোক লাগাল সুজিত ।

– হ্যাঁ রে খবর ঠিক তো ?

– কোন খবর ?

– ঐ যে বললি মণিকা না কি যেন নাম ।

– দেখ সুজিত দা, এর আগে তোমায় যতবার খবর দিয়েছি কোন বার ভুল খবর হয়েছে ?

– না তবুও এটা একদম অচেনা জায়গা না ।

– আরে তুমি জান না, চিঙ্গড়িঘাটায় এরকম কেস প্রচুর । আরে এরকম অনেক আছে, কারুর বর বাইরে থাকে , কারুর বরের সুগার । আরে আমি নিজে খেয়েছি বলেই না বলছি ।

– দেয় বলছিস তাহলে ? আচ্ছা নাম্বার টা দে, কালই ট্রাই নেব ।

– এই নাও, কিন্তু শোনো রবিবার ফোন কোরো না । বর ধরবে …

********** দিন কয়েক পরের এক রাত্রিতে সুজিতের টালি ছাওয়া দু কামরার বাড়িটা থেকে মত্ত গলায় ভেসে আসা “খানকি মাগি, আজ কাল খুব পিরিত হয়েছে না পলাশের সঙ্গে ? ভাই মারানো হচ্ছে ??? শালা নষ্ট মেয়ে মানুষ কোথাকার …” জাতীয় চিৎকার আশেপাশের লোকেদের কানে পৌঁছালেও কেউ বিশেষ আমল দেয়নি হয়ত প্রাত্যহিক অভ্যেসে কিম্বা চিরকালের মতই সুজিতের  নীরিহ শান্ত বউটা সব মানিয়ে নেবে এই বিশ্বাসে ।

তবে ছ্যাতলা পড়া টালি ছাওয়া প্রাণ ও প্রাণী হীন  ঘরটার পচা গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে যেদিন মাছির মত ভীড় করে এল আশে পাশের লোকজন । সেদিন তারা দেখেছিল অর্ধউলঙ্গ সুজিতের দেহটার গলায় গাঁথা ছুরিটা ছাড়াও দেহের পচনে সাহায্য করছে ছড়িয়ে পড়া গনোরিয়ার সংক্রমণ ।

আবর্জনার গাড়িতে ডাস্টবিন খালি করার মত করে মর্গগামী ভুটভুটিটায় যখন দেহটা টান মেরে ছুঁড়ে ফেলল পুলিশের মাইনে করা খ্যা খ্যা করে হাসতে থাকা, বিড়ি ফোঁকা ডোমের দল …… কেউ হয়ত দেখতে পায়নি খেকো জায়গার চিহ্নটা … কেউ কেউ যদিও বুঝেছিল খেকো ছুঁড়ে ফেলতে শেখাটা জরুরী … খুব শীগগির …

ম্যানিকুইন

অনেক্ষণ থেকেই ভেসে আসছে আওয়াজটা । অনেক লোকের হইহট্টগোল কান্নাকাটির আওয়াজ । একটু যে বেলা পর্যন্ত শান্তি করে যে ঘুমোবে তারও উপায় নেই, কি জ্বালা ! একটা মাত্র ছুটির দিন সপ্তাহে, আর বাকি ছটা দিন তো নরক। স্কুল কলেজের বন্ধুগুলো পর্যন্ত কেমন অচেনা হয়ে গেল অফিস নামক এই কর্পোরেট কনভার্টারটার চক্করে । কে কিভাবে কাকে কাঠি করে একটু ওপরের লোকের কাছে ডাউন দেবে সেই চিন্তায় মনান্তরালে মশগুল সব ছোটো খাটো কফি আর সিগারেট ব্রেক গুলো । আর বাকি সময় তো একটা রেকর্ড সর্বস্ব ঠুঁঠো মেশিন । যার সঙ্গে গল্প করার মত নির্বোধ চিন্তার ফ্যান্টাসি করতেও মন নিরুত্তাপ বোধ করে । কখনও কখনো নিজেকেও দেখা যায়না। এল ই ডি হাইটেক লাইটের আলোতেও কিছুটা গান্ধার শিল্পের মত নিষ্প্রাণতা প্রতিফলন করে নিরুপায় পারদ লুকোনো কাঁচ ।

এই তো সেদিন, বিমলদার শ্রাদ্ধ খেয়ে ফেরার পথে রাত্রে উশ্রীর বাড়িতে সে, সমীরণ আর দীপ নাইট স্টে করল যে শনিবারে । রাত্রের মায়াভরা ছাদে চারজনের উদ্দাম হ্যাল হওয়া আর শরীরকে স্বাধীন হতে দেওয়ার তাল কাটল যখন হঠাত করে আসা উশ্রীর ব্যাঙ্গালোর প্রবাসী বরের ফোন কল । টয়লেট করতে নীচের বাথরুমে এসে চোখে মুখে ছেটান জলের জন্যই কি আয়নায় শুধু একটা ম্যানিকুইন ছাড়া আর কিছু দেখতে পাচ্ছিল না সুনন্দ ? কে জানে । তবে হ্যাঁ, ফোন কলটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিমলদার সুইসাইডের আনন্দে চলা পার্টিটা রিডিমড হতেই এসব আর মনে থাকেনি সুনন্দর । ওরা সবাই এনজয় করলেও আসল বাহবাটা কিন্তু বিমলদার স্কুল ফ্রেন্ড সমীরণেরই প্রাপ্য । ওই তো দায়িত্ব নিয়ে একটু একটু করে বিমলদাকে প্রোভোক করে করে আল্টিমেটলি ওদের প্রায়োরিটির পথের কাঁটাটা সরাতে পেরেছিল ।

আবার হট্টগোলটা বেড়ে গেল । আরে ভাই কি জ্বালাটা কি ? লাইফে এত অশান্তি কেন ? কি চায় এরা ? সুনন্দর বেডরুমের জানালাটা দিয়ে রাস্তা অব্দি দৃষ্টি যাচ্ছে । একটা পুলিশের গাড়ি ঢুকছে পাড়ায় । কিছু বাওয়াল টাওয়াল হল নাকি ? দেখবে একবার বেরিয়ে ? নাঃ থাক । অসম্ভব ল্যাদ লাগছে । গোটা শরীর অবশ হয়ে রয়েছে । শালা গোটা সপ্তাহের গাধার খাটুনি । আরেকটু বেশী না ঘুমোলে যায় ? সে তো শালা উপায় নেই সক্কাল সক্কাল ক্যাওড়া ক্যাচাল … আরও একবার পাড়ার লোকেদের ওপর মাথাটা গরম হয়ে গেল সুনন্দর ।

শালা লাইফটা পুরো পচে গেছে । কোত্থাও শান্তি নেই । সব কেমন যেন এনামেল কোটেড লাগে আজকাল । সবাই যেন জোড় করে তাকে তার প্রতিচ্ছবিটা দেখাতে চাইছে কিন্তু পারছে না । সারাদিন অস্বাভাবিক কোনো চর্মরোগের মত গহীন একটা অস্বস্তি । লজ্জাস্কর কিন্তু অদম্য, বার বার অস্বীকার করতে চাওয়া কিছু অতীত যেন তুলে এনে ফিতে দিয়ে মাপে বাস্তবের পাশে দাঁড় করিয়ে ।

সাইরেনের আওয়াজে ক্রিমির ওষুধের মত তেঁতো বিরক্তিটা চমকে উঠল ক্ষণিক, জানলা দিয়ে বাইরে চোখ গেল সুনন্দর । রাস্তা দিয়ে ঢুকছে একটা কাঁচ ঢাকা গাড়ি, ফাঁকা, পিছনে লেখা “শেষের খেয়া” । কাছে পিঠে কেউ টেঁসেছে নাকি এই সাত সকালে !

এই “শেষের খেয়া” নামটা কি অদ্ভুত । শুনলেই মনে হয় ম্যান্ডিটরি একটা স্বয়ংক্রিয় দরজা, যেটাকে বাইপাস করা যায় না । অনেকটা প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়ার মত । ঠিক এরকমই, জানে সবাই তবু প্রাত্যহিক ভুলে থাকায় অভ্যস্ত হয়ে যায় কখন নিজের অজান্তেই ।

একদিন সব শেষ হয়ে যেতে পারে জেনেও মধুরার প্রেমে পড়েছিল সে কয়েকমাস আগে । পাশাপাশি ডেস্কে কাজ, ঘটনাটা ঘটা অস্বাভাবিক ছিলনা একেবারেই । কত অনুভূতির স্রোতে পারস্পরিক অবগাহন হঠাত অচেনা কোন পিগমেন্টের বিষে আবিল হয়ে গেল দিন-চারেক আগে । সেই মধুরা, কিভাবে পারল এটা করতে … কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছেনা সুনন্দ । তিনটে, না না, চার চারটে দিন কেটে গেছে । কিভাবে কেটেছে কিছু মনেই পড়ছেনা । আচ্ছা কেন এমন করল মধুরা … অকারণে এমন নৃশংস অপমান করেই বা কি পেল ও ? আরে … !!!

জানালা দিয়ে হঠাতই একটূ দূরের কফিশপটায় মধুরাকে দেখে চমকে উঠল সুনন্দ । কি করছে ওরা এখানে এত সকালে !!! আর সঙ্গে ওটা দীপ আর শিবু না ? এই শিবু ই না তার কলেজের জিগরী দোস্ত । মধুরার সঙ্গে তার ব্রেকাপ হয়ে গেছে জেনেও ঐ শয়তান মেয়েটার সাথে দাঁড়িয়ে একসাথে হাসাহাসি করছে ফুরফুরে মেজাজে আর সিগারেট ফুঁকছে !!! শালা দুনিয়াটা বেইমানে ভরে গেছে … নাঃ কিচ্ছু ভাল লাগছে না ।

“জীবনে ঘেন্না ধরে গেল শালা” অভ্যাস হয়ে যাওয়া কথাটা আরেকবার বলে উঠল সুনন্দ, কিছুটা স্বগতোক্তির সুরেই । কিছু চিনেও না চিনতে চাওয়া বিশ্বাস ভাঙ্গার শব্দ কান বেয়ে সংক্রমণের গতীতে সত্তায় ছড়ানোর আগেই জানালা থেকে চোখ সরিয়ে নিল ।এখন তার ঘুম দরকার, সব কিছু ভুলে যাওয়ার মত একটা ঘুম । কটা স্টিক্কা ট্যাবলেট খাবে ? তারপর একটা টেনে ঘুম … নাহ যদ্দুর মনে হচ্ছে ওগুলো কবে যেন শেষ হয়ে গেছে। ধুসস শালা । তবুও ভুলতে হবে, সব ভুলতে হবে …… আচ্ছা কটা বাজছে এখন ? আবার উঠতে হবে দেখার জন্য … থাক । আর সময় যাই হোক না কেন, আজ কি এসে যায় ? আজ তো সুনন্দর ছুটি …

সময়ের নিয়ন্ত্রণ তো কোনো দিনই কারুর হাতে থাকেনা আর জীবনের নিয়ন্ত্রণ সে একটু একটু করে হাত থেকে ছেড়ে দিয়েছে ঐচ্ছিক নির্লিপ্তিতে । কিন্তু শরীরের নিয়ন্ত্রণটা যে দরকার খুব, কটা বাজে জানার জন্য । সত্যি তো কটা বাজে ??? একটা সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে সুনন্দর ।

একটা সিগারেট খেতে খুব খুব ইচ্ছে করছে …… কিন্তু …… দরজাটা খুলে তার দিকে যে এগিয়ে আসছে স্ট্রেচার ধরা দুটো লোক, কিছু খাঁকি উর্দী আর কটা চেনা আদলের ম্যানিকুইন, …… যাদের শরীর তার মত হিমশীতল হয়ে যায়নি হয়ত  ……

স্বর

– ওই কথা বলছনা কেন গো ?

– হুহহহহহ

– কি হল ?

– যাও আমাকে তো তোমার ভালই লাগেনা, সারাদিন খালি ব্যস্ত, একটা রিপ্লাই দেওয়ার ও সময় নেই ।

– ওলে বাবালে আমার পাগলাটার রাগ হয়েছে …

– না আমার রাগ টাগ হয় নি ।

– সত্যি রাগ হয়নি ?

– না রাগ হবে কিসের জন্য ?

– তাই ?

– না আমার রাগ হওয়ার কি আছে ? এক্সপেক্ট করার কোনো অধিকার আছে নাকি আমার ?

– সরি, আমি জানি আমি খুব বাজে গো । খুব খারাপ । সরি সরি । ঠিক আছে আমি আর তোমাকে বিরক্ত করব না ।

– আমি কোথায় বল্লুম যে তুমি আমায় বিরক্ত করছ ? আমি কি বলেছি তোমায় কথা না বলতে ?

– না আমি খুব বাজে । তোমার সঙ্গে কথা বলিনা, সারা দিন ঘুরে টুরে বেড়াই, তোমার খোঁজ নিই না ।

– আচ্ছা আচ্ছা বাবা সরি । আজ কী কী করলে বল ?

– আর বল না, এক গাদা কাজ , তোমার তো ওসব ঝামেলা নেই, বাড়ি বসে কম্পিউটারে কোডিং । আমার মত সাইটে সাইটে ঘুরে কাজ করলে বুঝতে কি ঝামেলা । যাক ওসব ছাড়ো, একটু ভালবাসার কথা বল না …

– আচ্ছা এই কালকে আমরা কী নিয়ে কথা বলেছিলাম বল তো, ঠিক মনে পড়ছে না ?

– অদ্ভুত ছেলে একটা, আমাদের কথাবার্তা ডাইরীতে লিখে রাখবে নাকি ? পাস্ট ফিউচার ছাড় না । আজকে প্রেম করছি, এটা ভাব বুঝলে …

– এই একটা ফোন করব ? তোমার গলার আওয়াজ তো কোনো দিন শুনিনি । খুব শুনতে ইচ্ছে করছে । আমাদের দেখা করার ডেটের তো এখনও দশ দিন বাকী … প্লীজ প্লীজ একটা ফোন করি ?

– এখন পাশে মা আছে , কথা বলা যাবেনা … একটু ধৈর্য ধর সোনা, মাত্র তো কটা দিন, বলেছি তো ১৬ তারিখে তোমার বাড়িতে যাব, তোমার বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলব ।

– খুব শুনতে ইচ্ছে করছে গো তোমার কথা প্লীজ একবার ১ মিনিটের জন্য একটু ফোন করি ?

– করতে পার, কিন্তু আমি কিছু বলব না কিন্তু শুধু শুনে যাব তোমার কথা ।

– নাহ তাহলে থাক, একেবারে যেদিন দেখা হবে সেদিনই কথা হবে …

– খেয়েছ তুমি ? আজ কি রান্না হয়েছিল ?

– খেয়েছি ? হ্যাঁ খেয়েছি মনে হয়, ঠিক মনে পড়ছে না । হ্যাঁ খেয়েছি । নইলে ক্ষিধে থাকত । এই কম্পিউটারের সামনে বসে প্রোগ্রাম লিখতে লিখতে আমার মাথাটা না একদম গেছে, কিছু মনে থাকে না ।

– এই একটু সময় দেবে আমায় ? একটু জাস্ট ঘন্টা খানেক ? একটু বন্ধুদের সঙ্গে বেরোতে হবে একটু শপিং করতে ।

– হ্যাঁ হ্যাঁ শিওর । যাও, অপেক্ষায় থাকব ।

* * *

– ওওই !!!!! আমি এসে গেছি

– শপিং হল ?

– হ্যাঁ , একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া ও হল …

– জানতো ? আমি না একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি । দেখলাম কি যে ফিউচারে চলে গেছি, সেখানে গোটা পৃথিবী কেমন যেন মেশিনাইজড হয়ে গেছে । মানুষ নেই একদম । শুধু রোবট আর রোবট । কম্পিউটারের প্রোগ্রাম নিজে থেকেই নিজেকে আপগ্রেড করেছে । কিন্তু ব্যাটারা কেস খেয়ে গেছে একটা জায়গাতেই । নতুন কোনো শিল্প তৈরী করতে পারছেনা । কি করে পারবে, মানুষের ব্রেণ ছাড়া ঐ জিনিস হয় নাকি ? আর ওরা আরটিফিশিয়াল ব্রেণ তৈরি করেও কোন লাভ করতে পারছে না । কারণ যন্ত্রমানবের তো আর যন্ত্রণার অনুভুতি নেই । যন্ত্রণা যেটা সব অনুভূতির বেসিক । সেটাই নেই তাই ভালবাসার অনুভুতি ও নেই , খুশী ও নেই , শীল্প আসবে কোত্থেকে । তাই ব্যাটারা খুব চিন্তায় । হে হে কি অদ্ভুত স্বপ্ন বল ।

– এই জান তো আমার না খুব ভয় করছে ।

– কেন ?

– এই যে তুমি সারাদিন কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাক আর কিসব আজগুবি স্বপ্ন দেখছ ।

– আরে ধুর ছাড়, কি সব ভুল ভাল স্বপ্ন … তাহলে খুব শপিং করলে আজকে ?

– হ্যাঁ । জান আজ না আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড কে দেখলাম শপিং করতে গিয়ে । কি হ্যান্ডসাম দেখতে লাগছে । একটা লাল টিশার্ট পড়ে এসেছিল । ঐ লাল টিশার্ট টা আমার খুব চেনা জান । ওটার ওপর মাথা দিয়ে …

********

মেয়েটির প্রাক্তন প্রেমিকের একের পর এক বর্ণনা আসতেই থাকে এর পর … ছেলেটি এক বুক সহানুভুতি, প্রশ্রয়ের সাথে অনেক অনেকটা দুঃখ আর যন্ত্রণা নিয়ে মেসেজ গুলো পড়ে যেতে থাকে । আর …

“বন্ধুদের কাছে যাওয়ার সময় তো আর মা পাশে ছিল না, তবুও একটা বার ফোন করতে বলল না ও” … অভিমানে গুমরোনো ছেলেটা কোনো দিনও বুঝতেই পারবেনা … তার স্বরূপ ।

একটা লাইফ সাপোর্টেড বেলজারে বন্দী একটা বিশ বছরের ছেলের মাথা ফাটিয়ে বের করে নেওয়া ব্রেণ । জীবন্ত, অনুভুতি প্রবণ । যাকে প্রতিদিন ইরেজ করা হয় আর স্টিমুলেট করা হয় অভিনেতা ইন্টিলিজেন্ট যন্ত্রমানবীর “লাভ হার্টস” প্রোগ্রামে । যন্রণা নিষ্কাশিত হয় আর জন্ম নেয় রোবোটিক আর্ট ফর্ম রা ।

কোন এক নীরার জন্য

বার বার মেঘ হয়ে মুখ ভার করিস রোদ ঢেকে,
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়তে কিসের দ্বিধা রে তোর ?
অস্ফুট গর্জনে বিদীর্ণ বুকের বিদ্যুৎ আড়াল করিস
একটা কালবৈশাখী হতে এত সময় নিস কেন ?

জানি কিছুটা তোর ভালবাসা আর কিছুটা অভ্যাসের
ফিউশন, কিছুটা রাত জেগে বলা কথা আর কিছুটা
ভীষণ চেনা ঘামের গন্ধ, কিছুটা তোর হঠাৎ চেতন
শরীরের প্রতিবর্ত পসেসিভ মন, কিছুটা স্মৃতির প্রেত ।

নীরা, তোর ভয়গুলোকে চিনি, জানি প্রতিটা কৃষ্ণচূড়া
বিছানো রাস্তায় তোকে তাড়া করে ক্রনিক আঘাতেরা,
তোর নিজের সঙ্গে দ্বন্দগুলোকে বুঝি, সূর্যের মন্থনের
স্বাদের নেশায় এখনও আচ্ছন্ন তোর সমস্ত শরীর, সত্ত্বা

আবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে, নদী হয়ে বয়ে সঙ্গম হয়ে সাগরে
মিশে যেতে, হারিয়ে যেতে বড্ড ভয় তোর; তোর যন্ত্রণা
আর অবচেতনের অধিকার হারানোর আক্রোশদের যত্নে
লালন করিস, একাকিত্বে ঝাঁঝালো মদের বিষাক্ত আস্বাদে

তবু বলি, আজ আর পালিয়ে যাস না দায়সারা অজুহাতে,
স্মৃতির চোখে চোখ রাখ আর, শুকনো ঝরা পাতা গুলো
প্রবল ঘূর্ণিতে উড়িয়ে একটা সাইক্লোন বা আকাশ ভাঙা
বৃষ্টি হয়ে অবিশ্রান্ত ঝরে পড় শুষে নেওয়া রুক্ষ মাটিতে …

কাঁচের দেয়াল

স্বপ্নরা কি কাল্পনিক না তোর মত আবছা একটা অবয়ব ?
যারা অতীতের কবরে শুকনো গোলাপের খোঁজে অবহেলায়
পেরিয়ে আসতে পারে সহস্র বছরের বুনো গুলমার্গ  …

স্বপ্নরা কি তোর মতই অশ্রুজমা স্ফটিক ছড়িয়ে রাখে তাদের
হারাবার পথে … লুঠ হয়ে যাওয়া অমূল্য রত্নের মত ;
স্বপ্নরা তোর মতই ঘিরে থাকা বিবেকের চোখের অলিক ভয়ে
নিজেকে অস্বীকার করে সেই প্রাগিতিহাসের ফসিল সাক্ষী হয়ে ?

আদমের হাত ছুঁয়ে  অনুভুতি লুকোয় নিষিদ্ধ ফলে …
সীমাবদ্ধতার পাহারায় … ভগবানের মূর্তির অবয়বে মাথা রাখতে চায়
একটা প্রশস্ত বুকের ফ্যান্টাসিতে … নিয়ম পালনের অছিলায়

সত্যি করে বল, স্বপ্নরা কি তোর মতই বার বার মেকাপ বদলে আসা
মঞ্চসফল আপনজন , যাদের আপন ভেবেও ছোঁয়া যায়না
স্ক্রিপ্ট রিমোটের প্রম্পট সতর্কতায়, যাদের জন্য জমানো চুমুর দাগ
রয়ে যায়, ফিকে হয় তোর আর আমার মাঝের অদেখা কাঁচের দেয়ালে